ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই থাকে ভাষা নিয়ে কথকতা। মাতৃভাষা ‘বাংলা’ নিয়ে আমাদের অহংকারের শেষ নেই! বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহিদদের আত্মবলিদান বাংলাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়! তারপর ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা আর ‘বাংলা’ হয়েছে আমাদের রাষ্ট্রভাষা! তবে আমরা হয়তো ভুলে গেছি যে, বাংলাদেশে বেশকিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের রয়েছে পৃথক পৃথক ভাষা। বাঙালি কিংবা বাংলাভাষী হিসেবে আমরা যখন ‘একুশ’ নিয়ে গর্বিত হই, তখন আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, এ দেশে অন্য ভাষাভাষীরাও রয়েছে! তাদের মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আমরা কতটুকু কী করেছি? মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ প্রতিটি শিশুর মৌলিক ও জন্মগত অধিকার। ২০১৭ সাল থেকে চাকমা, মারমা, গারো, সাদরি আর ত্রিপুরা ভাষায় বই দেওয়া হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ! কিন্তু অন্য যে নৃগোষ্ঠীগুলো রয়েছে তাদের জন্য নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যবই প্রস্তুত করা আজ সময়ের যৌক্তিক দাবি।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর রয়েছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য! তাদের গান, ছড়া-কবিতা, উপকথা, রূপকথা, মিথোলজি ইত্যাদি আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ! তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এ সম্পদ আজ লুপ্তপ্রায়। মনে প্রশ্ন জাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ইত্যাদি ভাষা শেখার কি আদৌ কোনো ব্যবস্থা রয়েছে? পৃথিবীর সব জাতির নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার রয়েছে। একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য রক্ষা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাদের ভাষাগুলোকে বাঁচাতে হবে।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]