চলতি হজ মৌসুমে ১৫ বছরের কম বয়সীদের অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরা পবিত্র হজের সুযোগ পাচ্ছে। ইতিপূর্বে বয়সের কারণে যাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, তাদের পুনরায় আবেদন করার জন্য বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, হজযাত্রীদের বয়সের ক্ষেত্রে যে নতুন কড়াকড়ি (১৫ বছর) আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সৌদি আরবের সংবাদ মাধ্যম আরব নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, ৩ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ওই বিতর্কিত নিয়মটি বাতিল করে পূর্বের ১২ বছরের নীতিতে ফিরে গেছে দেশটি।
বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বয়সের মারপ্যাঁচে পড়ে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী যে সকল হজযাত্রীর ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল, তারা এখন পুনরায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ‘নুসুক মাশায়ের’ (Nusuk Mashayer) সিস্টেমে এই হজযাত্রীদের তথ্য পুনরায় সাবমিট করা হয়।
আরো পড়ুন: কাবা শরিফ দেখলে বা উমরা করলে কি হজ ফরজ হয়?
এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিল যে, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো যাত্রী এবার হজে অংশ নিতে পারবে না। এমনকি ২৭ মে পর্যন্ত এই বয়সী যাত্রীদের বহনকারী কোনো ফ্লাইট সৌদি আরবে প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই কড়াকড়ির ফলে কয়েক হাজার কিশোর হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। ওই সময় সৌদি সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের আকস্মিক এই নতুন সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে হজযাত্রী ও তাদের পরিবারের মধ্যে। হজের মহাপরিচালক দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, বাতিল হওয়া সকল ভিসা পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী তারা চলতি বছরই হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমন শুরু হয়েছে। যারা বয়সের কারণে আটকে গিয়েছিলেন, দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শেষে তারা নির্ধারিত সময়েই পবিত্র ভূমি অভিমুখে যাত্রা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।