রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। ইমান ও নামাজের পর প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। এটি শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর রহমত লাভের একটি মহান উপায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা রাখা। (বুখারি, ৮) এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, রোজা ইসলামের একটি অপরিহার্য বিধান।
রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙা বা শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া রোজা না রাখা মারাত্মক গুনাহ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রোজা ভঙ্গকারীদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
হজরত আবু উমামা বাহিলি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ইফতার করে, তাদের জন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। (ইবনে হিব্বান, ৭৪৯১) এই হাদিস থেকেও বোঝা যায়, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রোজা ভাঙা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
রোজা ভাঙার কিছু শরিয়তসম্মত কারণ আছে, যেমন অসুস্থতা, চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন নেওয়া বা সংগম করা। তবে শরিয়তের অনুমতি ছাড়া রোজা ভাঙা যাবে না। রোজা অবস্থায় সাধারণ ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ এটি খাদ্য বা পানিয়ের বিকল্প নয়।
তবে গ্লুকোজ ইনজেকশন, যা শরীরে শক্তি সরবরাহ করে, তা রোজার জন্য মাকরুহ হতে পারে। কারণ এটি খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং রোজার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম নয়, এটি আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি পথ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রোজার বিধান মেনে চলা এবং শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী রোজা পালন করা।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক