ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে নেই পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২ ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
Nagad desktop

মহিমান্বিত রমজান রোজার ১০ উপকারিতা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ পিএম
আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
রোজার ১০ উপকারিতা
রোজা রাখলে শরীর নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে পারে।ছবি: সংগৃহীত

রোজা শুধু ইবাদত নয় বরং মানুষের শরীর, মন ও আত্মার পুনর্জন্মের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।’ (সুরা বাকারা, ১৮৩)
এরপর আল্লাহ এরশাদ করেছেন, তোমরা যদি বুঝে থাকো তাহলে সিয়াম পালনই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা বাকারা, ১৮৪) অর্থাৎ রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা সহ্য করা নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখা এবং শরীর-মনকে পরিশুদ্ধ করা। বিজ্ঞানের ভাষায়ও রোজা শরীরের ‘ডিটক্স ও রিসেট সিস্টেম’। রোজা অবস্থায় শরীর কোষগুলোর পুরোনো অংশ মেরামত করে শক্তি উৎপাদন করে।


রোজা একসঙ্গে শরীর, মন ও আত্মা—এই তিনটি স্তরে কাজ করে। বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে, সঠিকভাবে রোজা করলে শরীর নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে পারে, হরমোন পুনরায় ভারসাম্যে আসে এবং মস্তিষ্ক নতুনভাবে কাজ শুরু করে। আল্লাহ এমনই এক ইবাদত দিয়েছেন, যার প্রতিটি উপকারিতা মানুষ ও প্রকৃতির জন্য কল্যাণকর।

১. মেটাবলিক সুইচিং—শরীরের জ্বালানি পরিবর্তন: রোজা শুরুর ৮-১২ ঘণ্টা পর শরীরের গ্লুকোজ শেষ হয়ে যায়। তখন শরীর ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে এবং কেটোন উৎপন্ন করে। এ অবস্থায় শরীর মেটাবলিক সুইচিং করে গ্লুকোজ বার্নিং থেকে ফ্যাট বার্নিং মোডে যায়। ফলে ইনসুলিন কমে যায়, ফ্যাট বার্ন বেড়ে যায় এবং এনার্জি স্থিতিশীল থাকে। ২০১৯ সালের নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের গবেষণায় দেখা যায় ইন্টারমিটেন্ট রোজা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

২. কোষের নিজস্ব পরিষ্কার প্রক্রিয়া: ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী গবেষক ইয়োশিনোরি ওসুমি প্রমাণ করেন, রোজার সময় কোষগুলো নিজের ভেতরের নষ্ট অংশ পরিষ্কার করে, নতুন কোষ তৈরি করে আর এই প্রক্রিয়াকেই বলে অটোফ্যাজি। আর এটাই ইসলামের রোজা। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ক্যানসার, আলঝেইমার ও বার্ধক্য বিলম্বিত হয়।

৩. গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধি: রোজার সময় শরীরে Human Growth Hormone (HGH) ৫-১০ গুণ বেড়ে যায়। ফলে ফ্যাট বার্ন দ্রুত হয়, মাংসপেশি সংরক্ষিত থাকে এবং টিস্যু রিপেয়ার ত্বরান্বিত হয়।

৪. মস্তিষ্কে রোজার প্রভাব: রোজার সময় মস্তিষ্কে Brain-Derived Neurotrophic Factor (BDNF) বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নিউরন তৈরি করে এবং স্মৃতি ও ফোকাস বৃদ্ধি পায়। ফলে রোজা করা মানুষ মানসিকভাবে শান্ত, পরিষ্কার চিন্তা করতে সক্ষম হয়।

৫. ইনফ্লেমেশন ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস: রোজা শরীরের প্রদাহ (inflammation) কমিয়ে দেয় এবং ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হার্ট, লিভার, ও কিডনির ওপর চাপ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ হয়।

৬. ডিটক্সিফিকেশন ও কোষ পুনর্গঠন: রোজার সময় শরীরে ‘অটোফেজি’ সক্রিয় হয়ে কোষের অভ্যন্তরে জমে থাকা বর্জ্য, টক্সিন ও নষ্ট প্রোটিন অপসারণ করে কোষকে নতুন করে তৈরি করে। ফলে বার্ধক্য বিলম্বিত হয়, ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, লিভার, কিডনি ও স্কিন কোষ পুনর্জন্ম লাভ করে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। এ কারণেই রোজাকে ‘Cellular Cleaning System’ বলা হয়।

৭. হৃদরোগ প্রতিরোধ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রোজার সময় ইনসুলিন কমে যাওয়ায় রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে যায়, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ার ফলে রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। ফলাফল হলো রক্তনালিতে প্রদাহ (inflammation) হ্রাস, হার্ট রেট ও ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধা (clotting) নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. হরমোন ব্যালান্স ও শরীরের রিসেট: রোজা হরমোন সিস্টেমের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের প্রজনন হরমোন, গ্রোথ হরমোন এবং কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) সঠিকভাবে ব্যালান্স হয়।

৯. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্ন: রোজা ইনসুলিন হ্রাস পায়, ফলে শরীর স্টোরেজ মোড থেকে বেরিয়ে আসে এবং Burn Mode-এ প্রবেশ করে। এই সময় শরীর নিজস্ব ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে।

১০. ঘুম ও এনার্জি লেভেল উন্নতি: রোজা করলে মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন হরমোনের ভারসাম্য বাজায় রাখার ফলে ঘুম ভালো হয়, মুড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। 

বি.দ্র. রমজানের রোজা ইসলামের ফরজ বিধান। আল্লাহতায়ালার হুকুম ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত হিসেবে রোজা রাখতে হবে। জাগতিক কোনো উদ্দেশ্য বা উপকারিতার নিয়তে রোজা রাখলে তা সহিহ হবে না। তবে আল্লাহতায়ালার হুকুম ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত হিসেবে রোজা রাখলে অতিরিক্ত হিসেবে বিভিন্ন উপকারিতা অর্জন হবে, ইনশা আল্লাহ।  


লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?
অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আলোতে আমরা সবাই স্নিগ্ধতা খুঁজি, কিন্তু আপনি কি জানেন এমন এক চেহারার কথা, যার সামনে পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান হয়ে যেত? কেমন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গায়ের রং ও অবয়ব? সে রূপের উপমা দিতে গিয়ে কবিরা ক্লান্ত হয়েছেন, কিন্তু সাহাবিরা যখন রাসুল (সা.)-এর গায়ের বর্ণ সরাসরি দেখেছিলেন, তখন তাদের অনুভূতি কেমন ছিল? আর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে কি কখনো সামনাসামনি দেখা সম্ভব? রাসুল (সা.)-এর অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ও অবয়ব কেমন ছিল, তা জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য এক আত্মিক প্রশান্তি। তিনি কেবল চরিত্রের দিক থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না, বরং আল্লাহতায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন এক অলৌকিক ও জ্যোতির্ময় শারীরিক সৌন্দর্য।

নবিজি (সা.)-এর দেহের রঙে এমন এক দ্যুতি ছিল, যা জোছনার আলোকেও হার মানাত। হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) এক অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি একবার পূর্ণিমা রাত্রির স্নিগ্ধ আলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তাঁর দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিকতর চমৎকার।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৩৮৩; মিশকাত, ৫৭৯৪)

আরো পড়ুন: কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

অনেকে মনে করতে পারেন, এই সৌন্দর্য কি তরবারির মতো ধারালো বা চকচকে ছিল? বিশিষ্ট সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল?’ তিনি বললেন, ‘না; বরং তা ছিল চাঁদের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ৩৫৫২; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৬২৮৭)

মুহাদ্দিসিনরা এর ব্যাখ্যায় বলেন, তরবারির সঙ্গে তুলনা করলে চেহারা অতিরিক্ত লম্বাটে ও তীব্র তীক্ষ্ণ শুভ্রতার ধারণা তৈরি হয়, যাতে চোখের জন্য আরামদায়ক স্নিগ্ধতা থাকে না। পক্ষান্তরে, চাঁদের আলো যেমন গোলাকার, উজ্জ্বল ও চোখ জুড়ানো, নবিজি (সা.)-এর পবিত্র অবয়বও ছিল ঠিক তেমনই শান্ত ও মায়াবী।

আরো পড়ুন: কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের (রুপা) মতো এবং তাঁর চুলগুলো ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো।’ (জামেউস সগীর, ৮৭৪৮; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৫৩)G ইসলামিক স্কলারদের মতে, নবিজি (সা.)-এর গায়ের রং নিরেট বা ফ্যাকাশে সাদা ছিল না, বরং তা ছিল লাল মিশ্রিত চমৎকার উজ্জ্বল সাদা। এই লাবণ্য ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠনের কথা উল্লেখ করে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা নবিজি (সা.)-এর শেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবি আবু তুফায়েল (রা.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন শুভ্রকায় ও লাবণ্যময় সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।’(সহিহ মুসলিম, ৪৪১; মিশকাত,৫৭১৪)

মিরাজের রাতে রাসুল (সা.)-কে পূর্ববর্তী নবিদের অবয়ব দেখানো হয়েছিল। সেখানে তিনি তাঁর নিজের সঙ্গে জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এক অবিশ্বাস্য মিল খুঁজে পান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি ঈসা (আ.)-কে উরওয়া ইবনে মাসউদের সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ইব্রাহিম (আ.)-কে দেখতে পাই, যিনি তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ নিজের) সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।’ (মুসলিম, ৪৪১; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৬২৯)

অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা ও অবয়ব কেমন ছিল, তা বুঝতে হলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দৈহিক সৌন্দর্যের উপমাটিই সবচেয়ে পারফেক্ট। নবিজি (সা.)-এর এই অলৌকিক রূপের বিবরণ আমাদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ১০ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

রাগ ও সন্তুষ্টি-এই দুইটি হলো মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ মানুষের মাঝে এই দুটি স্বভাব সৃষ্টি করেছেন কল্যাণের জন্য, হিতের জন্য। যে ব্যক্তি একেবারেই রাগ করে না, সে অসম্পূর্ণ। তবে রাগের ব্যবহার তার যথাযথ স্থানে হওয়া উচিত। সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্ষতি ডেকে আনে।
রাগ সন্তুষ্টির বিপরীত। আর এটি মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। রাগ উঠলে মানুষের হৃদয়ে রক্ত টগবগ করতে থাকে, গলা ফুলে ওঠে, চেহারায় তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, আর তখন সে ব্যক্তি যার উপর রেগেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে থাকে।

আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ভেতর রাগ জাগে না। কিন্তু জ্ঞানী ও বিবেকবান মুমিন রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোনো মন্দ আচরণ করেন না। আর নির্বোধ ও জাহিল ব্যক্তি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নানা নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হয়-যেমন হত্যাকাণ্ড, জখম, কটু বাক্য, কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো গর্হিত অপরাধ। পক্ষান্তরে এই রাগ যদি যথাস্থানে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে রাগও হতে পারে কল্যাণের বাহন।

হাদিসে বর্ণিত এই লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি উপদেশ চেয়েছিল যা হবে সংক্ষিপ্ত, অথচ গভীর। লোকটি হয়তো ভেবেছিল, এই সংক্ষিপ্ত উপদেশটি তার জন্য পালন করা সহজ হবে, তাই সে বারবার করে অন্য কিছু শুনতে চাচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই তাকে বলছিলেন, 'রাগ করবে না।' কারণ রাগের ফলে অনেক ক্ষতি ও দুঃখ-বেদনা আসে। আর বিবেকবান মুমিন তো সর্বদাই নিজেকে সংযত রাখেন।

ক্রোধের চিকিৎসা দুইটি কাজে: এক. যতদূর সম্ভব, নিজেকে ক্রোধ থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। দুই. আর যদি কখনো ক্রোধান্বিত হয়েই পড়েন, তাহলে সেই ক্রোধকে কার্যকর হতে দেবেন না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরম ক্ষমার মাধ্যমে তাকে জয় করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

আজকের আধুনিক ব্যাংকিং, পুঁজিবাদ কিংবা ক্ষুদ্রঋণের এই যুগে সুদ শব্দটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক বা করপোরেট সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এই সুদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক অবক্ষয় কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী ও সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের পাপের ৭০টি স্তর বা শাখা রয়েছে; আর তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা নিম্নতম স্তর হচ্ছে আপন মাতাকে বিবাহ করার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া (ইবনে মাজাহ, ২৮২৬)।

অনেকেই মনে করেন, নিরুপায় হয়ে সুদের চুক্তিপত্র বা দলিলে স্বাক্ষর করলে কিংবা কেবল সাক্ষী থাকলে হয়তো বড় কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিতে অপরাধের সহযোগিতা করাও সমান অপরাধ। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং সুদের দুই সাক্ষীর ওপর অভিশাপ বা লানত করেছেন। নবিজি (সা.) স্পষ্ট করে বলেন, এই ভয়ংকর অভিশাপ ও পাপের ভাগীদার হিসেবে তারা সবাই সমান (মুসলিম, ২৮০৭)।

আজকের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘স্পিড মানি’ বা উপহারের নামে টেবিলের নিচ দিয়ে যে অর্থ লেনদেন হয়, তাকে আমরা বকশিশ বলে বৈধ করতে চাই। অথচ প্রশাসনিক সততার মাপকাঠি নিয়ে বুরায়দাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমি যাকে নির্দিষ্ট ভাতা বা বেতন দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি, সে যদি সেই নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (বকশিশ বা অতিরিক্ত অর্থ) গ্রহণ করে, তবে তা হবে স্পষ্ট ‘খিয়ানত’ বা চরম বিশ্বাসঘাতকতা (আবু দাউদ, ৩৭৪৮)।

বর্তমান সময়ে সরকারি অনুদান, জনকল্যাণের বাজেট কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার প্রবণতা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ পরকালের আদালতে এর হিসাব অত্যন্ত কঠিন। হযরত খাওয়ালাহ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ (জনগণের বা রাষ্ট্রের সম্পদ) অন্যায় ও অবৈধভাবে ভক্ষণ বা ভোগ করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অবধারিতভাবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন (বুখারি, ৩৭৪৬)।

জীবনের প্রতিটি উপার্জনকে হালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। আসুন, সুদের ভয়াবহতা ও আমানতের খিয়ানত থেকে নিজেকে দূরে রাখি, যেন আমাদের প্রতিটি লোকমা হয় পবিত্র ও বরকতময়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

আধুনিক সমাজে অপরাধ আড়াল করতে মানুষ কত ফন্দিই না আঁটে! কিন্তু এমন এক অলৌকিক বিচারব্যবস্থার বিধান রয়েছে, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হযরত উবাদাহ ইবনু ছামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচারের কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অবিবাহিত অপরাধীদের জন্য একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং বিবাহিতদের জন্য চরম শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপের বিধান নির্ধারিত (মুসলিম, ৩৫৫৮)। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসেও বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনি এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে (আবু দাউদ, ৪৩৫৩)।

সমাজে কিছু অপরাধের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এতটাই কুৎসিত যে, স্রষ্টা স্বয়ং তাদের প্রতি বিমুখ হন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির লোকের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলেন, বার্ধক্যে উপন্ন হওয়া ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি (মুসলিম, ৫১০৯)।

অপরাধ স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় সাহাবি মায়েয ইবনে মালেক (রা.) এবং গামেদি গোত্রের এক নারীর ঘটনায়। তারা নিজে থেকে রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে নিজেদের ব্যভিচারের অপরাধ স্বীকার করে পবিত্র করার আকুতি জানান। রাসুল বারবার তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অটল থাকেন। এমনকি গামেদি নারী গর্ভবতী থাকায় সন্তান প্রসব এবং পরে তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত রুটির টুকরো হাতে না আসা অবধি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ও শাস্তি মাথা পেতে নেন। তাদের এই খাঁটি অনুশোচনা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, তারা এমন খালেছ তওবা করেছে, যা সমস্ত উম্মত বা কোনো বড় জালেমের মাগফিরাতের জন্যও যথেষ্ট (মুসলিম, ৩৫৬২)।

লোকচক্ষুর আড়ালে করা পাপের পরকালীন পরিণতি কেমন হতে পারে, তা রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি অলৌকিক স্বপ্নে স্পষ্ট হয়। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দেখা যায়–তন্দুরের মতো এক সংকীর্ণ ও লেলিহান অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষরা জ্বলছে। সঙ্গী ফেরেশতা জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) জানান, তারা মূলত দুনিয়ার ব্যভিচারী বা জেনাকারীর দল (বুখারি, ৪৬২১)। সেই স্বপ্নে কোরআন থেকে গাফেলদের মাথায় পাথর নিক্ষেপ এবং মিথ্যাবাদীদের গাল সাঁড়াশি দিয়ে চেরার দৃশ্যও দেখানো হয়।

আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও নিজের কর্ম ও বিবেকের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সাময়িক মোহের পেছনে না ছুটে মায়েয বা গামেদি নারীর মতো অনুতপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে পবিত্র রাখাই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক