ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের ব্যস্ততম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হলেও কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকাটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অত্যন্ত জনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থল। বিশেষ করে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত উচ্চবিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্যস্ততম সড়ক পারাপার হতে হয়। এখানে কোনো ফুটওভারব্রিজ না থাকায় দ্রুতগামী যানবাহনের সামনে পড়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইবনে তাইম রাস্তা পার হওয়ার সময় লরিচাপায় প্রাণ হারায়। এ মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রমাণ করেছে যে, এখানে একটি নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা কতটা জরুরি। শিক্ষার্থী ছাড়াও সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত এখানে আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করেন। তীব্র গতির কারণে অনেক সময় চালকরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষের অমূল্য প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। একটি উন্নয়নশীল দেশে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। কাঠেরপুলের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফুটওভারব্রিজ না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অকালমৃত্যু রোধে কাঠেরপুল এলাকায় দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অবহেলায় আর কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়ার আগেই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]