গানের সুরে কোরআন তিলাওয়াত করা কিয়ামতের আলামত। সুন্দর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। তবে গানের সুরে তিলাওয়াত করা পাপ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা কোরআনকে তোমাদের মধুর সুরে সুন্দর করে পড়বে। কারণ সুমিষ্ট স্বর কোরআনের সৌন্দর্য বাড়ায়।’ (আবু দাউদ, ১৪৮৬; মিশকাত, ২১৯৯)
অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ এতটা খুশি হন না যতটা খুশি হন সুকণ্ঠের অধিকারী কোনো নবির প্রতি, যিনি সুললিত কণ্ঠে ও সশব্দে কোরআন তিলাওয়াত করে থাকেন।’ (মুসলিম, ৭৯২) তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি (তারতীল সহকারে) সুর করে কোরআন পড়ে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (বুখারি, ৭৫২৭) কিন্তু কোরআন গানের সুরে তিলাওয়াত করা কিয়ামতের অন্যতম আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ছয়টি বিষয় আসার পূর্বে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর।
১. মূর্খদের নেতৃত্ব, ২. অধিক হারে পুলিশ নিয়োগ, ৩. বিচারের ফায়সালা ক্রয়-বিক্রয়, ৪. রক্তপাতকে হালকা মনে করা, ৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ৬. বাদ্যযন্ত্রের সুরে কোরআন তিলাওয়াত করা, গানের সুরে তিলাওয়াতের জন্য তাদের প্রাধান্য দেওয়া যদিও তারা জ্ঞানে স্বল্প’ (আহমদ-১৬০৮৩)। উল্লেখ্য যে, কোরআন মাজীদকে সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত করা শারী‘আতের নির্দেশ। কোরআনকে সুর দিয়ে পড়লে আরও সুন্দর হয়। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুমধুর কণ্ঠ কোরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর তা নিষিদ্ধ নয়। কেননা সৌন্দর্যবর্ধক জিনিস সেই বস্তুরই অন্তর্ভুক্ত। ব্যাখ্যাকার আল-মানাবী (রহ.) বলেন, আসলে উপরোক্ত হাদিস দ্বারা তারতীল-সহ কোরআন তিলাওয়াতের ওপর উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। [ফায়যুল কাদির]
যেমন- আল্লাহ বলেন, ‘আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন তিলাওয়াত কর।’ (সুরা মুযযাম্মিল, ৪) অর্থাৎ কোরআন তাজবীদসহ সুমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াত কর। কালামুল্লাহকে সুর করে পড়লে মানুষ বিমোহিত হয়। একদা নবি (সা.) আবু মূসা আশআরীর (রা.) তিলাওয়াত শুনে বললেন-
‘তোমাকে দাউদ (আ.)-এর কণ্ঠস্বর দেওয়া হয়েছে।’ (বুখারি, ৫০৪৮)