ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, বিচার দাবি বাবার খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ২১ পরিবারে আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

সরে দাঁড়িয়ে যা বললেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৯ পিএম
সরে দাঁড়িয়ে যা বললেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান
ছবি : সংগৃহীত

বিসিবির নির্বাচনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ঢাকা বিভাগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান। তিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ এনে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ তিনি প্রাথীতা ফিরে পেয়েছিলেন আপিল করে। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তিনি দাঁড়ালেও ব্যালট পেপারে তার নাম থেকে যাবে। তিনি সরে যাওয়াতে ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নির্বাচন থকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তার বলা কথার উল্লেখযোগ্য অংশ খবরের কাগজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আপনারা জানেন, আগামীকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে বিগত সময়ে যা যা ঘটেছে, যত কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, যাই কিছুই ঘটুক, এগুলোর বিষয়ে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে চেম্বার জজের বিচারাধীন ছিল। রিট হয়েছিল, রিটগুলো বিচারাধীন ছিল। রায় আপনারা অবগত আছেন। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে আমি বলতে চাই, আমি ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা এবং জেলা ক্রিকেট সংস্থা সমূহ থেকে আমি প্রার্থী ছিলাম। আপনারা জানেন, আমার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছিল। সেটিও আমি অনেক কষ্ট করে পুনর্বহাল করেছি। 

আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন আমি চাই, যে নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু আপনারা সবকিছুই দেখছেন, জানছেন। আপনাদের মাধ্যমেই আজকে আমারদেশ পত্রিকায় রিপোর্টটাও পড়তে পারেন। ওখানে হেডলাইন এসেছে, বিসিবির নির্বাচন সুসম্পন্ন। নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। আমি নির্বাচনী শিডিউল অনুযায়ী ১ তারিখে ই-ব্যালট, পোস্টাল ব্যালট দেওয়ার কথা ছিল। আমি নির্বাচন কমিশনের সাথে বহুবার দেখা করতে চেয়েছি, আমার সাথে দেখা করেনি। আমি দরখাস্তও দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাদেরকেই দিবেন যারা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যারা সুস্থ, যারা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, যারা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তারা কেন ই-ব্যালটে ভোট দিবেন? ভোটটা কী? ভোট হলো একটি বন্ধন প্রক্রিয়া। 

সকল কাউন্সিলর এক জায়গায় আমরা আসবো, আমরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করব। আপনার জেলার কী সমস্যা, আমার জেলার কী সমস্যা— মতবিনিময় করব, আমরা জানতে পারব। বছরে একটা দিন, সবসময় তো হয় না। সুন্দরভাবে ভোট দিব। যারা জিতবে, তাদের অভিনন্দন জানাব। যারা হারবে, তাদেরকে সমবেদনা জানাব। এই তো ভোট। কিন্তু ভোট কি এই হচ্ছে? আমি এখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন প্রার্থী সম্পর্কে বলতে চাই। তারা একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের লিজেন্ড। আমি লিজেন্ড হিসেবে উনাকে শ্রদ্ধা করি। এবং সারা বিশ্বে উনার খ্যাতি রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেব। উনার উচিত হয়নি এই ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রার্থী হওয়া। উনি কোনোদিনই ঢাকা বিভাগের কোনো জেলারই কোনো সদস্য ছিলেন না। কোনো জেলারই কোনো ক্রিকেট নিয়ে উনি কাজ করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, আপনারা যদি দেখাতে পারেন— কোনো জেলার একটা ক্রিকেট নিয়ে উনি একদিন ঢাকা বিভাগের মতবিনিময় করে অতীতেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, যা বলবেন তাই মেনে নিব। 

আজকে দেখলাম উনি অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। এই ভালো কথাগুলি আগে বলা উচিত ছিল। আমরা এই ভালো প্রক্রিয়ায় সারাটা জীবন নিজেকে ব্যয় করে দিয়েছি আমার জেলায়, পার্শ্ববর্তী জেলা বা অন্য জায়গায়। খুঁজলে দেখবেন, সত্য না মিথ্যা। আমরা বলতে পারি না। উনি আরো দেখেন, যে অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা করেছে, সে অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন কবে? 

উনি যদি অ্যাডহক কমিটির সাথে কাজই করতে চাইতেন, মেম্বার উনি আগেই হতে পারতেন, ৫ তারিখের পরেই হতে পারতেন যে, ‘আমাকে ঢাকা বিভাগের অ্যাডহক কমিটির মেম্বার করা হোক, আমি ঢাকা বিভাগ নিয়ে কাজ করব।’ চাননি। মেম্বার হয়েছেন নির্বাচন শুরু হলে। একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। এবং উনি চিঠি দিয়ে সকল জেলায় অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেছেন। একই প্রকার নাজমুল আবেদিন ফাহিম। উনি গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। তখন আমি ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলাম। আমি সেই প্রসঙ্গে যাইতে চাই না। উনার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হওয়ার দেখেন— ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উনি কবে, কোন সময়, কোন উপজেলায়, ঢাকার কোন বিট নিয়ে কোন সময় মেম্বার ছিলেন, কোন খেলা পরিচালনা করছেন— আমি একটু জানতে চাই। উনিও একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন। তাহলে অত্যন্ত সুকৌশলে সারা দেশের যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকদের যারা যার যার জেলার ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকে, তাদেরকে বিদায় করে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরকে ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর বানিয়েছেন। গেল? তারপর আমি বলব, ঢাকা বিভাগীয় কিছু কাউন্সিলর, আমি নাম ধরে বলতে পারি। রাজবাড়ী জেলার কাউন্সিলর, ফরিদপুর জেলার কাউন্সিলর, গোপালগঞ্জ জেলার কাউন্সিলর, গাজীপুর জেলার কাউন্সিলর— এরা বিগত কয়েকদিন যাবত হোটেল শেরাটনে অবস্থান করছেন। তাদের কি এতই পয়সা আছে? নিজের পয়সায় তারা হোটেল শেরাটনে অবস্থান করে ভোট পরিচালনা করছেন? এর নাম নির্বাচন? আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেবকে আমি এই নির্বাচন, উনি তো একজন ভোটার, আমি উনার কাছে ভোট চাইতে পারি। একটা দিন আমার ফোন রিসিভ করেননি উনি। একদিনও না। বা পালটা কোনো মেসেজও পাঠাননি যে, ‘আমি পরে আপনাকে ব্যাক করতেছি।’ করেননি। এটা তাহলে কিসের ভোট? আমি যদি একজন ভোটারের কাছে ভোটই চাইতে না পারি, কিসের ভোট? আমি চারজন কাউন্সিলরের ফোন নাম্বার এখন পর্যন্ত পাইনি। বিসিবি আমাকে দেয়নি। চারজন কাউন্সিলরের। তাহলে ভোট কি? তাহলে আমি কিভাবে ভোট করব? ভোটটা তো স্বচ্ছ না। 

আমি প্রমাণগুলি দিচ্ছি, আপনি প্রমাণ নেন। তারপরে আমি ই-ব্যালটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ১ তারিখে বললাম যে, ‘আপনারা আজকে ৪টা পর্যন্ত ই-ব্যালটের তথ্য দেওয়ার কথা আমি একজন প্রার্থী। আমাকে তথ্য দিন।’ আমি লিখিতভাবে জানাতে চাইলাম। অফিস বন্ধ। কিচ্ছু নাই। তারা কোথায় বসে? কোনো ঠিকানা নাই। নির্বাচন-এর কাজ থাকবে, নির্বাচন যতদিন চলমান থাকবে, নির্বাচন কমিশন অফিস সবসময় এখানে খোলা থাকবে। আমাদের নানান বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। উনারা আসেননি। বহুবার ফোন করেছি, আমি ফোনের প্রমাণ দেখাইতে পারি। ফোন রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে আমি সিইওর সাথে কথা বললাম। সিইওকে বলার পর সিইও তাদের সাথে কথা বললো। তারা আমাকে তথ্য দিল ৪ তারিখে যে, ৬৩ জন ই-ব্যালট নিয়েছে। আমি বললাম, ‘আমার ৬৩ জন তো জানার দরকার নাই। আমার দরকার আমার বিভাগে কতজন নিয়েছে, কে কে নিয়েছে।’ ‘এই তথ্য তো আমি পেতে পারি।’ 

বলে, ‘এই তথ্য তো আমরা দিতে বাধ্য নই।’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই বাধ্য।’ তাহলে, ‘বলেন আমাকে, আমি নির্বাচন থেকে সরে যাই।’ ফোন রেখে দিল। ফোন আর ধরলেন না। পরবর্তীতে সিইওর মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাকা বিভাগ থেকে ৭ জন ই-ব্যালট নিয়েছেন। আজকে পত্রিকার মাধ্যমে, আজকেও পর্যন্ত আমি নির্বাচনে ছিলাম। আজকেও আমি একজন ভোটারের কাছে, যাকে ফোন করে কোনোভাবেই ধরতে পারিনি। সেই গোপালগঞ্জের ভোটার। গোপালগঞ্জে আমি ভোরবেলা গিয়েছি, তার বাসায় গিয়ে যে, তাকে ধরেছি ভোট দিতে। সেও সেখানে ভয় পায় যে, ‘আমি আপনাকে কিভাবে ভোটটা দিব? আমার ভোটটা তো মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যেভাবে বলবে, আমি সেভাবে ভোট দিব।’

তো নির্বাচন কোথায় আছে? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ডের আমিনুল ফাহিম সাহেবেরা প্লাস নির্বাচন কমিশন— বিনে সুঁতোর মালায় মালা গেঁথে ফেলেছেন। যে মালা আমার গলায় উঁশেনকালেও পরবে না। সুতরাং আমার আমি আজকে আপনাদের মাধ্যমে এই অস্বচ্ছ একটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। তবে ক্রিকেট থেকে নয়, স্পোর্টস থেকে নয়। আমি একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি গর্ব করে বলতে পারি, দুঃসময়ও আমি ক্রিয়ঙ্গলের পাশে থেকেছি, আছি, ভবিষ্যতে থাকব। এটা আমার নেশা, এটা আমার ধ্যানজ্ঞান। এটুকুই আপনাদের কাছে আমার বক্তব্য। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, এখন বলতে পারেন।

কথা বলেছেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে। দিয়েছেন তাদের প্রশ্নের জবাব। পাঠকদের সুবিধার্থে সেটিও তুলে ধরা হলও...

প্রশ্ন: সবাই সরে গেলেন, এই যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেটা ইলেক্টেড হচ্ছে, এই ইলেকশন বোর্ডের, মানে ইলেক্টেড বোর্ডের সঙ্গে আপনারা কি ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবেন? বা আপনাদেরকে জেলা থেকেও সরিয়ে দেবে কিনা— সেই বিষয়ে?

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা তো তাদের পরিকল্পনা, এই বলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে ফেললেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় মনে হয় না নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে উনারা জেলার কাউকে চিনবেন। জেলার কোনো কাউন্সিলর আমার মনে হয় না ওই গেট পার হতে পারবে। এটা আমি বলতে পারি। জেলার পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন, আমি জানি না। কারণ আমি যতটুকু জানি, এই বিগত ৫ তারিখের পর আসিফ মাহমুদ ভুঁইয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে অ্যাডহক কমিটি সারা দেশে সাজিয়েছেন— খুঁজলে দেখবেন, জেলা প্রশাসকও, বিভাগীয় কমিশনারগুলো এই অ্যাডহক কমিটি নিয়েও বিরক্ত। তারাও চাচ্ছে না এই অ্যাডহক কমিটি দিয়ে স্পোর্টস রান করবার। স্পোর্টস বাংলাদেশে অলরেডি মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে জেলা-বিভাগের স্পোর্টস। সুতরাং এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে, আশা শুধুমাত্র ক্রিকেট দিয়ে যে বাংলাদেশকে বের করে নিয়ে আসবেন— উনারা তো পারবেনই না। আর উনাদেরকে কোনো জেলাও রিসিভও করবে না। উনারা জেলায়, আমি যদি একটা জেলার জন্য কাজ না করি, আমি হুট করে গিয়ে জেলায় হ্যান্ড করব, তেন করব, জেলা সেটা সেভাবে মেনে নেবে না। আমার মনে হয় না। ক্রিকেট দেখা যাক ভবিষ্যত কী হয়। তারপরও আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা, যেটা আমি বলতে চাই না, বিগত সময়েও ঘটছে। যতই আমরা বলি, স্পোর্টস রাজনীতির বাইরে। আসলে কি তাই? অতীতে যে কোনো সময় কি আপনারা দেখেছেন কোনো রাজনৈতিক সরকার এসে তাদের লোক ছাড়া স্পোর্টস পরিচালনা করছে? সেরকম, আগামীতে যে নির্বাচন হবে, খুব বেশি না, খুব খুব কাছেই নির্বাচন। সেই নির্বাচন যে দল আসবে, সেই দল যে তার মত করে ক্রিকেট বোর্ড সাজাবে না, তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? এই গ্যারান্টি উনারা দিতে পারবেন না, আমরা দিতে পারব না।

সাংবাদিক: ভাই, আপনার যেটা বললেন, সেটা হলো যে, ওনারা তো গঠনতন্ত্র চেঞ্জ করে ফেলবে। কারণ কাউন্সিলর উনাদের, সবকিছুই উনাদের। তারপর আগামী চার বছর তো আপনারা এখানে আসতেই পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি এইভাবে, বলেন।

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: পাপন সাহেব বিদায় নিয়েছেন, বলতে চাই না। উনার বিদায়টা পলাতক অবস্থার মধ্য দিয়ে হয়েছে। কিন্তু উনি সফল। উনি এমন একটা গঠনতন্ত্র লিখে গেছেন এই ক্রিকেট বোর্ডে, যেটা দিয়ে, যে গঠনতন্ত্র দিয়ে যে কোনো সরকার, যে কোনো ক্ষমতাসীন দল এবং রাষ্ট্র যা খুশি তাই করতে পারবে। আমরা এই গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন চাই। এমন একটা গঠনতন্ত্র চাই, যাতে করে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকেরা তাদের মতামত বাস্তবায়ন করতে পারে, তারা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে, তারা ক্রিকেট বোর্ডে আসতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ের যে ১০ জন পরিচালকের মধ্যে ঢাকা থেকে সবাই হবেন, হঠাৎ করে রাজ-নৈতিকের ছেলে হবেন, হঠাৎ করে অমুক হবেন, তমুক হবেন— এগুলো আমরা আশা করি না। আমরা চাই, যে জেলায় যারা কাজ করবে, তাদের মধ্য থেকেই আমরা যেটা বলেছিলাম, ২০১২ সালে আমি গঠনতন্ত্র কমিটির সদস্য ছিলাম। আমি বলেছিলাম, জেলার কাউন্সিলর হবে কমপক্ষে তাকে ওই জেলার সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে হবে এবং তাকে ওই জেলার কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক অথবা সাধারণ সদস্য মনোনয়ন দিবেন। যেটা ছিল সবচাইতে বাস্তবসম্মত, যেখানে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সেটাকে এই পাপন সাহেবরা বিগত সময়ে এই গঠনতন্ত্রটাকে ইচ্ছামত পরিবর্তন করে এই আজকের যে এই সংকট, এই সংকটের জন্য সুন্দর একটা জায়গা রেখে গেছেন। উনারা কিন্তু সফল সেদিক থেকে। আমি বলব। আরেকটা বিষয় আমি বলি। আজকে ১৩টি ক্লাব বা ১৫টি ক্লাব কোর্টের মাধ্যমে কাউন্সিলরশিপ ফিরে পেয়েছে। আমি একটু পিছনে যেতে চাই। বিগত ৯ বছর আমি ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। জাতীয় লিগে প্রত্যেকটি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা খেলে। বিগত ৯ বছর আমি ৯০ বার ক্রিকেট বোর্ডে ধরনা দিয়েছি। ময়মনসিংহ বিভাগকে জাতীয় লিগে খেলতে দেওয়া হয় নাই। পাশাপাশি বিভাগের কাউন্সিলরশিপ তো দূরের কথা, বিভাগের কোনো কার্যক্রমে এই ক্রিকেট বোর্ড আমাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে নাই। সেই ক্ষেত্রে ১৫টি ক্লাব ঠিকই কাউন্সিলরশিপ পেয়েছে সেই সময়। তাহলে তাদের এই ক্রিকেটকে নষ্ট করার যে মূল অস্ত্র যেটা— গঠনতন্ত্র, সেটাকেই তো তারা নষ্ট করে গেছে।

সাংবাদিক: ভাই, তাহলে আপনি কি ভাবছেন যে এরকম একটা নির্বাচন... যে আইওয়াসটা সামনে আসছে।

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকে যারা বক্তৃতা দিলাম, আমি একটু শুনছি, তা আমি অমুক করব, তমুক করব, আমি জেলা বিভাগে খেয়াল রাখব, আমি জেলা বিভাগের সংগঠকদের জন্য ভাবব— এটা আইওয়াশ। অতীতে আমরা দেখি নাই। আমি আমি ৪২ বছর যাবত ক্রিয়ঙ্গনে আছি, শুধু ক্রিকেটের নির্বাচন না। ফুটবলের নির্বাচন, অন্য সংগঠনের নির্বাচনও আমি সম্পৃক্ত থাকি, যেহেতু জেলার স্পোর্টস নিয়ে আমি কাজ করি। সেই ক্ষেত্রে আমি যা দেখেছি, যখনই কোনো ফেডারেশনে নির্বাচন হয়, তখন ওই জেলার জেলার কাউন্সিলরদের জামাই-আদর, খুবই যত্ন সহকারে ওই নির্বাচন চলাকালীন সময় ঢাকার সংগঠকেরা তাদেরকে গ্রহণ করে। যেই নির্বাচন শেষ, আর ফোন পর্যন্তও ধরে না।

সাংবাদিক: তাহলে বোঝাতে পারেন...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: জি, কোনটা?

সাংবাদিক: এটা নির্বাচন... মানে আগেই হয়ে গেছে, জাস্ট আইওয়াস করতে পারে, ৬ তারিখে?

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকের পত্রিকাই প্রমাণ। ডেকে দেখবেন যে, ৩৫ জন কাউন্সিলরকে একটা কম্পিউটার এবং একটা স্ক্যানার মেশিন দিয়ে, দুইজন দুইজন করে ডেকে ভোট নিয়ে নিয়েছেন। যেটা আজকের আমারদেশ পত্রিকায় দেখেন। এটা তো পোস্টাল ভোটের সিস্টেম না। আপনি পোস্টাল ভোট দিবেন, আপনি নিজের মেইল থেকে। আপনি নিজে একা দিবেন। সেখানে কেউ থাকবে না। বা নির্বাচন কমিশন যদি পোস্টাল ব্যালট আপনাকে এলাও-ই করে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাকে জানাবে, উনি পোস্টালে ভোট দিবেন। তাহলে আমি এজেন্ট চাইব যে, উনি কিভাবে ভোট দিবেন, এটা আমাকে জানতে হবে। এটা কিন্তু তারা করেনি। আজকে আমারদেশ পত্রিকার রিপোর্ট মিলাইয়া দেখেন, শেরাটন হোটেলের যারা অবস্থান করছে, তাদের মিলাইয়া দেখেন— একটা জায়গায় বসে থেকে ৩৫ জনকে ডেকে ডেকে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

সাংবাদিক: ভাই, আপনার সঙ্গে এটা রাতে হয়েছে। মানে রাতে...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতে, রাতে। রাতে। গত রাতে বা তার আগের রাতে। আমরা...

সাংবাদিক: রাতে জাতি...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতের ভোট তো, তো মত ওরা ব্যালট বাক্স ভরছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা ব্যালট বাক্সেরও হার মানাই ফেলছে। হার মানাই ফেলছে। এবং এই অবস্থায় ক্রিকেটের স্বার্থে, আমার সর্বশেষ কথা, এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। এইসব থাকুক, আমরা চাই না। সকলকে নিয়ে এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হোক। সেখানে যেই নির্বাচিত হবে, তাকেই স্যালুট দিব। ধন্যবাদ।

সাংবাদিক: নেক্সট টাইম।

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: নেক্সট টাইম।

নিলয়/

ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি
ছবি: সংগৃহীত

সান্তা ক্লারার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে আজ (১৩ জুন) রাতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কাতার। ম্যাচটি ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন হন্ডুরাসের সাইদ মার্তিনেজ, যার মাধ্যমে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

৩৪ বছর বয়সি মার্তিনেজ ২০১৭ সাল থেকে ফিফা তালিকাভুক্ত রেফারি হিসেবে কাজ করছেন। কাতার-সুইজারল্যান্ড ম্যাচটি পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রথম হন্ডুরিয়ান হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালনের কীর্তি গড়বেন।

হন্ডুরাসের বাসিন্দা সাইদ মার্তিনেজ মাঠে মোটেও নরম মনের রেফারি নন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ১৬৫টি ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি ৬৮৮টি হলুদ কার্ড এবং ৩০টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। অর্থাৎ, ম্যাচ প্রতি গড়ে ৪.১৭টি করে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। তার এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে তিনি মাঠে কতটা কঠোর। তবে অযথা লাল কার্ড দেখানোর প্রবণতা তার নেই।

কনকাকাফ অঞ্চলের বেশ কিছু হাইভোল্টেজ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে তার। তিনি ২০২১ ও ২০২৩ সালের গোল্ড কাপ ফাইনাল, ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগ ফাইনাল এবং ২০২৫ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগের সেমিফাইনাল পরিচালনা করেছেন।

পাপ্পু/অনিক/

মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো এখন আর কোনো ছোট দল হিসেবে পরিচিত হতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলটির কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) ব্রাজিলের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর করবে অ্যাটলাস লায়ন্সরা।

চার বছর আগে কাতারের বিশ্বমঞ্চে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। তবে এবার ওয়াহবি জোর দিয়ে বলেছেন, মরক্কোকে আর আন্ডারডগ ভাবার সুযোগ নেই।

মরক্কো কোচ বলেন, ‘ব্রাজিল আমাদের ভয় পাচ্ছে না, আমরাও তাদের ভয় পাচ্ছি না। আমরা এখন ফুটবলের এক নতুন স্তরে প্রবেশ করেছি, এখন আমাদের অনেক বেশি সম্মান করা হয়। আমাদের এই সম্মান ধরে রাখতে হবে এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে। এখন মরক্কো যেকোনো প্রতিযোগিতায় নামলেই লক্ষ্য থাকে ট্রফি জয় করা।’

ব্রাজিল দল নিয়ে ওয়াহবি বলেন, ‘অনেকেই বলছেন এটি আগের সেই ব্রাজিল নয়। তবে এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ, এমন একটি ম্যাচ দিয়ে আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করাটা আমাদের জন্য সম্মানের।’

মরক্কো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি। ম্যাচটি নিয়ে হাকিমি বলেন, ‘আমরা দুই দলের শক্তিমত্তা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি। এটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে কোনো দলই এককভাবে ফেভারিট নয়।’

২০২৩ সালের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে সেলেকাওদের হারিয়ে চমকে দিয়েছিল এই মরক্কো।

পাপ্পু/অনিক/

নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘সি’ গ্রুপে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে থাকছেন না নেইমার। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাফ ইনজুরিতে (পায়ের পেশিতে চোট) পড়েন ৩৪ বছর বয়সি এই তারকা। ম্যানহাটনে দলের বেস ক্যাম্পে অন্য সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি তিনি।

নেইমারের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনচেলত্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করছেন।’ দলে তার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা তাকে কেবল তার ফুটবলীয় দক্ষতার জন্যই দলে ডাকিনি। বরং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে তার অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে ওঠার কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে।’

বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার গত বেশ কিছু সময় ধরে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি আর ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেননি। ফিটনেস সমস্যার কারণে এ বছর ক্লাব পর্যায়েও তার অংশগ্রহণ ছিল বেশ সীমিত। সান্তোসের হয়ে ঘরোয়া ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে মাত্র অর্ধেক ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি।

ব্রাজিলের হয়ে গত তিনটি বিশ্বকাপে খেলা এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে এবারের স্কোয়াডে রাখাটা তার সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে তার অভিজ্ঞতা এবং ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার মর্যাদা তাকে আনচেলত্তির পরিকল্পনায় এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।

পাপ্পু/অনিক/

‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’, বললেন প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’, বললেন প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। তবে ফেরার ম্যাচটি মোটেও সুখকর হয়নি লাতিন আমেরিকার এই দলটির। আজ (১৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু তাদের। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো এই হারকে বলেছেন একটি ‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’।

বিশ্বকাপে ফেরার বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচটিতে প্যারাগুয়েকে রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের গতি ও আগ্রাসী ফুটবলের সামনে মাঠের প্রতিটি প্রান্তেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তাদের।

‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচ শেষে আলফারো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একদম ন্যায্য এবং পরিষ্কার ব্যবধানে জিতেছে। তারা আমাদের থেকে কৌশলগত, কারিগরি এবং শারীরিকভাবে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আবেগকে একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়। এখানে যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, একাগ্রতা এবং খুঁটিনাটি ভুলত্রুটি এড়িয়ে চলা।’

চার গোল হজম করলেও গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার আশা এখনই ছেড়ে দিচ্ছেন না এই আর্জেন্টাইন কোচ। গোল ব্যবধানের চেয়ে পয়েন্ট অর্জনই প্যারাগুয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় পয়েন্ট পাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বকাপ আজ কেবল শুরু হলো, আজই শেষ হয়ে যায়নি।’

গ্রুপপর্বে প্যারাগুয়ের পরবর্তী ম্যাচ তুরস্কের বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার।

পাপ্পু/অনিক/

ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সম্ভাব্য সব ট্রফিই জিতেছেন তিনি। তবুও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে তার মতো অভিজ্ঞ কোচের বুকেও এক চিলতে ভয়ের কাঁপন জাগে। তবে এই ভয়কে তিনি বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘স্নায়ুচাপ কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা। বিশেষ করে মরক্কোর মতো দলের বিপক্ষে, যারা গত বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে সেমিফাইনালে খেলে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনার মনে যদি ভয় না থাকে এবং আপনি যদি অসতর্ক থাকেন, তবে সামনে সিংহ দেখলেও তাকে বিড়াল মনে করে ভুল করতে পারেন। ভয় মূলত আপনার জীবন বাঁচাতে পারে। সর্বদা সতর্ক এবং মনোযোগী থাকা ভালো, যাতে দল মাঠে একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিতে পারে এবং কোনো আকস্মিক ধাক্কার শিকার না হয়।’

ইতিহাসের একমাত্র কোচ হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের শিরোপা জয়ের কীর্তি রয়েছে আনচেলত্তির। এবার তার কাঁধে দায়িত্ব ব্রাজিলের বহুল প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার। বিশ্বকাপের এই বিশাল মঞ্চের চাপকে ভয় না পেয়ে বরং উপভোগ করতে চান তিনি।

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তটিকে আনন্দের সাথে উপভোগ করতে চাই, কারণ এটি আমার জীবনের গল্পে একটি চমৎকার অধ্যায়। আমার খুব ভালো লাগছে। আশা করি এই দলকে সফল করতে যে ধরনের কাজ করা প্রয়োজন, তা আমি করতে পারব।’

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেকাওরা।

পাপ্পু/অনিক/