জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আজকের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট। আলাদা ব্যালটে ভোটাররা জুলাই সনদের আওতায় সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন।
গণভোটে অন্তর্নিহিত মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সাংবিধানিক এবং ৩৬টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কথা বলা হয়েছে।
গণভোটের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে কোনোটিতে বিএনপি, কোনোটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রথমে প্রস্তাব ছিল, যেসব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না। তবে, শেষ পর্যন্ত সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।
‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার করতে বাধ্য থাকবে। না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের বিল পাস বলে গণ্য হবে।
গণভোটের চারটি পয়েন্ট বা প্রশ্নের ওপর প্রচার চলছে। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারিভাবেই প্রচার চালানো হচ্ছে। চারটির মধ্যে কী আছে, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিলে কী কী পরিবর্তন হবে—সে বিষয়ে জনমনে এখনো ধোঁয়াশা বিদ্যমান। একদিকে সরকার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সরকারি প্রচার কার্যক্রম আইন বিরুদ্ধ উল্লেখ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
আসন্ন গণভোট ইতিহাসের সবচেয়ে হাস্যকর ও দুর্বোধ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। এর মধ্যে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘এবার ৪৮ বিষয় উল্লেখ করে যে গণভোট নেওয়া হচ্ছে, সেটা ইতিহাসে বিরল। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি সবচেয়ে হাস্যকর গণভোট। আগে গণভোট, তারপর সংসদ, এটা সাধারণত দুনিয়াতে কখনো হয়নি। গণভোটে অন্তর্ভুক্ত জুলাই সনদে ৮৪টি ধারা আছে, যা ২৫-৩০ পৃষ্ঠার একটি দলিল। এই দলিল পড়ে বোঝার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার, সেই শিক্ষা তো আমাদের অধিকাংশ ভোটারের নেই। সেই সঙ্গে সরকার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইন লঙ্ঘন করে যেভাবে হ্যাঁ ভোটের প্রচার চালিয়েছেন, তাতে এই গণভোট চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’
তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জিতলে কী কী বিষয়ে পরিবর্তন আসবে এই প্রতিবেদনে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার
বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে–প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। দেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি। বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষের দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাব–৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করতেও প্রয়োজন হবে গণভোট। বর্তমান সংবিধানে ৭-এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান ছিল, সেটি বিলুপ্ত হবে।
বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি হচ্ছে–বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে–সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।
বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে–সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিতের বিষয়টিও যুক্ত করা হবে।
বর্তমান সংবিধানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত হবে।
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য
বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে জরুরি অবস্থা জারি হয়। ‘হ্যাঁ’ জিতলে–জরুরি অবস্থা জারি করতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলের নেতা/উপনেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারগুলো (ইন্টারনেট সেবা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিসহ) খর্ব করা যাবে না।
বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। ‘হ্যাঁ’ জিতলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ করে ভোটের প্রয়োজন হবে।
সরকারের অনুমোদনে যেকোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। ‘হ্যাঁ’ জিতলে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
বিদ্যমান সংবিধানে একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদের সর্বোচ্চ মেয়াদ নেই। ‘হ্যাঁ’ জিতলে–এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
সংসদ, নির্বাচন ও সরকারব্যবস্থা
বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নেই। ‘হ্যাঁ’ জিতলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধী দল, দ্বিতীয় বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে।
‘হ্যাঁ’ জিতলে জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই (পিআর) উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন হবে। সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। সেটি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করা হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ‘হ্যাঁ’ জিতলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। বিদ্যমান সংবিধানে সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাজেট ও আস্থা বিল ছাড়া অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না। ‘হ্যাঁ’ জিতলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন লাগবে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। তখন ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
আইন ও বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তন
‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানের ৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন হবে। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। ‘হ্যাঁ’ জিতলে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে। বিদ্যমান সংবিধানে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে আছে, ‘হ্যাঁ’ জিতলে এই ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে থাকবে। এ ছাড়া বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত হবে।
‘হ্যাঁ’ জিতলে স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির সুপারিশে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করতে হবে।
আইনের সংস্কার ৩৭টি
৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আইন-অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ৩৭টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে–সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি, স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা), সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন, ভৌগোলিক অবস্থান ও সহজ যাতায়াতের বিবেচনায় কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা। অবশ্য এর মধ্যে কয়েকটি আইন ও অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজকের গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপিত প্রশ্নে জুলাই সনদের কিছুই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকছে না। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাবকে ছোট ছোট চারটি পয়েন্টের মাধ্যমে একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এর পক্ষে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশ্নটি হলো–‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
প্রস্তাবগুলো হলো–
১. নির্বাচনের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
৩. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।