ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানি গার্ডের যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত ফিফার আপত্তির মুখে হাইতির বিশ্বকাপ জার্সিতে পরিবর্তন নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন ঠাকুরগাঁওয়ে বছরে ১৯১ আত্মহত্যা, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রবণতা বেশি আবেগে রাঙা বিশ্বকাপ, জার্সিতে উচ্ছ্বাস দাউদকান্দিতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ দিনাজপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ র‍্যালি মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনরোধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন নারায়ণগঞ্জ বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫ চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে পলাশবাড়িতে বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ শ্রমিকের মৃত্যু রৌমারী সীমান্তে পুশইন রুখতে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা নতুন পে-স্কেলে থাকছে না আলাদা বরাদ্দ ফুটবলাদের অধিকার বাড়াতে ফিফা ও ফিফপ্রোর ঐতিহাসিক চুক্তি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে যারা খেলতে পারবেন না ওমান উপকূলে জাহাজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্নের মুখে ফিফা প্রধান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় আমাদের দেশে অর্থবছর কেন জুলাই থেকে শুরু হয়
Nagad desktop

উমরাহ পালনকারীকে আল্লাহ কী অপ্রত্যাশিত উপহার দেন?

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
উমরাহ পালনকারীকে আল্লাহ কী অপ্রত্যাশিত উপহার দেন?
ছবি: সংগৃহীত

উমরা বলা হয়—‘নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে আল্লাহর ঘর (কাবা শরিফ) সাতবার তাওয়াফ (চারপাশে চক্কর দেওয়া) করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার সাঈ করা এবং মাথা মুণ্ডানো কিংবা চুল ছোট করা।’ (আল-বাহরুল আমিক, ৪/২০০৯)। উমরা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মানুষকে উমরা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পালন করো।’ (সুরা বাকারা, ১৯৬)

হাদিসে উমরার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তার কয়েকটি হলো—
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একাধারে হজ ও উমরা করতে থাকো। কারণ, হজ-উমরা ঠিক সেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও গুনাহ দূর করে দেয়; যেভাবে হাঁপরের আগুন লোহা, স্বর্ণ ও রুপা থেকে ময়লা দূর করে দেয়।’ (তিরমিজি, ৮১০)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যাবে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত উমরার সওয়াব লেখা হবে।’ (তারগিব, ১১১৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উমরা করার দ্বারা এক উমরা থেকে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ (সগিরা) মাফ হয়ে যায়।’ (বুখারি, ১৮৬৩, ১৭৭৩) 

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মের নামে নতুন কিছু যোগ করা কি সত্যিই পুণ্য, নাকি তা বিনাশের কারণ? ইসলামের মূল সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চিরন্তন দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, বর্তমান সমাজে তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষের তৈরি মনগড়া রীতিনীতি কীভাবে দ্বীনের আলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তারই এক প্রামাণ্য চিত্র উঠে এসেছে নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে নতুন কোনো সংযোজনের সুযোগ নেই। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

অর্থাৎ, ইবাদত মনে করে দ্বীনের মাঝে নিজস্ব কোনো নিয়ম তৈরি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। জাবের (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবায় বলতেন, শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি (বিদ‘আত) এবং প্রত্যেক বিদ‘আতের পরিণতিই হলো পথভ্রষ্টতা ও জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১; নাসাঈ হা/১৫৭৮)।

ইসলামে প্রথার চেয়ে বিশ্বাসের শুদ্ধতা বড়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে জানা যায়, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন:

১. হারামে নিষিদ্ধ কাজ বা সীমা লঙ্ঘনকারী।

২. ইসলামের ভেতরে এসেও জাহেলি যুগের রীতিনীতি বা কুসংস্কার চালু করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি।

৩. অন্যায়ভাবে কারও রক্তপাতকারী (বুখারি, মিশকাত হা/১৪২)।

ইসলামি আদর্শের বাইরে যেকোনো মনগড়া উৎসব বা অন্ধ অনুকরণই যে জাহেলিয়াত, তা এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী। একদা ফেরেশতারা তাঁর নিদ্রিতাবস্থায় (যার অন্তর জাগ্রত ছিল) একটি রূপক উদাহরণ দেন যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন করলেন এবং দূত পাঠালেন। যারা দূতের ডাকে সাড়া দিল, তারা ভোজ অংশ নিল।

এখানে গৃহটি হলো জান্নাত আর আহ্বানকারী স্বয়ং মুহাম্মাদ (বুখারি, মিশকাত হা/১৪৪)। সুতরাং, রাসুলের অবাধ্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ নেই। ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক মর্মস্পর্শী বক্তব্য দিলেন যা শুনে সাহাবিদের চোখ অশ্রুসজল হলো। বিদায়ী এই উপদেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বহু মতভেদ প্রকাশ পাবে।

তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে... মাড়ির দাঁতসমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। (আহমাদ, আবু দাঊদ, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬৫)। ধর্মের নামে প্রচলিত সব কুসংস্কার ও বিদ‘আত বর্জন করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের দেখানো খাঁটি সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠে এমন এক অলৌকিক চিহ্ন ছিল, যা দেখে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের পণ্ডিতরা তাঁকে শেষ নবি হিসেবে চিনে নিতেন? কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর দুই কাঁধের মাঝের সেই পবিত্র ‘মোহরে নবুওয়াত’, যা দেখে সাহাবিদের চোখ আটকে যেত?

মোহরে নবুওয়াত হলো মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবয়বে দেওয়া এক অনন্য সিলমোহর ও নবুওয়াতের চূড়ান্ত নিদর্শন। এটি ছিল তাঁর দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি বিশেষ কুদরত।

সাহাবিরা বিভিন্ন সময়ে এই মোহরে নবুওয়াত অত্যন্ত কাছ থেকে অবলোকন করেছেন। বিখ্যাত সাহাবি সা’ইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) তাঁর শৈশবের এক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, একবার তাঁর খালা তাঁকে নিয়ে নবিজি (সা.)-এর কাছে যান। নবিজি (সা.) তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং অজু করেন। সা’ইব বলেন, ‘আমি তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থিত মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ১৯০; সহিহ মুসলিম, ৬২৩৩)

এই চিহ্নের রং ও অবয়ব কেমন ছিল, তা আরও স্পষ্ট জানা যায় হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। আর তা যেন ছিল ডিমের মতো লাল গোশতপিণ্ড।’ (সহিহ মুসলিম, ৬২৩০; মিশকাত, ৫৭৭৯)

নবিজি (সা.)-এর এই সিলমোহরটি দেখার জন্য সাহাবিদের মনে প্রবল আগ্রহ থাকত। আনসারি নারী সাহাবি হজরত রুমায়সা (রা.) বলেন, ইসলামের মহান বীর সা’দ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর ওফাতের দিন রাসুল (সা.) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন যে, সা’দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে। রুমায়ছা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এ উক্তি করেন তখন আমি তাঁর এত নিকটে ছিলাম যে, ইচ্ছে করলে তাঁর মোহরে নবুওয়াত চুম্বন করতে পারতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৬৮৩৬; মু’জামুল কাবীর, ২০১৬৫)

মোহরে নবুওয়াতের গঠনশৈলী নিয়ে আরেকটি চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায় আবু জায়েদ আমর বিন আখতাব আনসারি (রা.)-এর হাদিসে। নবিজি (সা.) একবার তাঁকে ডেকে বললেন, ‘হে আবু জায়েদ! আমার কাছে এসো এবং আমার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলাও।’ তিনি যখন পিঠে হাত বুলাচ্ছিলেন, তখন তাঁর আঙুলগুলো সেই মোহরে নবুওয়াতের ওপর গিয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই মোহরটি আসলে কেমন ছিল? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তা ছিল এক গুচ্ছ কেশ।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২২৯৪০; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪১৯৮)

মুহাদ্দিসিনদের মতে, সেই গোশতপিণ্ডের ওপর বা তার চারপাশে একগুচ্ছ সুবিন্যস্ত চুল ছিল, যা দূর থেকে বা স্পর্শ করলে চুলের গুচ্ছের মতোই অনুভূত হতো। এটি কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে খোদাই করা এক পরম সৌন্দর্য, যা কেবল শেষ নবির ভাগ্যেই জুটেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানা, কাঁথা বা কম্বলে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রস্রাব বা অন্য কোনো কারণে ভারী তোশক বা জাজিম অপবিত্র হয়ে পড়লে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ওই ঘরে বা বিছানায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে মুসল্লিদের মনে অনেক সময় সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।

যদি বড় কোনো কাঁথা বা কম্বলের নির্দিষ্ট এক অংশে নাপাকি লাগে, তবে এর অপর ‘পাক’ বা ঘরের পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, পুরো কাপড়টি ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং যেখানে নাপাকি নেই সেখানে সিজদা করা এবং দাঁড়ানো যাবে। তবে শর্ত হলো, নাপাক অংশের আর্দ্রতা যেন পবিত্র অংশে স্থানান্তরিত না হয়।

ভারী তোশক, জাজিম বা ম্যাট্রেস যা সচরাচর ধোয়া সম্ভব হয় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। যদি তোশকের এক পিঠে নাপাকি লাগে এবং এর অপর পিঠে নাপাকির কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব প্রকাশ না পায়, তবে ওই অপর পিঠে নামায আদায় করা যাবে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৬২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪০২) অনুযায়ী, নাপাকির প্রভাব অপর পিঠে না পৌঁছালে তা ব্যবহারের জন্য পবিত্র বলে গণ্য হবে।

যদি তোশক বা জাজিমের নাপাকি শুকিয়ে যায় কিন্তু তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে এর ওপর একটি পবিত্র জায়নামাজ বা মোটা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নিচের নাপাকি নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও আসসিআয়া-র বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো নাপাকির ওপর পবিত্র স্তর থাকলে তা ইবাদতের জন্য বাধা নয়।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারী আসবাবপত্র পরিষ্কারের জটিলতা বিবেচনায় ফকিহগণ যে শিথিলতা দিয়েছেন, তা আমাদের ইবাদতকে সহজতর করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে নাপাক স্থানটি মুছে নেওয়া বা রোদে শুকিয়ে নেওয়া উত্তম।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ
ছবি: সংগৃহীত

আজকের সমাজে মেকি জৌলুস আর চাটুকারিতার জোরে যখন কোনো মিথ্যাবাদী বা কপট ব্যক্তি সমাজের চালকের আসনে বসে, তখন আমরা অনেকেই তা স্বাভাবিকভাবে নিই। কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ? রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তোমরা মোনাফিককে নেতা হিশেবে গ্রহণ করো না; কারণ যখন কোনো ব্যক্তি একজন মিথ্যুক মোনাফিককে ‘হে আমার নেতা!’ বলে সম্বোধন করে, সে তখন তার প্রতিপালককে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট করে তোলে (আবু দাউদ হা/৪৯৭৭; তারগীব হা/৪১৭৫)।

আধুনিক করপোরেট বা সামাজিক ডিলিংসে আমরা ‘ইনটিগ্রিটি’ বা সততার বড্ড অভাব দেখি। রাসুল (সা.) পাক্কা মোনাফিকের চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমানতের খিয়ানত করা, কথায় কথায় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং কোনো কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া বাধলে অত্যন্ত নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য বা সাজানো খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। কিন্তু এই সস্তা প্রচারের আড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে? হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ ও অলৌকিক হাদিসে রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি স্বপ্নের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তির গালে লোহার সাঁড়াশি ঢুকিয়ে তা গর্দানের পিছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গী ফেরেশতাদ্বয় জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলকে জানান–এই ব্যক্তি দুনিয়ায় এমন মিথ্যা বলত, যা মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত পর্যন্ত তার এই শাস্তি চলতে থাকবে (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

আজকের যুগে আমরা অনেকেই রাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে ঘুমিয়ে যাই, কিন্তু পবিত্র গ্রন্থের কোনো আমল আমাদের জীবনে থাকে না। রাসুলের দেখা সেই স্বপ্নে আরও ছিল, ভারী পাথর দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা চূর্ণ করা হচ্ছিল, কারণ সে কোরআন শিক্ষা করার পরও তা থেকে গাফেল হয়ে রাতে ঘুমাত এবং দিনেও নির্দেশ মেনে চলত না। এ ছাড়া তন্দুরের মতো সংকীর্ণ অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষের জ্বলন্ত চিৎকার ছিল ব্যভিচারী বা জেনাকারীদের শাস্তি এবং রক্তের নদীতে পাথরের আঘাতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিটি ছিল সমাজের রক্তচোষা সুদখোর (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

রাসুল (সা.)-এর দেখা এই অলৌকিক স্বপ্নের শেষে জান্নাতে সাধারণ মুমিন ও শহিদদের মনোরম আবাসন এবং জাহান্নামের দারোগা মালেককেও দেখানো হয়। সমাজকে সুন্দর করতে এবং হাশরের সেই ভয়ংকর শাস্তি থেকে বাঁচতে আজই আমাদের মিথ্যা, খিয়ানত আর মোনাফিকির পথ পরিহার করা উচিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সমাজে খুন, জালিয়াতি কিংবা অনৈতিক সম্পর্ক নিত্যদিনের খবর। কিন্তু সৃষ্টির আদালতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও বড় অপরাধ কোনগুলো? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানব ইতিহাসের তিনটি জঘন্যতম পাপের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে সমকক্ষ বা শরিক করা (শিরক)।

দ্বিতীয়টি হলো, দারিদ্র্য ও ভরণপোষণের ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করা। আর তৃতীয়টি হলো, বিশ্বাসের অমর্যাদা করে প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। রাসুল (সা.)-এর এই বাণীর সত্যায়ন করে আল্লাহতায়ালা সুরা ফুরক্বানের ৬৮ নম্বর আয়াতে নেককার বান্দাদের প্রশংসায় একই বার্তা অবতীর্ণ করেছেন (মুসলিম, ৪৯)।

আজকের বিশৃঙ্খল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার উপায় কী? হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.)-কে দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ১০টি উপদেশ যেকোনো সংকটে আলোর দিশারী হতে পারে। তিনি বলেছেন, () আগুনে পুড়িয়ে বা হত্যা করা হলেও আল্লাহর সঙ্গে শিরক না করা, () সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার অনুগত থাকা, () ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ত্যাগ না করা (কারণ সালাত ছাড়লে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে যায়), () সমস্ত অশ্লীলতার মূল মাদক থেকে দূরে থাকা, () আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচতে গোনাহ বর্জন করা, () যুদ্ধের ময়দান থেকে না পালানো, () মহামারিকবলিত এলাকায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করা, () সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ব্যয় করা, () পরিবারকে সুশাসনে রাখা এবং (১০) তাদের সর্বদা আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করা। (মুসনাদে আহমাদ, ৬১)

মানুষ ভুল ও অপরাধের এক চোরাবালিতে আটকেপড়া জীব। কিন্তু হতাশার এই অন্ধকারে স্রষ্টার ক্ষমার পরিধি কতটা বিশাল, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা মানুষের সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক ভয় দূর করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি কাউকে পরোয়া না করে তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ এমনকি কোনো মানুষ যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়, অথচ তার আমলনামায় ‘শিরক’-এর মতো কোনো পাপ না থাকে, তবে আল্লাহ স্বয়ং পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসেন (তিরমিজি, ২৩৩৬)।

সমাজ যতই অবক্ষয়ের দিকে যাক না কেন, নিজের পরিবারকে নৈতিক অনুশাসনে রাখা এবং আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করার সুযোগ সব সময় খোলা থাকে। আসুন, বড় বড় অপরাধ ও শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি, যেন আমাদের ভুলগুলো স্রষ্টার অফুরন্ত ক্ষমার চাদরে ঢেকে যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক