ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল পলাশে ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ
Nagad desktop

বাউন্ডারি বড় চান তামিম

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫২ পিএম
বাউন্ডারি বড় চান তামিম
ছবি : সংগৃহীত

দলীয় বড় সংগ্রহের কারণে এবারের বিপিএল বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে সবার কাছে। চার-ছক্কার বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই। মানসম্মত উইকেট তৈরির পাশাপাশি কমিয়ে আনা হয়েছে বাউন্ডারির দৈর্ঘ্য। 

গতকাল এক ম্যাচে দুইবার সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড হয়েছে আর দুই ম্যাচ মিলিয়ে মোট ছয় হয়েছে ৪৫টি। 

গতকাল (৬ জানুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্স ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচে মোট ছয় হয়েছে ৩১টি। আর দিনের অপর ম্যাচে ফরচুন বরিশাল ও দুর্বার রাজশাহী ছক্কা হাঁকিয়েছে ২০টি ছক্কা। 

এমন ছক্কাবৃষ্টি দর্শকরা উপভোগ করলেও ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল চান বাউন্ডারি বড় করা হোক। 

সিলেটের বাউন্ডারি নিয়ে আলোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। তামিম নিজেও উইকেটের প্রশংসা করে সমালোচনা করেছেন বাউন্ডারি সীমানার। 

দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ৮৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর বাউন্ডারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেভাবে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে, তা খুব ভালো। আমি যা দেখতে চাই, তা হলো আরও বড় সীমানা। জায়গা যখন আছে, তাহলে ৫৮-৬০ গজের বাউন্ডারিতে আমরা কেন খেলছি, জানি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৫-৭০ গজের বাউন্ডারি দেখা যায়। তখন বোলারদের জন্য কিছুটা সুযোগ থাকে।’

বাউন্ডারি বড় করার কথা বললেও প্রশংসা করেছেন উইকেটের, ‘উইকেট এবার এত ভালো যে কিউরেটরদের কৃতিত্ব দিতে হবে। দুর্দান্ত উইকেট তৈরি করেছেন তারা। তবে উইকেট যখন এত ভালো থাকে, তখন সীমানা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি জায়গা থাকে। তাহলে বোলারদের জন্যও সুযোগ থাকে। এই মুহূর্তে বোলারদের জন্য কিছু নেই।’

সংবাদ সম্মেলনের ফের তামিম বাউন্ডারি বড় করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘শীর্ষ কর্তারা যারা সিদ্ধান্ত যা গ্রহণ করেন, আমার আশা ও প্রার্থনা, তারা আমার কথা শুনছেন এবং এই বাউন্ডারি আরেকটু পিছিয়ে দেবেন। কারণ জায়গা তো আছেই।’

আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল
ছবি: সংগৃহীত

আরও একবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের মঞ্চে গোল করলেন ঋতুপর্ণা চাকমা।

শনিবার (৬ জুন) ভারতের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়ে পিটার বাটলার শিষ্যরা। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঋতুপর্ণা জাল খুঁজে নেন। সুবাদে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতে যায় বাংলাদেশ।

অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের ম্যাচে লিড নিয়েছে ভারত। গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সাফের অষ্টম আসরের ফাইনাল ম্যাচটিতে এখন ২-১ এ এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা।

সবশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ খেলছে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে। অন্যদিকে প্রথম পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত চায় শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠেছে দলটি। বাংলাদেশ খেলছে পর পর তিন ফাইনাল।

সবশেষ ২০২৪ সালের আসরের ফাইনালে নেপালকে হারায় বাংলাদেশ। সেই ফাইনালে ঋতুপর্ণার নান্দনিক এক গোলে জয় নিশ্চিত হয়েছিল লাল-সবুজ মেয়েদের।

আজ ৪২ মিনিটে পেয়ারি জাজারি গোলে লিড নেয় ভারত। ঋতুপর্ণা যোগ করা সময়ে তহুরা খাতুনের কাছ থেকে বল পেয়ে বা পায়ের দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল আদায় করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এবার গোলদাতা সানফিদা। ডানপ্রান্ত থেকে পেয়ারি জাজার বাড়ানো ক্রসে হেড নেন সানফিদা। যা পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

রবিন/রিফাত/

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ
নারী সাফের ট্রফি হাতে ভারত অধিনায়ক সঙ্গীতা বাসফোর ও বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। ছবি: সংগৃহীত

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সন্ধ্যায় ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই অভিজ্ঞ মুখ তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে নিয়েই এ ম্যাচের শুরুর একাদশ সাজিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার।

ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। 

তহুরা খাতুন এবারের আসরে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন। ২০২৪ সালের আসরে ৫ গোল করে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

এদিনে নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চোট পান মনিকা চামকা। আজ তাকে একাদশে রাখেননি বাংলাদেশ কোচ।

সবশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে আজ হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশন। অন্যদিকে প্রথম পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত নামবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে।

২০১৯ সালের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠেছে ভারত। এবার গ্রুপ পর্বেই বাংলাদেশ ও ভারতের দেখা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে স্বাগতিকরা ৩-০ গোলে জয় তুলে নেয়। তবে গত দুই আসরে গ্রুপ পর্বে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

দুই দলের ১৩ দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে ২টিতে, ভারত ১০টিতে। একটি ম্যাচ ড্র হয়।

ফাইনালে বাংলাদেশের একাদশ

মিলি আক্তার (গোলরক্ষক), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকি, তহুরা খাতুন, সুরভী আক্তার আফরিন, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র।

মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি
ছবি: সংগৃহীত

পেশির চোট থেকে লিওনেল মেসি ভালোভাবেই সেরে উঠছেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ-পূর্ব শেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তাকে দেখাও যেতে পারে। শুক্রবার (৫ জুন) এমনটাই জানিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

৩৮ বছর বয়সি মেসি ১০ দিন আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানে জেতা মেজর লিগ সকার ম্যাচে খেলতে গিয়ে পেশিতে টান (মাসল স্ট্রেইন) অনুভব করেন। এতে বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামীকাল শনিবার টেক্সাসে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে। এরপর মঙ্গলবার আলাবামায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে তারা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এ দুটিই হবে তাদের শেষ প্রীতি ম্যাচ।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘লিও ভালো আছে। সে ইতোমধ্যে অনুশীলনের একটি অংশে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ। সে আর আলাদাভাবে অনুশীলন করছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার অবস্থার অনেক উন্নতি হচ্ছে এবং সে হয়তো প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর একটিতে কয়েক মিনিটের জন্য খেলতেও পারে। সেটা এই ম্যাচে হবে নাকি পরেরটিতে, তা আমরা দেখব। তবে সে অনেক ভালো আছে এবং এটি আমাদের স্বস্তি দিচ্ছে।’

মেসি যখন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত, তখন স্কালোনি সেই মুহূর্তের কথাও স্মরণ করেন, যখন তিনি আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। হাসতে হাসতে স্কালোনি বলেন, “আমি তাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলাম এবং সে আমাকে বলেছিল, তাকে দলে ডাকা হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য সে স্কোয়াড তালিকার অপেক্ষা করবে। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘তোমাকে দলে নেওয়া হয়েছে।’ ঘটনাটা এভাবেই ঘটেছিল।”

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ চলবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। এরপর গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

অনিক/

টি-টোয়েন্টিতে নতুন ভারত শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলের জন্য শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। পরিবর্তনের এই সময়ের কেন্দ্রে রয়েছেন এক পরিচিত মুখ- শ্রেয়াস আইয়ার। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে তিনি শুধু জায়গাই পাননি, পেয়েছেন নেতৃত্বের দায়িত্বও। আগামী জুন ও জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি, সূর্যকুমার যাদবের উত্তরসূরি হিসেবে।

দায়িত্ব পাওয়া শ্রেয়াসের জন্য নিছক একটি নিয়োগ নয়; এটি এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প। খুব বেশি দিন আগে নয়, যখন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি মৌসুম, তিন সংস্করণেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নজরকাড়া প্রদর্শন তাকে আবারও নির্বাচকদের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে এনেছে।

সেই আস্থারই প্রতিফলন এখন ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের টি-টোয়েন্টি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। নতুন যুগের এই যাত্রায় শ্রেয়াসের পাশে রয়েছেন তিলক বর্মা। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখছে নির্বাচকরা। গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন তিলক। এখন তাকে ভারতের ভবিষ্যৎ সাদা বলের ক্রিকেট পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে নতুন দলের সবচেয়ে আলোচিত নামটি সম্ভবত বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে অধিকাংশ কিশোর যেখানে স্কুলের পড়াশোনা, বোর্ড পরীক্ষা কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে বৈভব প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে পা রাখার জন্য।

তার উত্থান যেন রূপকথার মতো। কয়েক মাস আগেও তিনি ছিলেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আলোচিত এক প্রতিভা। আর এখন তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্তেজনাকর তরুণ নামগুলোর একজন। ভারতের জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া তার ক্যারিয়ারের আরেকটি বিশাল মাইলফলক হতে পারে। আপাতত তিনি একজন লাজুক কিশোর, যার হাতে একটি ব্যাট, হৃদয়ে একটি স্বপ্ন এবং কাঁধে কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিত সাইকিয়া অবশ্য এই প্রতিভাবান তরুণকে নিয়ে সতর্ক। তার ভাষায়, ‘আমরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব সতর্ক। আমাদের নির্বাচক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা তার প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’

দলের গঠনও স্পষ্টভাবে বলে দেয়- ভারত একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিভার ঘাটতি নেই মোটেও। উইকেটরক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতার ভরসা হয়ে আছেন সাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে এনে দিচ্ছেন আক্রমণাত্মক ও নির্ভীক ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি।

শিভম দুবের শক্তিশালী ব্যাটিং এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, বিশেষ করে পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে। একই সঙ্গে অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর সেই ভারসাম্য ও নমনীয়তা এনে দিচ্ছেন, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্যের অন্যতম শর্ত।

বোলিং বিভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল। মোহাম্মদ সিরাজ ও আর্শদীপ সিং নেতৃত্ব দেবেন পেস আক্রমণে। তাদের সঙ্গে হার্শিত রানা ও প্রিন্স যাদব যোগ করবেন বাড়তি গতি এবং তরুণ উদ্যম। স্পিন বিভাগে রবি বিষ্ণোই ও বরুণ চক্রবর্তী ভিন্নধর্মী দক্ষতা এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রমাণিত উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য নিয়ে থাকছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে।

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর হয়তো কোনো ক্রিকেটারের পুরো ক্যারিয়ার নির্ধারণ করবে না। কিন্তু এই সফরগুলো হয়তো দেখিয়ে দেবে ভারতীয় ক্রিকেট আগামী দিনে কোন পথে এগোতে চায়।

একদিকে রয়েছেন একজন প্রত্যাবর্তনকারী নেতা, যিনি নিজের জায়গা আরও শক্ত করতে চান। অন্যদিকে একজন তরুণ সহ-অধিনায়ক, যাকে ভবিষ্যতের বড় দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর তাদের পাশে রয়েছে একদল উদীয়মান ক্রিকেটার, যারা সম্ভাবনাকে স্থায়ী সাফল্যে রূপ দিতে অপেক্ষা করছে।

নামগুলো ইতোমধ্যে কাগজে লেখা হয়ে গেছে। এখন বাকি শুধু মাঠের লড়াই। ইংল্যান্ডের গ্রীষ্ম শুরু হলেই শুরু হবে নতুন ভারতের প্রকৃত পরীক্ষা।

ভারত টি-টোয়েন্টি দল: শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), ইশান কিষাণ (উইকেটরক্ষক), শিভম দুবে, নিতিশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তী, বৈভব সূর্যবংশী, রবি বিষ্ণুই, মোহাম্মদ সিরাজ, হর্ষিত রানা, আর্শদীপ সিং এবং প্রিন্স যাদব।

অনিক/

‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’
প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ৭ জুনের নির্বাচনে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের আধিক্য খুব বেশি। তা যেমন কাউন্সিলর হওয়ার ক্ষেত্রে, তেমনি পরিচালক পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও। যে কারণে নতুন মুখের ভিড় বেশি। এদের অনেকেই আছেন, যাদের ক্রিকেটের সঙ্গে পূর্বের কোনো রকম সম্পৃক্ততা ছিল না। সেখানে ব্যতিক্রম প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। বিসিবিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করলেও পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

ছাত্রজীবনে খেলেছেন ক্রিকেট। পরে জড়িত হয়েছেন ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে। ক্রিকেটের সঙ্গে এ রকম সম্পৃক্ততার কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের সমালোচনার তীর তার দিকে বেশি বিদ্ধ হয়নি। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কাউন্সিলর হয়ে তিনি বিসিবিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। কাউন্সিলররা তাকে বিবেচনা করবেন বলে তার বিশ্বাস। 

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সন্তান প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বেড়ে উঠেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্কুল জীবনে ছিলেন তুখোড় ক্রিকেটার। ছিলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র হিসেবে খেলেছেন স্কুল টিমে। হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর কলেজ টিমেও জায়গা করে নেন। চট্টগ্রাম প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ খেলেছেন আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাব, এলিট পেইন্ট ক্লাব, ডক্টরস ক্লাব। স্টার যুব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলেছেন মোহামেডান ব্লুজ, জুনিয়র ফ্রেন্ডসের হয়ে। ক্লাব ক্রিকেটে স্বীয় প্রতিভার ছাপ রেখে তিনি জায়গা করে নেন চট্টগ্রাম জেলা যুব দলে।

ঢাকার মিলনার্স প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে খেলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে। এরপর আর তার খেলোয়াড়ি জীবন এগোয়নি মেধাবী ছাত্র হওয়ার কারণে। খেলার পেছনে অনেক সময় ব্যয় হওয়ার কারণে পরিবার থেকে চাপ আসে না খেলার জন্য। ফলে সেখানেই থেমে যায় খেলোয়াজি জীবন। এরপর মেডিকেলে পড়ায় মনোযোগ দেন। এমবিবিএস পাশ করে তিনি এমসিপিএস (ডার্মাটোলজি), এফসিপিএস (ডার্মাটোলজি) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে গ্লাসগো থেকে ডিপ্লোমা ইন ডার্মাটোলজি (ডিপ ডার্ম), যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপ্লোমা ইন এসথেটিক মেডিসিন ডিগ্রি নেন।

বাংলাদেশের এসথেটিক ডার্মাটোলজির পথিকৃত হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশে নন্দিত। তিনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ও প্রখ্যাত চর্মরোগ, এসথেটিক ডার্মাটোলজি ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তিনি ঢাকা ডার্মাটোলজি ইনস্টিটিউট, লেজার ট্রিট, ডিএইচআই, ক্লিনিক টুয়েন্টি ওয়ানের প্রধান পরামর্শদাতা এবং এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান। ছাত্রজীবনে খেলাধুলার পাশাপাশি তিনি বিএনপির আদর্শে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সংগঠকমনা ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম খেলাধুলার পাশাপাশি পেশাজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান। মোহামেডান ক্লাবের স্থায়ী সদস্য। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সংস্কারবিষয়ক কমিটির বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য। ড্যাবের (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি। এসথেটিক ডার্মাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, সার্ক অ্যাসোসিয়েশন অব এসথেটিক ডার্মাটোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলা ডার্মার মহাসচিব। এ ছাড়াও তিনি বিএনপির চাঁদপুর জেলা কমিটির সদস্য আবার মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা। উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, বনানী ক্লাব, বারিধারা ক্লাব ও বুট ক্লাবের সদস্য।

বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও খেলাধুলার প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করেন ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। রাজনৈতিক কারণে বিগত সময়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত হতে পারেননি। এখন আবার সব কিছু অনুকূলে আসায় নিজেকে আবার ক্রীড়াঙ্গনে ফিরিয়ে এনেছেন। কাজ করতে চান দেশের ক্রিকেটের জন্য। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘আমার ক্লাব ওয়ান্ডারার্সের সবাই চেয়েছেন আমি বিসিবিতে যাই। আমিও চেয়েছি। আমি জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উপদেষ্টা ছিলাম। আমার সব সময় ইচ্ছা ছিল দেশের জন্য বড় পরিসরে কিছু করা।

আমি মনে করি যে ক্রিকেটার, সংগঠক, চিকিৎসক হিসেবে আমার যা অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটকে আমি কিছু দিতে পারব। একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম থাকলে কাজ করার সুবিধা হয়।’ এবারের নির্বাচনে নতুন ও তরুণ প্রার্থীর আধিক্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরি যারা আছেন তারা ক্রিকেট বোর্ডকে একটা অবস্থানে দাঁড় করিয়ে গেছেন। তারা তাদের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী করেছেন। এখন যে বোর্ডটা আসতেছে সবই নতুন। নিউ ব্লাড, স্পিরিটেড। সবার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, অন্যান্য কানেকশন খুবই ভালো। তারা নতুন পার্সপেক্টিভে যদি চিন্তা করে, আর সিনিয়র যারা আছেন সবাই মিলে আলটিমেটলি ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে শুধু ক্রিকেটার না, আরও অন্য সব ধরনের পেশার লোক লাগে। শুধু ক্রিকেট জ্ঞান থাকলে চলবে না, ম্যানেজমেন্টের জ্ঞানও থাকতে হবে। যারা নির্বাচন করছেন তারা শিক্ষা-দিক্ষা শৌর্য-বীর্য সবদিক দিয়েই আমি মনে করি যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিশীল। কারও বয়সই একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো না। অনেকে বাইরে পড়ালেখা করেছে। এরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্যতা রাখে। তারা ভালো করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ অভিজ্ঞতার ঘাটতি হবে না বলেও মনে করেন ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।

তিনি বলেন, ‘নতুন বোর্ড মনে করি না। ফাহিম সিনহা আছে। রফিক বাবু ভাই আছেন। জেলা পর্যায়েও কয়েকজন আছেন যারা আগে বিসিবিতে ছিলেন। এ ছাড়া পাপ্পু ভাই, মাসুদুজ্জামানের মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকও আছেন। আমার মনে হয় নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে।’ ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে রিলেশন থাকলে তো বোর্ডের কোনো কিছু আদায় করা সহজ হয়। এখানে অনেকেই সরকারের সঙ্গে জড়িত। সরকারের কাছে ইজিলি এক্সেসেবল আছে। এটাকে আমি পজেটিভ হিসেবে নিতে পারি।