বাংলায় বৈশাখের আগমন মানেই কালবৈশাখীর রুদ্ররূপ দেখার প্রহর গুনতে থাকা। দমকা হাওয়া, কালো মেঘ আর হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টির আগমন যাকে আমরা বলি কালবৈশাখী। এই ঝড়ের তাণ্ডবে প্রতি বছরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রকৃতির এ আকস্মিক ভয়ংকর মূর্তিতে জানমাল হুমকির মুখে পড়ে। মানুষের ঘরবাড়ির ক্ষতি, সড়কে গাছ ভেঙে পড়ে চলাচল ব্যাহত বা প্রাণনাশের শঙ্কা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যায় যেখানে ঘরবাড়ি তুলনামূলক দুর্বল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ লাজুক। আবার কালবৈশাখীর প্রভাবে বজ্রপাতের কারণে প্রতি বছর অনেক মানুষ প্রাণ হারান। তাই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি ও যথাযথ সচেতনতা। কালবৈশাখীর এ সময়ে আবহাওয়ার সংবাদ প্রচারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ঝড়ের সম্ভাবনা দেখলে নিরাপদ স্থানে চলে আসা এবং সেই সঙ্গে গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া উচিত, এতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কালবৈশাখী মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সদা সজাগ থাকতে হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী অতি দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাই কালবৈশাখী মোকাবিলায় ভীত না হয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জনসচেতনা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। এ ব্যাপার সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা করার জন্য সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]