ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ বিশ্বকাপের শুরুতেই জয়ের হাসি বাংলাদেশের মেয়েদের নওগাঁয় মাকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ছেলে গ্রেপ্তার যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা বিশ্বজুড়ে সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল আরও প্রাসঙ্গিক: মোস্তফা কামাল কচুয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার ক্যানভাসে নৃবিজ্ঞান: দৃশ্যপটে বাস্তবতার সমকালীন রূপ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজন প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি এজিই তৈরি করবে জেফ বেজোসের এআই স্টার্টআপ গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন: ১০ ভেন্টিলেটরের ৯টিই নষ্ট! মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ভারতে যাওয়া সেই কিশোরীকে ফেরত রোমানিয়ার নেতৃত্বে নতুন মুখ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আদ্রিয়ান ভেস্তেয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বাতিঘর: কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সফল হয়েও অপরাধবোধে ভোগেন? জেনে নিন ১০টি লক্ষণ সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা, জয়পুরহাটে উত্তেজনা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গণমাধ্যমকে অন্ধকার থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহিদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন শাকিব, পূর্ণিমার ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ মানবতার এক ফোঁটা রক্ত জীবন বাঁচায় নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দেশব্যাপী ‘Go For Gold’ রাইডিং ক্যাম্প শুরু করল উত্তরা মোটর্স প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র
Nagad desktop

আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে রোজার ভূমিকা

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৩ পিএম
আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে রোজার ভূমিকা
প্রতীকী ছবি

তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের উত্তম মাস রমজানুল মুবারক। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষসাধনে এ মাসের ভূমিকা ব্যাপক। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ তার পাশবিকতাকে দমন করে আত্মার শক্তিকে বিকশিত করার অপার সুযোগ লাভ করে। রমজানে রোজাদারের মনুষ্যত্ব ও রুহানিয়াত সজীব ও সক্রিয় হয়। রিপুর তাড়নামুক্ত হয়ে মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও প্রজ্ঞার সদ্ব্যবহার করে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। 


আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা অর্জনের নিমিত্তে রোজার ভূমিকা অপরিহার্য। রোজার মাধ্যমে যত দ্রুত মানুষের আত্মিক পরিবর্তন ঘটে, অন্য কোনো উপায়ে তা এত দ্রুত ঘটে না। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)


রোজার অমূল্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, বনি আদমের প্রত্যেক আমলের (নির্ধারিত সওয়াব) রয়েছে, কেবল রোজা ছাড়া। এটা আমার জন্য; আর আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি, ৫৯২৭) ভাবা যায়? রোজা এতটাই উঁচুমার্গের আমল, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহতায়ালা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব তরুণ বিবাহের নির্দিষ্ট সময়কাল অতিবাহিত করেও বিয়ে করে না, অবৈধ সম্পর্কে তারাই বেশি লিপ্ত হয়। শয়তানি অপশক্তি তাদের প্ররোচনার জিঞ্জিরে আবদ্ধ করে ফেলে। এমতাবস্থায় আধ্যাত্মিক উৎকর্ষসাধনের টনিক হিসেবে কাজ করে সিয়াম সাধনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা এটা দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর সামর্থ্য যার নেই, সে যেন রোজা রাখে। নিশ্চয় তার জন্য সেটিই হবে ঢালস্বরূপ।’ (বুখারি, ৫০৬৫)


মাটির বৈশিষ্ট্য যখন মানুষের মধ্যে প্রবল হয়, তখন সে মনুষ্যত্বটুকুও হারিয়ে ফেলে। বরং চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে আত্মার শক্তি যখন তার মধ্যে প্রবল হয়, তখন সে মারেফতে এলাহি অর্জনে সক্ষম হয়। এমনকি উৎকর্ষের বিচারে ফেরেশতাকুলকেও ছাড়িয়ে যায়। রমজানের কর্মসূচি মানুষকে জাগতিকতা থেকে আধ্যাত্মিকতা এবং দেহশক্তি থেকে আত্মার উৎকর্ষ অর্জনে সাহায্য করে। ফলে রোজার মাধ্যমে মানুষ সৎকর্মের প্রতি ধাবিত হওয়ার প্রণোদনা লাভ করে। এর কারণ হলো রমজানে ইবাদতের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়। রমজানে শয়তানকে কুদরতিভাবে বন্দি করে রাখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি, ১৮৯৯)


সুফি-সাধকরা বলেন, চারটি পদ্ধতি অবলম্বন করে মানবমনকে পরিশোধিত করা যায় এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়। আর সেগুলো হলো―

এক. ঘুম কম যাওয়া।

দুই. কম আহার করা।

তিন. কথা কম বলা।

চার. মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কম করা। 

পবিত্র মাহে রমজানে এ চারটি প্রক্রিয়ারই উত্তম অনুশীলন করা সম্ভব হয়। যেমন দীর্ঘ রাত অবধি তারাবির নামাজ ও কিয়ামুল লাইলে থাকা হয়, আবার সাহরিতে ওঠার ফলে ঘুমের মাত্রা কম হয়। আবার রোজার কারণে সারা দিন পানাহার বর্জনের ফলে কম আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে কম কথা বলার লক্ষ্যে বিশেষভাবে রমজানে মিথ্যা, অনর্থক কথা ও গিবত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি থাকল মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কম করার ব্যাপারটি। আর এর জন্য ইতেকাফের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে বান্দা মানুষের সংস্রবমুক্ত হয়ে একাগ্রচিত্তে স্বীয় প্রভুর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে। এভাবেই রমজানজুড়ে মানবমনকে পরিশোধিত করার আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব। 

লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৫ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঘটনা যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা—ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে এই ঐশী বিধানকে অমান্য করে, তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। সুরা আল-কালামে বর্ণিত ‘বাগানওয়ালাদের’ ঐতিহাসিক ঘটনাটি তেমনই এক চিরন্তন শিক্ষার স্মারক।

ইয়েমেনের সানা নগরীর কাছে এক আল্লাহভীরু ব্যক্তির একটি বিশাল ফলের বাগান ছিল। তিনি নিয়মিত বাগানের আয়ের একটি বড় অংশ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেরা সেই বাগানের মালিক হয়। কিন্তু পিতার উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছেলেদের স্পর্শ করেনি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তারা চরম কৃপণ ও অদহংকারী হয়ে ওঠে।

একদিন ভাইয়েরা মিলে এক গোপন বৈঠক করল। লোভের বশবর্তী হয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিল—পিতার মতো তারা আর গরিবদের একটি কণাও দেবে না। এক ভাই বাধা দিতে চাইলেও বাকিরা তা শুনল না। তারা পরিকল্পনা করল, ভোরের আলো ফোটার আগেই বাগানের সব ফসল কেটে ঘরে তুলে ফেলবে, যাতে কোনো অভাবী মানুষ টের পেয়ে কিছু চেয়ে না বসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষরাতে তারা বাগানের দিকে রওনা হলো। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তারা স্তম্ভিত হয়ে গেল! তাদের অবাধ্যতা ও কৃপণতার শাস্তিস্বরূপ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে। পুরো বাগানটি আগুনে পুড়ে কালো ছাই হয়ে পড়ে আছে। যে সম্পদ নিয়ে তারা অহংকার করেছিল, নিমেষেই তা ধ্বংস হয়ে গেল।

সর্বস্ব হারিয়ে ভাইদের ভুল ভাঙল। তারা বুঝতে পারল, সম্পদ একা ভোগ করার জিনিস নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তারা নিজেদের অন্যায়ের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করল। আল্লাহ অত্যন্ত দয়াময়; তিনি তাদের ক্ষমা করলেন এবং পরবর্তী সময়ে বাগানটিকে আবার সুমিষ্ট ফলে ভরিয়ে দিলেন।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত পেয়ে যারা অহংকার করে এবং গরিবের হক নষ্ট করে, তাদের পতন অনিবার্য। অসহায়দের ভালোবাসা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে পাঁচ শ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, বরং তা বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত বরকত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক