বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানোর কীর্তি গড়ল টাইগাররা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটের এই জয়ে শুধু ম্যাচই নয়, এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে গেল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তুলেছিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। পরে বৃষ্টি বাগড়ার কারণে আর ব্যাটিংয়ে নামেনি সফরকারীরা। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়।
ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ ওভারে ৫ উইকেট হাতের রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জিতেছিল শান্ত-লিটনরা।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের টার্গেট তাড়ায় ৩৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। দলের জয়ে ৪২ রান করে করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪০ ও ২২ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। তিনি ৮৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৮ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন জেভিয়ার বার্টলেট।
বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ২ উইকেট নেন তানভির ইসলাম।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৮৬ রানে আউট হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা সৌম্য সরকার। তিনি ৪৭ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করে আউট হন।
সৌম্য আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস। তার সঙ্গে জুটি গড়ার আগেই আউট হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি দলীয় ৯৮ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন। তার আগে ৫৩ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৪২ রান।
দলীয় ১২২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ১৮ বলে ২১ রান করে আউট হন। দলীয় ১৪৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন আগের ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ১৪ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু একটি সিরিজই নিশ্চিত করেনি বাংলাদেশ, বরং ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন এক ইতিহাসও লিখেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উন্মাদনা আর জাতীয় বাজেটের আলোচনার দিনে ক্রিকেটের মঞ্চে সবচেয়ে বড় খবর হয়ে উঠেছে টাইগারদের এই সাফল্য।
এখন বাংলাদেশের সামনে আরেকটি লক্ষ্য। ১৪ জুন সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে মিরাজের দল। সেই ম্যাচে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য কীর্তিও গড়ে ফেলবে বাংলাদেশ।
এসএন/