২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে মূল নায়ক ছিলেন পেসার ইবাদত হোসেন। দারুণ ছন্দে থাকা ইবাদত হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ দলের অবিচ্ছিন্ন অংশ। তিন ফরম্যাটেই মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের মূল ভরসা ছিলেন। ফলে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার খেলা অনেকটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ইনজুরির কারণে তার বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। তার অনুপস্থিতির ঘাটতি মিটেছে অবশ্য তরুণ পেসারদের উত্থানে। মাউন্ট মঙ্গানুই জয়ের নায়ককে ফের লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যাবে এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন বাংলাদেশি সমর্থকরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা ছিল, ভারত সফর দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখা যাবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। এখনো পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় ভারত সফরে তাকে ম্যাচ খেলানোর জন্য আপাতত বিবেচনা করা হচ্ছে না। ক্রিকেটে ফিরতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে এই ডানহাতি পেসারকে। তবে দলের সঙ্গে ভারতে যাবেন এই ডানহাতি পেসার।
লম্বা সময় ইনজুরিতে থাকা ইবাদত হোসেনের রিহ্যাব চলছে এক বছরের বেশি সময় ধরে। অস্ত্রোপচার হওয়ার ৮ সপ্তাহের বেশি সময় পর তার রিহ্যাব শুরু হয়। ছোট রানআপে বোলিং শুরু করেন চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে। তবে এখনো ফুল রানআপে বোলিং শুরু করার মতো অবস্থায় যেতে পারেননি ইবাদত। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ফুল রানআপে বোলিং শুরু করার কথা রয়েছে তার। ফুল রানআপে বোলিং শুরু না করা ইবাদত এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পুরোপুরি ফিট না হলে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ বিসিবি। এ কারণে ভারত সিরিজের কোনো ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনায় রাখা হয়নি। যেহেতু ভারত সিরিজের আগে তার পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খানিকটা ক্ষীণ। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ম্যাচ খেলার মতো পর্যায়ে পৌঁছাবেন এই পেসার।
গত বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হাঁটুর চোটে পড়েন ইবাদত। সে সময় বলা হয়েছিল, মাস দুয়েকের মধ্যে মাঠে ফিরবেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শল্যবিদের ছুরির নিচে যেতে হয়েছে গত আগস্টে। বিসিবির এক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, ‘তখন থেকেই ধারণা ছিল অন্তত এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকবেন ইবাদত।’ গত কয়েক মাস ধরে ধারণা করা হচ্ছিল, সেপ্টেম্বরে ভারত সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরবেন। তবে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ইবাদতকে খেলানো সম্ভব না হলেও দলের সঙ্গে রাখতে চায় বিসিবি। মূলত মাঠে ফেরার জন্য তাকে দ্রুত প্রস্তুত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই সময় জাতীয় দলের ফিজিও-ট্রেনাররা তাকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। ভারত সফরে তার মাঠে ফেরার সুযোগ হারালেও জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) দিয়ে মাঠে ফেরার সুযোগ থাকবে এই ডানহাতি পেসারের জন্য। প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে ফেরার অনুমতি পেলে তবেই ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন ইবাদত হোসেন।
এনসিএলে ইবাদতের জন্য ফেরাটাও খানিকটা কঠিন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এনসিএল শুরু হবে। ইনজুরি কাটিয়ে এনসিএলের এবারের আসরে তার খেলার অনুমতি মিললেও থাকতে হবে গভীর পর্যবেক্ষণে। ফিটনেসের অবস্থা বিবেচনায় কত ওভার বোলিং করবেন সেটা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে। মূলত, ইবাদতের ফিটনেসের জন্য যে বেঞ্চমার্ক তৈরি করা হয়েছে সেটা স্পর্শ করতে না পারলে পুরোদমে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না ইবাদত।
তবে পুরোপুরি ফিট হলে জাতীয় দলে ইবাদতের সুযোগ পাওয়ার পথ এখন খানিকটা কঠিন। তাসকিন আহমেদ-শরিফুল ইসলামদের পাশাপাশি ফর্মের তুঙ্গে আছেন তরুণ হাসান মাহমুদ-নাহিদ রানারা। এ ছাড়া জাতীয় দলের বাইরে থাকা রেজাউর রহমান রাজা-রিপন মণ্ডলরাও আছেন দারুণ ছন্দে। ফলে কঠিন লড়াইয়ের পর তাকে জাতীয় দলে ফিরতে হবে। তারুণ্যের ভিড়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ইবাদত নিজেও।