ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে নেই পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২ বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
Nagad desktop

নতুন ভিসা নীতিমালা ওমরায় যাওয়ার আগে জেনে নিন

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৫, ১০:১৩ এএম
ওমরায় যাওয়ার আগে জেনে নিন
কাবা ঘরের ছবি। সংগৃহীত

সাধারণত পবিত্র হজ পালনের পর হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররম থেকে নতুনভাবে ওমরা পালন শুরু হয়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মুহাররম মাস থেকেই ওমরা পালনে যেতে শুরু করেন। সৌদি আরব সরকার ২০২৫ সালে নতুন হিজরি বছর ১৪৪৭ সনের মুহাররম মাস থেকে ওমরা পালনে আগ্রহী মুসলিমদের জন্য নতুন একটি ভিসা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো—ওমরা যাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা। নতুন এই নীতির ফলে ওমরাযাত্রীদের জন্য যেমন সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে, তেমনি কিছু বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি হাজিদের সুবিধার্থে সৌদি সরকারের নতুন ভিসা নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো—


১. অনুমোদিত হোটেল বুকিং বাধ্যতামূলক: ওমরা ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে সৌদি সরকার অনুমোদিত হোটেলে থাকার প্রমাণপত্রসহ বুকিংয়ের কাগজ বা ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে। হোটেল বুকিং ছাড়া ভিসার কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা বাতিল হতে পারে।

২. ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কড়াকড়ি: নতুন নিয়ম অনুযায়ী হোটেল বুকিং ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে না দিলে ভিসা প্রদান করা হবে না। এতে আবেদনকারীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা আগে থেকেই সুসংগঠিত রাখতে হবে।

৩. নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: ওমরা সেবায় যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান, হোটেল এবং ট্রাভেল এজেন্সিকে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। এর ফলে প্রতিটি সংস্থা ও যাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।

৪. নুসুক অ্যাপসের বাধ্যতামূলক ব্যবহার: ওমরাযাত্রীদের ‘নুসুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের রুটিন, হোটেল বুকিং, যাত্রার সময়সূচি ও অন্যান্য তথ্য পরিচালনা করতে হবে। 

৫. নারীদের সতর্কতা: নারীরা মাহরাম (নিকটাত্মীয় পুরুষ অভিভাবক) ছাড়া ওমরা পালনে যেতে পারবেন না— এ নিয়ম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

বি. দ্র. ইহরামের সময় সুগন্ধি ব্যবহার, টাইট-ফিটিং পোশাক, গ্লাভস, মেকআপ বা মেহেদি ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ছাড়া, পশুপাখি হত্যা, উচ্চস্বরে কথা বলা ও গালিগালাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে।

 

ওমরাযাত্রীরা যেসব সুবিধা পাচ্ছেন— নতুন নীতিমালার ফলে ওমরাযাত্রীরা বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ভোগ করতে সক্ষম হবেন। অনুমোদিত হোটেলে থাকার কারণে যাত্রা আগেভাগেই নির্ধারিত ও নিরাপদ হবে। নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীর হাতে থাকবে সমস্ত তথ্য ও সময়সূচি। ফলে সফর হবে ঝামেলাহীন। নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সেবা পেলে প্রতারণার আশঙ্কা কমবে এবং মানসম্মত সুবিধা পাওয়া যাবে।

এজেন্সিগুলোর চ্যালেঞ্জ ও মতামত— নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে কিছু ট্রাভেল এজেন্সি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, হোটেলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে। 

নতুন নীতিমালার একটি বাস্তব প্রভাব পড়েছে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে। সৌদি সরকার নির্দিষ্ট হোটেলগুলোকেই অনুমোদিত তালিকায় রেখেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিটি দেশের এজেন্সিগুলোর জন্য হোটেল কোটা সীমিত করে দিয়েছে। ফলে অনুমোদিত হোটেলগুলোর সিট পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে, বিশেষ করে হারাম শরিফের নিকটবর্তী হোটেলগুলো।

স্বল্পসংখ্যক হোটেলে ব্যাপক চাহিদার কারণে দাম বেড়ে গেছে, যেটি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ওমরা প্যাকেজ মূল্যে। আগে বুকিং ছাড়া ভিসা করা যেত, এখন হোটেল বুকিং না থাকলে ভিসা আবেদনই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া অনেক প্রান্তিক যাত্রী ও ছোট এজেন্সি নুসুক অ্যাপ বা অনলাইন প্রক্রিয়ায় অদক্ষ। ফলে তাদের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

নতুন ওমরা নীতিমালা সাময়িক কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, সামগ্রিকভাবে এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এতে ওমরা যাত্রা হবে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত। যাত্রীদের যথাযথ প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে এই নতুন ব্যবস্থা ওমরা অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে, ইনশাআল্লাহ।

 

লেখক: পরিচালক, হজ ও ওমরা বিভাগ ডিসকভার হলিডেজ লিমিটেড

কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?
অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আলোতে আমরা সবাই স্নিগ্ধতা খুঁজি, কিন্তু আপনি কি জানেন এমন এক চেহারার কথা, যার সামনে পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান হয়ে যেত? কেমন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গায়ের রং ও অবয়ব? সে রূপের উপমা দিতে গিয়ে কবিরা ক্লান্ত হয়েছেন, কিন্তু সাহাবিরা যখন রাসুল (সা.)-এর গায়ের বর্ণ সরাসরি দেখেছিলেন, তখন তাদের অনুভূতি কেমন ছিল? আর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে কি কখনো সামনাসামনি দেখা সম্ভব? রাসুল (সা.)-এর অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ও অবয়ব কেমন ছিল, তা জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য এক আত্মিক প্রশান্তি। তিনি কেবল চরিত্রের দিক থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না, বরং আল্লাহতায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন এক অলৌকিক ও জ্যোতির্ময় শারীরিক সৌন্দর্য।

নবিজি (সা.)-এর দেহের রঙে এমন এক দ্যুতি ছিল, যা জোছনার আলোকেও হার মানাত। হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) এক অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি একবার পূর্ণিমা রাত্রির স্নিগ্ধ আলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তাঁর দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিকতর চমৎকার।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৩৮৩; মিশকাত, ৫৭৯৪)

আরো পড়ুন: কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

অনেকে মনে করতে পারেন, এই সৌন্দর্য কি তরবারির মতো ধারালো বা চকচকে ছিল? বিশিষ্ট সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল?’ তিনি বললেন, ‘না; বরং তা ছিল চাঁদের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ৩৫৫২; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৬২৮৭)

মুহাদ্দিসিনরা এর ব্যাখ্যায় বলেন, তরবারির সঙ্গে তুলনা করলে চেহারা অতিরিক্ত লম্বাটে ও তীব্র তীক্ষ্ণ শুভ্রতার ধারণা তৈরি হয়, যাতে চোখের জন্য আরামদায়ক স্নিগ্ধতা থাকে না। পক্ষান্তরে, চাঁদের আলো যেমন গোলাকার, উজ্জ্বল ও চোখ জুড়ানো, নবিজি (সা.)-এর পবিত্র অবয়বও ছিল ঠিক তেমনই শান্ত ও মায়াবী।

আরো পড়ুন: কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের (রুপা) মতো এবং তাঁর চুলগুলো ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো।’ (জামেউস সগীর, ৮৭৪৮; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৫৩)G ইসলামিক স্কলারদের মতে, নবিজি (সা.)-এর গায়ের রং নিরেট বা ফ্যাকাশে সাদা ছিল না, বরং তা ছিল লাল মিশ্রিত চমৎকার উজ্জ্বল সাদা। এই লাবণ্য ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠনের কথা উল্লেখ করে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা নবিজি (সা.)-এর শেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবি আবু তুফায়েল (রা.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন শুভ্রকায় ও লাবণ্যময় সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।’(সহিহ মুসলিম, ৪৪১; মিশকাত,৫৭১৪)

মিরাজের রাতে রাসুল (সা.)-কে পূর্ববর্তী নবিদের অবয়ব দেখানো হয়েছিল। সেখানে তিনি তাঁর নিজের সঙ্গে জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এক অবিশ্বাস্য মিল খুঁজে পান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি ঈসা (আ.)-কে উরওয়া ইবনে মাসউদের সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ইব্রাহিম (আ.)-কে দেখতে পাই, যিনি তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ নিজের) সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।’ (মুসলিম, ৪৪১; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৬২৯)

অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা ও অবয়ব কেমন ছিল, তা বুঝতে হলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দৈহিক সৌন্দর্যের উপমাটিই সবচেয়ে পারফেক্ট। নবিজি (সা.)-এর এই অলৌকিক রূপের বিবরণ আমাদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ১০ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

রাগ ও সন্তুষ্টি-এই দুইটি হলো মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ মানুষের মাঝে এই দুটি স্বভাব সৃষ্টি করেছেন কল্যাণের জন্য, হিতের জন্য। যে ব্যক্তি একেবারেই রাগ করে না, সে অসম্পূর্ণ। তবে রাগের ব্যবহার তার যথাযথ স্থানে হওয়া উচিত। সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্ষতি ডেকে আনে।
রাগ সন্তুষ্টির বিপরীত। আর এটি মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। রাগ উঠলে মানুষের হৃদয়ে রক্ত টগবগ করতে থাকে, গলা ফুলে ওঠে, চেহারায় তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, আর তখন সে ব্যক্তি যার উপর রেগেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে থাকে।

আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ভেতর রাগ জাগে না। কিন্তু জ্ঞানী ও বিবেকবান মুমিন রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোনো মন্দ আচরণ করেন না। আর নির্বোধ ও জাহিল ব্যক্তি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নানা নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হয়-যেমন হত্যাকাণ্ড, জখম, কটু বাক্য, কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো গর্হিত অপরাধ। পক্ষান্তরে এই রাগ যদি যথাস্থানে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে রাগও হতে পারে কল্যাণের বাহন।

হাদিসে বর্ণিত এই লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি উপদেশ চেয়েছিল যা হবে সংক্ষিপ্ত, অথচ গভীর। লোকটি হয়তো ভেবেছিল, এই সংক্ষিপ্ত উপদেশটি তার জন্য পালন করা সহজ হবে, তাই সে বারবার করে অন্য কিছু শুনতে চাচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই তাকে বলছিলেন, 'রাগ করবে না।' কারণ রাগের ফলে অনেক ক্ষতি ও দুঃখ-বেদনা আসে। আর বিবেকবান মুমিন তো সর্বদাই নিজেকে সংযত রাখেন।

ক্রোধের চিকিৎসা দুইটি কাজে: এক. যতদূর সম্ভব, নিজেকে ক্রোধ থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। দুই. আর যদি কখনো ক্রোধান্বিত হয়েই পড়েন, তাহলে সেই ক্রোধকে কার্যকর হতে দেবেন না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরম ক্ষমার মাধ্যমে তাকে জয় করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

আজকের আধুনিক ব্যাংকিং, পুঁজিবাদ কিংবা ক্ষুদ্রঋণের এই যুগে সুদ শব্দটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক বা করপোরেট সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এই সুদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক অবক্ষয় কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী ও সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের পাপের ৭০টি স্তর বা শাখা রয়েছে; আর তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা নিম্নতম স্তর হচ্ছে আপন মাতাকে বিবাহ করার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া (ইবনে মাজাহ, ২৮২৬)।

অনেকেই মনে করেন, নিরুপায় হয়ে সুদের চুক্তিপত্র বা দলিলে স্বাক্ষর করলে কিংবা কেবল সাক্ষী থাকলে হয়তো বড় কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিতে অপরাধের সহযোগিতা করাও সমান অপরাধ। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং সুদের দুই সাক্ষীর ওপর অভিশাপ বা লানত করেছেন। নবিজি (সা.) স্পষ্ট করে বলেন, এই ভয়ংকর অভিশাপ ও পাপের ভাগীদার হিসেবে তারা সবাই সমান (মুসলিম, ২৮০৭)।

আজকের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘স্পিড মানি’ বা উপহারের নামে টেবিলের নিচ দিয়ে যে অর্থ লেনদেন হয়, তাকে আমরা বকশিশ বলে বৈধ করতে চাই। অথচ প্রশাসনিক সততার মাপকাঠি নিয়ে বুরায়দাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমি যাকে নির্দিষ্ট ভাতা বা বেতন দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি, সে যদি সেই নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (বকশিশ বা অতিরিক্ত অর্থ) গ্রহণ করে, তবে তা হবে স্পষ্ট ‘খিয়ানত’ বা চরম বিশ্বাসঘাতকতা (আবু দাউদ, ৩৭৪৮)।

বর্তমান সময়ে সরকারি অনুদান, জনকল্যাণের বাজেট কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার প্রবণতা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ পরকালের আদালতে এর হিসাব অত্যন্ত কঠিন। হযরত খাওয়ালাহ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ (জনগণের বা রাষ্ট্রের সম্পদ) অন্যায় ও অবৈধভাবে ভক্ষণ বা ভোগ করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অবধারিতভাবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন (বুখারি, ৩৭৪৬)।

জীবনের প্রতিটি উপার্জনকে হালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। আসুন, সুদের ভয়াবহতা ও আমানতের খিয়ানত থেকে নিজেকে দূরে রাখি, যেন আমাদের প্রতিটি লোকমা হয় পবিত্র ও বরকতময়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

আধুনিক সমাজে অপরাধ আড়াল করতে মানুষ কত ফন্দিই না আঁটে! কিন্তু এমন এক অলৌকিক বিচারব্যবস্থার বিধান রয়েছে, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হযরত উবাদাহ ইবনু ছামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচারের কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অবিবাহিত অপরাধীদের জন্য একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং বিবাহিতদের জন্য চরম শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপের বিধান নির্ধারিত (মুসলিম, ৩৫৫৮)। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসেও বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনি এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে (আবু দাউদ, ৪৩৫৩)।

সমাজে কিছু অপরাধের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এতটাই কুৎসিত যে, স্রষ্টা স্বয়ং তাদের প্রতি বিমুখ হন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির লোকের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলেন, বার্ধক্যে উপন্ন হওয়া ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি (মুসলিম, ৫১০৯)।

অপরাধ স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় সাহাবি মায়েয ইবনে মালেক (রা.) এবং গামেদি গোত্রের এক নারীর ঘটনায়। তারা নিজে থেকে রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে নিজেদের ব্যভিচারের অপরাধ স্বীকার করে পবিত্র করার আকুতি জানান। রাসুল বারবার তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অটল থাকেন। এমনকি গামেদি নারী গর্ভবতী থাকায় সন্তান প্রসব এবং পরে তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত রুটির টুকরো হাতে না আসা অবধি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ও শাস্তি মাথা পেতে নেন। তাদের এই খাঁটি অনুশোচনা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, তারা এমন খালেছ তওবা করেছে, যা সমস্ত উম্মত বা কোনো বড় জালেমের মাগফিরাতের জন্যও যথেষ্ট (মুসলিম, ৩৫৬২)।

লোকচক্ষুর আড়ালে করা পাপের পরকালীন পরিণতি কেমন হতে পারে, তা রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি অলৌকিক স্বপ্নে স্পষ্ট হয়। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দেখা যায়–তন্দুরের মতো এক সংকীর্ণ ও লেলিহান অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষরা জ্বলছে। সঙ্গী ফেরেশতা জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) জানান, তারা মূলত দুনিয়ার ব্যভিচারী বা জেনাকারীর দল (বুখারি, ৪৬২১)। সেই স্বপ্নে কোরআন থেকে গাফেলদের মাথায় পাথর নিক্ষেপ এবং মিথ্যাবাদীদের গাল সাঁড়াশি দিয়ে চেরার দৃশ্যও দেখানো হয়।

আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও নিজের কর্ম ও বিবেকের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সাময়িক মোহের পেছনে না ছুটে মায়েয বা গামেদি নারীর মতো অনুতপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে পবিত্র রাখাই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক