ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২
Nagad desktop

কপালে ফোঁড়া থাকলে সিজদার নিয়ম কী?

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
কপালে ফোঁড়া থাকলে সিজদার নিয়ম কী?
সেজদা দেয়ার দৃশ্য । ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: আমার কপালে একটি ফোঁড়া উঠেছে, যার কারণে সিজদার সময় কপাল মাটিতে লাগাতে খুব কষ্ট হয়। এই অবস্থায় কি আমি কপাল না লাগিয়ে শুধু নাক দিয়ে সিজদা করতে পারব?


উত্তর: আপনার বর্ণনামতে, যেহেতু কপালে ফোঁড়ার কারণে সিজদা করা আপনার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এই পরিস্থিতিতে আপনি শুধুমাত্র নাক দিয়ে সিজদা করতে পারবেন। এতে আপনার সিজদা আদায় হয়ে যাবে।

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো বিশেষ ওজরের কারণে (যেমন: অসুস্থতা বা আঘাত) কপাল মাটিতে লাগানো সম্ভব না হয় বা অতিরিক্ত কষ্টকর হয়, তাহলে শুধু নাক দিয়ে সিজদা করাই যথেষ্ট। এই অবস্থায় আপনার নামাজ সহিহ হবে।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, কোনো ধরনের ওজর বা সমস্যা না থাকলে সিজদার সময় অবশ্যই কপাল মাটিতে লাগাতে হবে। কপাল মাটিতে না লাগালে সিজদা আদায় হয় না, এবং এর ফলে নামাজও সহিহ হয় না।

[তথ্যসূত্র: খিযানাতুল আকমাল (১/৫৫), আল-মুহীতুল বুরহানী (৩/৩৩), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৭০, ১৩৬), এবং হার্শিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী (পৃ. ২৩৫)]

জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কত হাজারও কথা আমরা বলি, যার সিংহভাগই অর্থহীন। অথচ যদি জানতেন, জিহ্বা নড়াচড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু সহজ বাক্যে আপনার জীবনের সব পাপ ধুয়ে-মুছে যেতে পারে, এমনকি কিয়ামতের দিন আপনার নেকির পাল্লা পাহাড়ের চেয়েও ভারী হয়ে যেতে পারে! রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু জাদুকরী ও সংক্ষিপ্ত জিকির শিখিয়েছেন, যা একদিকে উচ্চারণে পানির মতো সহজ, অন্যদিকে এর আধ্যাত্মিক ওজন মহাবিশ্বের চেয়েও বিশাল।

আমরা যখন কারও প্রশংসা করি, তখন অনেক ভেবেচিন্তে শব্দ চয়ন করতে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় শব্দগুলো আমাদের মুখের একদম কাছেই রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি কালেমা (বাক্য) রয়েছে, যা দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ এবং মিজানের (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। তা হলো: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’। (বুখারি, ৬৪০৬; মুসলিম, ২৬৯৪)

দিনের শুরুতে বা যেকোনো সময় একটি বিশেষ দোয়া ১০০ বার পাঠ করলে যে অলৌকিক নিরাপত্তা ও সওয়াব পাওয়া যায়, তা সমকালীন যেকোনো সাইবার সিকিউরিটি বা বডিগার্ডের চেয়েও শক্তিশালী।

আরো পড়ুন: কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে একশবার পড়বেন–লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির, তার ১০টি দাস মুক্ত করার সওয়াব হবে, ১০০টি নেকি লেখা হবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি তাঁর জন্য শয়তান থেকে বাঁচার ‘রক্ষামন্ত্র’ হবে। (বুখারি, ৩২৯৩; মুসলিম, ২৬৯৩)

পাশাপাশি, কেউ যদি দিনে ১০০ বার শুধু ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তবে তার সমস্ত পাপ সমুদ্রের ফেনার পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আমরা শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম বলতে যা বুঝি, ইসলামে আধ্যাত্মিক সওয়াব দিয়ে তা পূরণের এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যতাকে (সওয়াব দিয়ে) পূর্ণ করে দেয়।( মুসলিম, ২২৩; তিরমিজি, ৩৫১৭)

আরো পড়ুন: স্বপ্নে গান শোনা, আসলে কীসের ইঙ্গিত?

ফরজ নামাজ শেষ করেই আমরা অনেকে তাড়াহুড়ো করে উঠে যাই। অথচ স্বয়ং বিশ্বনবি (সা.) নামাজ শেষ করে একটি রাজকীয় অভ্যাস বজায় রাখতেন। হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন নামাজ শেষে সালাম ফেরাতেন, তখন প্রথমে তিনবার ইস্তিগফার করতেন (বলতেন, আস্তাগফিরুল্লাহ) এবং তারপর পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’। (মুসলিম, ৫৯১; আবু দাউদ, ১৫১২)

বেদুইনদের সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে নামাজের পরের বিশেষ আমল, সবখানেই রাসুল (সা.) আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে অল্প পরিশ্রমে আখেরাতের সর্বোচ্চ ধনী হওয়া যায়। এই জিকিরগুলো কেবল মুখের বুলি নয়, এগুলো মুমিনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। বইয়ের পাতায় বা অনলাইন সিরিজে এই সহজ আমলগুলোর মহাজাগতিক গুরুত্ব আধুনিক পাঠককে মোবাইল স্ক্রলিংয়ের ফাঁকেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বাধ্য করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ইউরোপিয়ান লিগের আসর এলেই আমাদের চেনা জগৎটা এক লহমায় বদলে যায়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নীল-সাদা বনাম হলুদ-সবুজের তুমুল লড়াই। ফুটবল মাঠের উত্তেজনা গ্যালারি পেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুম, ছাদ আর পাড়ার মোড়ে এমন এক আবহ তৈরি করে, যা মাঝেমধ্যে উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দেয়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভালোবাসার সীমানা ঠিক কোথায়? এটি কি কেবলই ক্ষণিকের বিনোদন, নাকি এক ধরনের অন্ধ আসক্তি যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সময় ও আদর্শকে গ্রাস করে নিচ্ছে?

ইসলাম মানবপ্রকৃতির সুস্থ বিনোদনকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে সাহাবিদের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজিতে উৎসাহিত করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদল সাহাবিকে বলেছিলেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ। অতএব, সুস্থ উপায়ে খেলাধুলা উপভোগ করায় কোনো বাধা নেই।

বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন বিনোদন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পবিত্র কুরআনের সুরা মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আধুনিক ফুটবলের জোয়ারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সময়ের অপচয়। মধ্যরাতের ম্যাচ দেখে অনেকেই ফজরের নামাজ অবহেলায় ঘুমিয়ে পার করছেন। খেলা শেষে সামাজিক মাধ্যমে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি। অথচ কিয়ামতের দিন যে প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, তার অন্যতম হলো,মানুষ তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে (তিরমিজি)।

আবেগের পাশাপাশি হচ্ছে বিপুল অর্থের অপচয়। প্রিয় দলের বিশাল পতাকা বানানো, জার্সি কেনা বা আতশবাজির নামে যে অপব্যয় হয়, তা বিবেকবান কাউকে আনন্দ দিতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা ইসরা, ২৬-২৭)।
এই উন্মাদনা সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করছে। একই ছাদের নিচের দুই ভাই বা দুই বন্ধু স্রেফ খেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি)।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো তরুণদের অন্ধ অনুকরণ। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে দেখতে তারা কখন যেন তার লাইফস্টাইল, অদ্ভুত চুলের ছাঁট বা ট্যাটু সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তা নিজেরাও টের পায় না। যার আদর্শ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বনবি (সা.)-এর সে আজ একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য হাজার শব্দের পোস্ট লেখে, অথচ সুন্নাহর প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইসলাম আনন্দের একটি সুন্দর নৈতিক সীমারেখা টেনে দেয়। খেলাধুলা যেন আমাদের ইবাদত ও আখেরাতের প্রস্তুতিকে গ্রাস না করে। বিনোদনকে বিনোদনের জায়গায় রেখে আসুন আমরা নিজে ও আমাদের সন্তানদের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখি।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো হাতের স্পর্শের কথা শুনেছেন, যা একই সঙ্গে চরম শক্তিশালী অথচ রেশমের চেয়েও নরম? কিংবা এমন কোনো পায়ের অবয়ব দেখেছেন, যা শত মরুভূমির রুক্ষ পথ পাড়ি দেওয়ার পরও ছিল ক্লান্তিহীন ও মাংসল? ইসলামের ইতিহাসে বীরত্বের প্রতীক হযরত আলী (রা.)।

যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক সৌন্দর্যের স্মৃতিচারণ করতেন, তখন তিনি বিশেষভাবে তাঁর হাত ও পায়ের অলৌকিক গঠনশৈলীর কথা উল্লেখ করতেন। চলুন, আজ নবিজির হাত, পা এবং তাঁর চলনভঙ্গির এক অনন্য শারীরিক রহস্য সম্পর্কে জেনে নেয়।

হযরত আলী (রা.)-এর নিখুঁত বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু এবং আঙুলসমূহ ছিল বেশ মাংসল (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মানব শরীরের গঠনশৈলী (Anatomy) অনুযায়ী, হাত ও পায়ের তালু এবং আঙুল মাংসল হওয়া উচ্চ কার্যক্ষমতা, সহনশীলতা এবং শারীরিক দৃঢ়তার লক্ষণ।

এর পাশাপাশি তাঁর হাত ও পায়ের হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বেশ মোটা ও শক্তিশালী (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। তাঁর মাথা মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বড় (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪), যা এক রাজকীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এক সুষম দেহের অধিকারী ছিলেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

নবিজি (সা.)-এর দেহের আরেকটি অতি সুন্দর ও অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বুকের পশমের বিন্যাস। তাঁর পুরো শরীর পশমে আবৃত ছিল না; বরং তাঁর বুক থেকে শুরু করে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি অত্যন্ত সরু ও সোজা রেখা প্রলম্বিত ছিল [মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪], যা তাঁর শ্বেত-শুভ্র দেহে এক অপার্থিব নান্দনিকতা এনে দিয়েছিল।

যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) পথ চলতেন, তাঁর হাঁটার গতি ও ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত শক্তি ও ক্ষিপ্রতা প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে পা টেনে চলতেন না। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে হাঁটতে দেখলে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু স্থান বা পাহাড় থেকে সগৌরবে নিচের দিকে অবতরণ করছেন (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১১)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

এই গতিশীল চলনভঙ্গি প্রমাণ করে তিনি কতটা কর্মঠ এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর এই কারণেই হযরত আলী (রা.) তাঁর চিরন্তন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘তাঁর পূর্বে কিংবা পরে আমি তাঁর মতো অনুপম আকর্ষণীয় মানুষ আর কাউকেই দেখিনি’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক