আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে একজন জাত সংগঠক বলা যায়। তা যেমন রাজনৈতিক সংগঠন, তেমনি সামাজিক সংগঠন, আবার খেলাধুলার সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। এ রকম বহুমুখী সম্পৃক্ততার কারণে এবারের বিসিবির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরও তার রাজনৈতিক পরিচয়টা বেশি সামনে আসেনি। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর এই ক্রীড়া সংগঠক পরিচয়ের কারণেই তিনি কোনো কমিটিতে না থাকার পরও বিসিবির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিপিএলের সিলেট পর্ব দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুর গ্রামের সন্তান আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবারই প্রথম বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত হয়ে আসেননি। এর আগে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হয়ে ২০০১-০৬ মেয়াদে তিনি প্রথম বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ সময় সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নির্মাণে ন্যাশনাল টি বোর্ডের আওতাধীন লাক্কারতুড়া চা-বাগানের জায়গা বরাদ্দ নিতে গুরুত্ব ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়াও তিনি অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিজ্ঞ সংগঠক মাহবুব আনামের সঙ্গে থেকে বিসিবির এইচআর পলিসি তৈরিতে কাজ করেন। ২০০৮ সালেও তিনি বিসিবির কাউন্সিলর হয়েছিলেন সিলেট শিক্ষাবোর্ড থেকে। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও ফারুক আহমেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে পারেননি। এরপর আর বিসিবিমুখী হতে পারেননি। দীর্ঘ বিরতির পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে তিনি সিলেট জেলা থেকে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষর করা চিঠির কারণে অন্য জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলরদের মতো তার কাউন্সিলরশিপও বাতিল হয়ে যায়।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিসিবিতে জড়িত হওয়ার আগে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সদস্যও ছিলেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নিজেকে গড়ে তুলেন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথমে সাগঠনিক সম্পাদক, পরে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি একাধারে সিলেট জেলা বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। বিগত নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল মনোনয়ন দিয়েছিল যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালিককে। দলের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট জেলার ৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। তারই প্রতিদান তিনি পান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ঢাকাস্থ বৃহত্তর সিলেটবাসীদের সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনে ৪ মেয়াদে ১২ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। জালালাবাদ ট্রাস্ট ভবনের সাধারণ সম্পাদকও তিনি। শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের বর্তমান সদস্যও। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিসিবির গঠনতন্ত্রে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগের কাউন্সিলর ৫ জন। এর মাঝে আবার হবিগঞ্জ থেকে কারও নাম জমা হয়নি। সিলেট বিভাগের বাকি ৪ কাউন্সিলরের মাঝে সুনামগঞ্জের কাউন্সিলর দেলওয়ার হোসেন মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আর জমা দেননি। ফলে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন। বিসিবিতে আবার ফিরে আসতে পেরে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী খুবই খুশি।
খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আত্মার সম্পর্ক। সেই ক্রিকেটকে নিজের অবস্থান থেকে কিছু একটা দেওয়ার আবার সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার জন্য অনেক আনন্দের। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার বিভাগের কাউন্সিলরদের তারা আমাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার জন্য। জাতীয় দলে বর্তমানে সিলেটের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার খেলছেন। আমি চাইব এই সংখ্যা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়। সেজন্য আমি গ্রাম থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার জন্য কাজ করব। খেলার অবকাঠামো বৃদ্ধি করব।’ রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মীর খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকতেই পারে। দেখার বিষয় সেখানে রাজনীতি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, না তিনি খেলাধুলার জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন? আমি যখন প্রথম বিসিবিতে পরিচালক হয়েছিলাম, তখন হয়তো আমার রাজনৈতিক পরিচয়টা ছিল। কিন্তু এখন তো আর শুধু রাজনৈতিক পরিচয়টা মুখ্য নয়। আমি এসেছি একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই।’