প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন মারিয়া মান্দা। দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন। মাঝে তো তার নেতৃত্বে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক আসরে শিরোপাও জিতেছে বাংলাদেশ। তবে এত কিছুর মাঝে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে একটা গোল অধরা থেকে গিয়েছিল ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের এই কন্যার। গত মঙ্গলবার এই অপেক্ষার ইতি টেনেছেন তিনি। ত্রিদেশীয় সিরিজে ইউরোপের দল আজারবাইজানের বিপক্ষে করেছেন দৃষ্টিনন্দন এক গোল। যে গোল সমর্থকদের জন্য চোখে লেগে থাকার মতো। আর একজন মারিয়া মান্দার জন্য তো চিরস্মরণীয়ই। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল বলে কথা। সেটাও দীর্ঘ অপেক্ষার পর।
আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ১৯ মিনিটে সেভিঞ্জ জাফরজাদার গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ মিনিটে মারিয়া মান্দার নৈপুণ্যে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ে দেখার মতো এক ভলিতে গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার। যে গোল নিয়ে এখনো সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা। গোলটি নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল খবরের কাগজকে মারিয়া বলেন, ‘আমি ভাবিনি যে ওটা গোল হয়ে যাবে। শটটা যখন মারলাম, তখন মনে হয়েছিল বলটা হয়তো পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত ওপরের কোনা দিয়ে গোল হয়ে গেছে।’
চার দিনের ছুটিতে গতকাল ঢাকা থেকে বাড়ি গেছেন মারিয়া। বাড়ি ফেরার পথেই মুঠোফোনে তিনি আরও বলেন, ‘গোলটা যখন হলো, তখন খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে এক গোলে পিছিয়ে থাকার পর ওই গোলের মাধ্যমে দল কামব্যাক করে। এ জন্যই ভালো লাগাটা বেশি ছিল।’
অবশ্য ম্যাচটা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ২-১ এ হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাটলার শিষ্যদের। হার নিয়ে মারিয়া বলেন, ‘আজারবাইজান আসলে অনেক ভালো দল। তবে আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। এক দল জিতবে, এক দল হারবে। এটাই তো ফুটবল। আমরা যখন বড় দলের বিপক্ষে খেলি, তখন ভালো কিছু শেখা হয়। এই ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। পরবর্তীতে যা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে অপর দল ছিল মালয়েশিয়া। মেয়েদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯২তম স্থানে থাকা দলটির বিপক্ষে ১-০ গোলে হার দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ৭৪তম স্থানে থাকা আজারবাইজানের বিপক্ষে হার দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করে ১০৪তম স্থানে থাকা বাটলার শিষ্যদের। সিরিজের দুই ম্যাচের দুটিতেই হারায় খারাপ লাগা আছে মারিয়ার। তবে তৃপ্তিও আছে তার। তৃপ্তিটা নিজেদের সেরা দিয়ে খেলতে পারার, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’