বাংলাদেশের যে-কোনো সংগঠনের নির্বাচন মানেই ‘প্যানেল’। সেটা দৃশ্যমান হোক কিংবা অদৃশ্যমান। তবে সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক সংগঠনের নির্বাচনেই প্যানেল দৃশ্যমান থাকে না। এদিকে ক্রীড়াঙ্গনে জোর গুঞ্জন, বিসিবির ৭ জুনের নির্বাচনে তামিম ইকবাল একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু তামিম ইকবাল কখনো কোথাও বলেননি তিনি প্যানেলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বা প্যানেল তৈরি করছেন। তিনি নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। যার ইচ্ছা হবে নির্বাচন করবেন। সেখানে কারও বিন্দুমাত্র কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। বর্তমানে তামিম ইকবাল অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। নির্বাচিত হয়ে আসলে তিনি আবারও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু নির্বাচনে আগ্রহীরা চাচ্ছেন তার সঙ্গে থাকতে?
বিসিবির তিন ক্যাটাগরির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি নিয়ে। এই ক্যাটাগরিতে সব ডাকসাইটে প্রার্থীরা অংশ নিয়ে থাকেন। এখান থেকেই পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। একটি সূত্রে জানা গেছে তামিম ইকবালের (ওল্ড ডিওএইচএস) সঙ্গে যারা নির্বাচন করতে পারেন তারা হলেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির ফাহিম সিনহা (আবাহনী), রফিকুল ইসলাম বাবু ( ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স)। এছাড়া আছেন মাসুদুজ্জামান (মোহমেডান), শাহনিয়ান তানিম নাভিন (মেরিনার ইয়াংস ক্লাব), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), আসিফ রাব্বানি (শাইনপুকুর), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (ওয়ান্ডারারার্স ক্লাব)। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের তানজিল চৌধুরী, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাবের হানিফ ভূঁইয়া, গোপীবাগ ফ্রেন্ডিস অ্যাসোসিয়েশনের এএইচএম সাইফুল ইসলাম সপু, বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের জিয়াউর রহমান তপুর নামও শোনা গেছে। তানজিল চৌধুরী ও হানিফ ভূঁইয়া নির্বাচন করবেন না বলে জানা গেছে। বাকি দুজনও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না করতে পারেন। তবে এদের বাইরে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লুৎফুর রহমান বাদল ও ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্সের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন গতকাল মনোনয়নপত্র কিনেছেন। আজও মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে। যে কারণে আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
এদিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিভাগে থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান (জামালপুর জেলা) ও সাঈদ বিন জামান (ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা), চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু (চট্টগ্রাম জেলা) ও বিসিবির সাবেক পরিচালক মঈন উদ্দিন চৌধুরী কামরু (লক্ষ্মীপুর জেলা), খুলনা বিভাগ থেকে মো. শফিকুল আলম (খুলনা জেলা) ও শান্তনু ইসলাম (যশোর জেলা), রাজশাহী বিভাগ থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত (বগুড়া জেলা), সিলেট বিভাগ থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর (সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) নির্বাচিত হয়ে আসাটা সময়ের ব্যাপার। এই সব জায়গায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরিশাল বিভাগে মো. মিজানুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সেখানে ভোলা জেলার কাউন্সিলার মো. মুনতাসির আলম চৌধুরীও নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে এই বিভাগে নির্বাচন হতে পারে। একইভাবে নির্বাচন হতে পারে রংপুর বিভাগে। এখান আগ্রহী প্রার্থী হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা ফয়সাল আমীন ও গাইবান্ধার মো. শহীদুজ্জামান শহীদ।
‘সি’ ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলার বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মো.আলমগীর বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। তার সঙ্গে নির্বাচন করার কথা শুনা গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলার সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পালের। এদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে গতকাল এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) কাউন্সিলার জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।