পবিত্র কোরআনের ৫৫তম সুরা—সুরা আর-রহমান। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরার আয়াত সংখ্যা ৭৮। এ সুরায় ‘ফাবি আইয়ি আলা ই রাব্বি কুমাতু কাজজিবান’ (অতএব (হে জিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে?) কথাটি একত্রিশবার এসেছে। এ সুরায় প্রতিবারই আল্লাহ নতুন নতুন অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে মানুষ ও জিন উভয় জাতিকে প্রশ্ন করেছেন। তোমরা মহান রবের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?
নবি (সা.) এ সুরাটি জিন জাতির সামনে পাঠ করেছিলেন। তারা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেছে এবং আল্লাহর করা প্রশ্ন ‘তোমরা মহান রবের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ এর সুন্দর জবাবও দিয়েছে। জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে এলেন। তিনি তাদের সামনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুরা আর-রহমান পাঠ করলেন। তারা নিশ্চুপ রইলেন। তিনি বলেন, এ সুরাটি আমি জিনদের সঙ্গে সাক্ষাতের রাতে তাদের সামনে পাঠ করেছি। তোমাদের তুলনায় তারা ভালো উত্তর দিয়েছে। যখনই আমি তিলাওয়াত করেছি, তোমরা জিন ও মানুষ নিজেদের প্রভুর কোন নেয়ামতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে? তখনই তারা বলেছে, হে আমাদের রব, আমরা আপনার কোনো নেয়ামতই অস্বীকার করছি না, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩২৯১)
আরও পড়ুন: হাদিসের গুরুত্ব ও ফজিলত
সুরা রহমান নাজিলের কারণ
আল্লাহর নামগুলোর মধ্যে আরবের লোকেরা আল্লাহ শব্দটি বেশি ব্যবহার করত। কিন্তু রহমান নামের সঙ্গে ওদের পরিচয় ছিল কম। অপরদিকে নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার মুসায়লামা নিজ উপাধি ‘রহমানুল ইয়ামামা’ ধারণ করেছিল। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যখন এ আয়াত (তোমরা আল্লাহ বলে ডাক বা রহমান বলে ডাক, তাঁকে যে নামেই ডাকবে, সুন্দর নামসমূহ তো তাঁরই।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১১০) নাজিল হলো, তখন আবু জাহেল, ওয়ালিদ, ওতবা প্রমুখ মক্কার মুশরিকরা বলল, আমরা তো ইয়ামামার অধিবাসী ভণ্ড নবি মুসায়লামা কাজ্জাব ছাড়া রহমান নামে কাউকে চিনি না। হে মুহাম্মাদ, রহমান কে? এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল হয় সুরা রহমান।’ (তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.), খণ্ড: ৩.পৃষ্ঠা: ৪১৬)
সুরা রহমান পাঠের ফজিলত
সুরা রহমান পাঠের অনেক ফজিলত রয়েছে। মানসিক অস্থিরতা দূরীকরণ, রিজিক বৃদ্ধি, শারীরিক সুস্থতার জন্য এ সুরা বেশ কার্যকরী। আলি (রা.) সুরা রহমান সম্পর্কে বলেন, ‘আমি নবি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা রহমান। এ সুরা যেকোনো সময় পাঠ করা যেতে পারে।’
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক