ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার গোপালগঞ্জে ইজিবাইকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় শাহরাস্তিতে ১৮ মামলার আসামি ‘সাদা আনোয়ার’ গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
Nagad desktop

সন্দেহের নীল বিষ ভালোবাসার সম্পর্ককে নষ্ট করে যা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ভালোবাসার সম্পর্ককে নষ্ট করে যা
ছবি এআই

ভালোবাসার মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস। একটি ছোট চারাগাছ যেমন পানি আর রোদের ছোঁয়ায় বেড়ে ওঠে, একটি সম্পর্কও তেমনি একে অপরের প্রতি অগাধ আস্থা আর শ্রদ্ধার ওপর ভর করে পূর্ণতা পায়। কিন্তু এই সুন্দর সম্পর্কের বাগানে মাঝে মধ্যেই আগাছার মতো জন্ম নেয় ‘সন্দেহ’। বিষণ্নতা আর নিরাপত্তাহীনতার সংমিশ্রণে তৈরি এই অনুভূতিটি এতটাই শক্তিশালী যে, এটি মুহূর্তেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তিলে তিলে জমানো ভালোবাসাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বয়সের সম্পর্কগুলোতে আবেগের আধিক্য বেশি থাকায় সন্দেহের প্রবণতাও একটু বেশি দেখা যায়। সঙ্গীর ফোনের পাসওয়ার্ড জানা থেকে শুরু করে সে কার  সঙ্গে  কথা বলছে–সবকিছু নিয়ে অতি-উৎকণ্ঠা অনেক সময় ভালোবাসার চেয়ে দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কেন সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হয় এবং কীভাবে এই মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আস্থার জায়গাটি আবার মজবুত করা যায়।

সন্দেহ আসলে কী এবং কেন হয়?
সন্দেহ হলো এক ধরনের মানসিক নিরাপত্তাহীনতা। যখন একজন মানুষ মনে করতে শুরু করেন যে তার সঙ্গী হয়তো তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না বা অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, তখন থেকেই সন্দেহের বীজ বপন হয়। এর পেছনে অনেক সময় পুরোনো কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা অতিরিক্ত অধিকারবোধ কাজ করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যারা ছোটবেলায় পারিবারিক অস্থিরতা দেখে বড় হয়েছেন কিংবা অতীতে যাদের বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে, তাদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে সঙ্গীকে সন্দেহ করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অবারিত ব্যবহারও এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যোগাযোগের অভাবই সন্দেহের মূল
যেকোনো সমস্যার সমাধানে আলোচনার বিকল্প নেই। সম্পর্কে যখন খোলাখুলি কথা বলার সুযোগ কমে যায়, তখনই মানুষ নিজের মতো করে নানা কাল্পনিক গল্প সাজাতে শুরু করে। সঙ্গী কেন দেরিতে ফোন ধরল বা কেন তার মেজাজ আজ খারাপ–তা সরাসরি না জিজ্ঞেস করে আমরা যখন নিজের মনে উত্তর খুঁজতে থাকি, তখনই সেখানে সন্দেহের প্রবেশ ঘটে। সুস্থ সম্পর্কের জন্য একে অপরের সঙ্গে মনের সবটুকু দ্বিধা শেয়ার করা জরুরি। যদি কোনো বিষয় নিয়ে আপনার মনে খটকা লাগে, তবে তা মনে পুষে না রেখে শান্তভাবে সঙ্গীকে জানান।

সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল জগৎ
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সঙ্গীর কোনো পোস্টে কে রিঅ্যাক্ট দিল বা কে কমেন্ট করল–এসব নিয়ে খুঁটিনাটি গবেষণা করা এখনকার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় রোগ। অনলাইনে ‘অ্যাক্টিভ’ থাকা সত্ত্বেও রিপ্লাই দিতে দেরি হওয়াকে অনেকে অবহেলা মনে করেন। এই ডিজিটাল ইঁদুর-দৌড় সম্পর্কের গভীরতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন, ভার্চুয়াল জগৎই সব নয়। কারও ওয়ালে কমেন্ট করা বা কোনো ছবি লাইক দেওয়া মানেই সম্পর্কের অবনতি নয়। পারসোনাল স্পেসের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে সেই সম্পর্ক খুব দ্রুত বিষিয়ে ওঠে।

ফোনের পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ভালোবাসা মানেই কি একে অপরের ফোনের পাসওয়ার্ড জানা? বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন, পাসওয়ার্ড শেয়ার না করা মানেই কোনো কিছু গোপন করা। এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রতিটি মানুষের একটি নিজস্ব জগৎ থাকে, যেখানে তার পরিবার, পুরোনো বন্ধু এবং একান্ত ব্যক্তিগত কিছু বিষয় থাকে। সঙ্গীর ফোন লুকিয়ে চেক করা বা তার অগোচরে মেসেজ পড়া কেবল অনৈতিকই নয়, বরং এটি আপনার নিজের দুর্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। আপনি যদি সঙ্গীকে বিশ্বাস করতে না পারেন, তবে জোর করে পাসওয়ার্ড নিয়ে সেই বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব নয়।

নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর কাজ করুন
অনেকে সঙ্গীকে সন্দেহ করেন কারণ তারা মনে করেন যে তারা নিজেরা সঙ্গীর যোগ্য নন। এই হীনম্মন্যতা থেকেই ভয় তৈরি হয় যে, সঙ্গী হয়তো অন্য কারও কাছে চলে যাবে। মনে রাখবেন, আপনার সঙ্গী আপনাকে ভালোবেসে আপনার সঙ্গেই আছে। নিজের ক্যারিয়ার, শখ এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশে মনোযোগ দিন। আপনি যখন নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী হবেন, তখন সঙ্গীকে হারানোর ভয় আপনার মনে বাসা বাঁধতে পারবে না। একজন স্বনির্ভর এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষের অন্যের ওপর অতিনির্ভরশীল হয় না।

তুলনার ফাঁদ থেকে মুক্তি
আমরা প্রায়ই নিজেদের সম্পর্কের  সঙ্গে অন্যের সম্পর্কের তুলনা করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের পোস্ট করা রোমান্টিক ছবি দেখে আমরা ভাবতে শুরু করি, ‘ওরা কত সুখী, আমাদের কেন এমন হয় না?’ বা ‘আমার সঙ্গী তো ওদের মতো সারপ্রাইজ দেয় না।’ এই তুলনা থেকেই অসন্তোষ এবং পরে সন্দেহের জন্ম হয়। মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সবকিছু বাস্তব নয়। পর্দার ওপারটা সব সময়ই সুন্দর দেখায়। নিজের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখলে সন্দেহের মেঘ কাটতে শুরু করবে।

অধিকারবোধ বনাম নিয়ন্ত্রণ
ভালোবাসা মানে অধিকার, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নয়। আপনি আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন মানেই এই নয় যে, তিনি কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন তা আপনি নির্ধারণ করে দেবেন। সুস্থ সম্পর্কে একে অপরের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সঙ্গীকে যখন আপনি খাঁচায় বন্দি করতে চাইবেন, তখন তিনি সেখান থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজবেন। কিন্তু যখন আপনি তাকে ডানা মেলার স্বাধীনতা দেবেন এবং ভরসা করবেন, তখন তিনি স্বেচ্ছায় আপনার কাছে ফিরে আসবেন। অতিরিক্ত ‘পজেসিভনেস’ কোনোভাবেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না।

পুরোনো ট্রমা কাটিয়ে ওঠা
যদি আপনার আগের কোনো সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকে, তবে তার প্রভাব বর্তমান সম্পর্কের ওপর পড়তে দেবেন না। আপনার বর্তমান সঙ্গী আপনার প্রাক্তন সঙ্গীর মতো নাও হতে পারেন। আগের যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে নতুন কোনো মানুষের বিচার করা অন্যায়। যদি নিজের মনের ভয়গুলোকে কাটাতে কষ্ট হয়, তবে সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। তাকে জানান যে আপনার কিছু বিষয়ে ট্রমা আছে এবং এ ক্ষেত্রে তার সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা থাকলে যেকোনো দেয়াল ভেঙে ফেলা সম্ভব।

বিষাক্ত সম্পর্ক চেনার উপায়
সন্দেহ সব সময় অমূলক হয় না। কখনো কখনো সঙ্গী সত্যিই আপনাকে ঠকাতে পারেন। যদি সঙ্গীর আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখেন, বারবার মিথ্যা বলার প্রমাণ পান এবং সেটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চরম আঘাত হানে, তবে সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে অবশ্যই যথেষ্ট প্রমাণ এবং তথ্য থাকা প্রয়োজন। স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয়।

আস্থার বাগান নতুন করে সাজানো
যদি কোনো কারণে সম্পর্কে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়, তবে তা সারিয়ে তোলার চেষ্টাও দুজনকেই করতে হবে। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরের আস্থা অর্জন করুন। একে অপরকে সময় দিন, ফোনে ডুবে না থেকে সরাসরি কথা বলুন এবং একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। ভালোবাসা হলো একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। এখানে ভুল হবেই, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রাখাই হলো সার্থকতা।

শেষ কথা হলো, সন্দেহ হলো এক ধরনের উইপোকা, যা ভেতর থেকে সম্পর্ককে খেয়ে ফেলে। ভালোবাসা মানে একে অপরের মনের আয়না হওয়া, আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা নয়। তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে এটুকুই বলার–যাকে ভালোবাসেন, তাকে বিশ্বাস করতে শিখুন। বিশ্বাস ভাঙার ভয় সব সময়ই থাকে, কিন্তু সেই ভয়ের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি অনেক বড়। নিজের ওপর এবং সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখুন। মনে রাখবেন, সন্দেহ দিয়ে কখনো কাউকে ধরে রাখা যায় না, বরং বিশ্বাস দিয়েই একটি সুন্দর এবং স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। আস্থার আকাশে সন্দেহের মেঘ সরিয়ে ভালোবাসার রোদ্দুর ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি তরুণ হৃদয়ে।

ভুল হয়ে গেছে, এখন...!

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ভুল হয়ে গেছে, এখন...!
কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। ছবি এআই

মানুষ মাত্রই ভুল। চলার পথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বা আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু করে ফেলি, যা অন্যায়। সেই ভুলের বোঝা বয়ে বেড়ানোটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অন্যায় করার চেয়েও বড় অন্যায় হলো সেই ভুল নিয়ে জেদ ধরে বসে থাকা বা তা অস্বীকার করা। তারুণ্যের এই বয়সে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাই হলো প্রকৃত সাহসিকতা। জানাচ্ছেন আশরাফ হোসেন


অপরাধবোধকে ইতিবাচকভাবে নিন

কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। এই অপরাধবোধ আপনাকে অপরাধী বানানোর জন্য নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিষণ্নতায় না ভুগে বরং ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আপনি ঠিক কোথায় ভুল করেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি মানসিক শক্তির পরিচয়।

দায়বদ্ধতা স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

অন্যায়টি যদি অন্য কারও সঙ্গে হয়ে থাকে, তবে প্রথম কাজ হলো নিঃসংকোচে ক্ষমা চাওয়া। অজুহাত না দেখিয়ে সরাসরি নিজের দোষ স্বীকার করুন। অনেক সময় আমরা ‘কিন্তু’ বা ‘তবে’ যোগ করে নিজের অন্যায়কে হালকা করার চেষ্টা করি, যা সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ায়। আপনি যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন বা কারও ক্ষতি করে থাকেন, তবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, একটি ছোট্ট ‘সরি’ অনেক বড় বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারে।

ক্ষতিপূরণের চেষ্টা

শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, যদি সম্ভব হয় তবে সেই অন্যায়ের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কারও কোনো বস্তুগত ক্ষতি করেন, তবে তা সারিয়ে দিন বা বদলে দিন। আর যদি মানসিকভাবে কাউকে আঘাত করেন, তবে আপনার ভালো ব্যবহার দিয়ে সেই ক্ষত ভরাট করার চেষ্টা করুন। আপনার কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হওয়া উচিত যে আপনি সত্যিই অনুতপ্ত।

নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন

অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কাছেও ক্ষমা পাওয়া জরুরি। অনেকেই আছেন যারা একটি ভুলের জন্য মাসের পর মাস নিজেকে দোষারোপ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। এতে জীবন থমকে যায়। মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিন কিন্তু সেই ভুলকে আপনার পরিচয় হতে দেবেন না। নিজেকে কথা দিন যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অন্যায় আপনি আর করবেন না।

নতুন শুরুর সংকল্প

অতীতকে আমরা বদলাতে পারব না, কিন্তু বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। যে পরিস্থিতির কারণে আপনি অন্যায়টি করেছিলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড় কেউ বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। জীবন আমাদের প্রতিটা মোড়েই নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন উন্নত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হোক লক্ষ্য।

মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক
ছবি এআই

বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করার ধরনটি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় ভুগি–একটু কি মেকআপের ছোঁয়া দেব, নাকি একেবারে ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক সাজেই বাইরে বের হব? সৌন্দর্য আসলে আপেক্ষিক, তবে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কোনটি বেশি মানানসই, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। লিখেছেন ফিজা হাফিজা

মেকআপ: আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা

মেকআপ মানেই কিন্তু মুখমণ্ডল পাল্টে ফেলা নয়। বরং মেকআপ হলো নিজের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলোকে ফুটিয়ে তোলার একটি শিল্প। অনেক সময় রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে চোখের নিচে কালি পড়ে বা ক্লান্তির ছাপ দেখা দেয়; সামান্য কনসিলার বা কাজল সেই ক্লান্তি ঢেকে দিয়ে নিমেষেই এক চিলতে সতেজতা এনে দেয়। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, উৎসব বা ফটোশুটের ক্ষেত্রে মেকআপ আমাদের আত্মবিশ্বাসকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া বর্তমানে ‘নো মেকআপ’ মেকআপ লুক বেশ জনপ্রিয়, যা মেকআপ ব্যবহার করেও আপনাকে একটি স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক চেহারা উপহার দেয়।

ন্যাচারাল লুক: স্বকীয়তার জয়গান

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল লুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সারল্য। যখন আপনি কোনো প্রসাধন ছাড়াই বাইরে বের হন, তখন আপনি নিজের আসল ত্বকের ওপর আপনার আস্থার পরিচয় দেন। ন্যাচারাল লুকে থাকার মানে হলো নিজের খুঁতগুলোকে (যেমন–তিল বা দাগ) ভালোবেসে গ্রহণ করা।
আজকালকার কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ভারী মেকআপ করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ন্যাচারাল লুকে থাকলে ত্বক প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে এবং লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ভয় থাকে না। যারা কৃত্রিমতার চেয়ে স্নিগ্ধতাকে বেশি প্রাধান্য দেন, তাদের কাছে ন্যাচারাল লুকই সেরা।

কোনটা ভালো এবং কেন?

আসলে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করে সময় এবং পরিস্থিতির ওপর।
ত্বকের স্বাস্থ্য: নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ বা র‍্যাশ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুস্থ ত্বকের জন্য ন্যাচারাল থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিবেশ: বিয়েবাড়ি বা আড্ডায় একটু মেকআপ মানিয়ে গেলেও ক্লাস বা নিয়মিত অফিসে হালকা সাজ বা ন্যাচারাল থাকাই স্বস্তিদায়ক।
ব্যক্তিত্ব: আপনার যদি রং নিয়ে খেলতে ভালো লাগে, তবে মেকআপ আপনার জন্য একটি মাধ্যম। আর যদি আপনি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন, তবে ন্যাচারাল লুকই আপনার পরিচয়।

ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি

সৌন্দর্যের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি যদি মেকআপ করতে ভালোবাসেন, তবে অবশ্যই ভালো মানের প্রসাধন ব্যবহার করবেন এবং দিন শেষে তা পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। আর যদি ন্যাচারাল থাকতে চান, তবে সঠিক স্কিনকেয়ার বা ত্বকের যত্ন নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকই হলো আসল সৌন্দর্য।

পরিশেষে বলা যায়, আপনি কাজল মাখা চোখ বা একদম সাদামাটা মুখ–যেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করুন না কেন, আপনার আত্মবিশ্বাসই হবে আপনার আসল সৌন্দর্য। নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন, কারণ আপনি যেমন, আপনি তেমনই সুন্দর।

ঘরকুনো স্বভাব অজান্তেই নিজের যা ক্ষতি করছেন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
অজান্তেই নিজের যা ক্ষতি করছেন
ছবি এআই

মানুষ সামাজিক জীব। আদিম যুগ থেকে মানুষ দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং ঘরোয়া বিনোদনের আধিক্যে আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন ‘ঘরকুনো’ হয়ে পড়ছে। সারাক্ষণ ঘরের কোণে বসে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা গেমসের দুনিয়ায় মগ্ন থাকাটা আপাতদৃষ্টিতে আরামদায়ক মনে হলেও, এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিকগুলো আমাদের অজান্তেই জীবনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

শারীরিক সক্ষমতা হারানো

ঘরের চার দেয়ালে বন্দি থাকার সবচেয়ে বড় কুফল হলো শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। সারা দিন বসে বা শুয়ে থাকার ফলে শরীরে মেদ জমে যায়, যা অল্প বয়সেই স্থূলতা বা ওবেসিটির দিকে ঠেলে দেয়। সূর্যের আলো শরীরে না লাগায় ভিটামিন-ডির অভাব দেখা দেয়, যা হাড়কে দুর্বল করে ফেলে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং ঘাড় ও পিঠের ব্যথার মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

মানুষ যখন বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তখন তার মধ্যে একঘেয়েমি ও একাকিত্ব দানা বাঁধে। ঘরকুনো স্বভাবের কারণে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা এবং অ্যাংজাইটির মতো মানসিক সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রকৃতির সতেজ বাতাস এবং খোলা আকাশ মনের ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, চার দেয়ালের কৃত্রিম আলো তা কখনোই দিতে পারে না।

সামাজিক দক্ষতার অভাব

তারুণ্য হলো মেলামেশা এবং নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়। কিন্তু সারাক্ষণ ঘরে থাকলে বাইরের জগতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা ‘সোশ্যাল স্কিল’ তৈরি হয় না। এতে করে বাস্তব জীবনে কারও সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করা বা জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পাওয়ার (সোশ্যাল ফোবিয়া) মতো সমস্যা তৈরি হয়। এটি পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া
নতুন পরিবেশ, নতুন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করলে ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশ ঘটে না। ঘরকুনো মানুষরা সাধারণত কম আত্মবিশ্বাসী হয় এবং তারা যেকোনো পরিবর্তনকে ভয় পায়। এতে করে সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবন একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে।

শেষ কথা

ঘর আমাদের নিরাপদ আশ্রয়, কিন্তু তা যেন কারাগার না হয়ে ওঠে। তারুণ্যের ধর্মই হলো অজানাকে জানা এবং অজেয়কে জয় করা। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত কিছুটা সময় বাইরে বের হন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পার্কে হাঁটুন কিংবা বিকেলে খোলা মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করুন। মনে রাখবেন, জানালা দিয়ে আকাশ দেখা আর খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা–এ দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

তারুণ্যের স্বাস্থ্য ডায়েট এবং ফিটনেসের সাতকাহন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ডায়েট এবং ফিটনেসের সাতকাহন
ছবি এআই

তারুণ্য মানেই প্রাণশক্তি, অদম্য সাহস আর আগামীর স্বপ্ন। জীবনের এই সোনালি সময়ে আমরা অনেক সময় নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা উদাসীন থাকি। রাত জেগে কাজ করা, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক–এই সবকিছুই আমাদের অজান্তে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে চলেছে। বর্তমানে ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে স্থূলতা, ক্লান্তি এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যাগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠছে। একটি সুস্থ জাতি গঠনে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস বজায় রাখা কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং এটি সময়ের দাবি।

কেন তরুণদের জন্য ডায়েট ও ফিটনেস জরুরি?

অনেকে মনে করেন ডায়েট মানেই হচ্ছে না খেয়ে থাকা। আসলে ডায়েট শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা। তারুণ্যের এই বয়সে শরীরের গঠন পূর্ণতা পায়, হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। সঠিক পুষ্টি এবং নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়া এই বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন–ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শক্তির মূল উৎস সুষম খাদ্যতালিকা

তরুণদের সারা দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার গঠন কিংবা সৃজনশীল কাজে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। এই শক্তি আসে আমাদের খাবার থেকে।
শর্করা ও প্রোটিন: ভাত বা রুটির পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন যেমন–মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল থাকা জরুরি। প্রোটিন শরীরের কোষ গঠনে এবং পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।
শাকসবজি ও ফলমূল: প্রতিদিনের তালিকায় রঙিন শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল রাখা উচিত। এগুলো থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
চিনি ও লবণের পরিমিত ব্যবহার: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

শুধু ডায়েট করলেই হবে না, শরীরকে সচল রাখা বা ফিটনেসের জন্য ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে।
হাঁটা বা দৌড়ানো: জিম করার সময় না থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানো যেতে পারে।
পেশি গঠন: তরুণদের জন্য ওয়েট লিফটিং বা পুশআপের মতো ব্যায়ামগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
খেলার মাঠের গুরুত্ব: ভিডিও গেমসে আসক্ত না হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টনের মতো আউটডোর গেমসে সময় দিলে শারীরিক ফিটনেস দ্রুত ফিরে আসে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের সম্পর্ক

শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যখন আমরা ব্যায়াম করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক থেকে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে আনন্দিত রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়। অনেক তরুণ বর্তমানে ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং ধ্যান এই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি মনোযোগ বৃদ্ধি করে, যা ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় দারুণ সহায়ক।

ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মরণফাঁদ

বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ রাস্তার ধারের ভাজাপোড়া কিংবা নামিদামি ব্র্যান্ডের বার্গার-পিজ্জার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি ও ট্রান্সফ্যাট ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। একে ‘এম্পটি ক্যালোরি’ বলা হয়, যা পেট ভরলেও শরীরে কোনো পুষ্টি দেয় না। পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, অল্প বয়সেই অনেকে লিভারের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত হচ্ছে। ঘরোয়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস এই ঝুঁকি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পানের গুরুত্ব

একজন তরুণের প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার অভ্যাস শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানিশূন্যতা থাকলে মনোযোগ কমে যায় এবং দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে।

জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ফিটনেসই শেষ কথা

আপনার অনেক মেধা আছে, অনেক বড় স্বপ্ন আছে কিন্তু যদি শরীরই সঙ্গ না দেয়, তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় না। তাই এখন থেকেই নিজের লাইফস্টাইলে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, চায়ে চিনির পরিমাণ কমান এবং দিনে অন্তত ১০ মিনিট ব্যায়ামের জন্য বরাদ্দ রাখুন।
পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ থাকা কোনো শৌখিনতা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। তরুণরাই যেহেতু আগামীর ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সুস্থ থাকা দেশের জন্য জরুরি। আজকের সচেতনতাই আপনাকে দেবে একটি রোগমুক্ত সুন্দর ভবিষ্যৎ। মনে রাখবেন, ‘আপনার শরীর আপনার একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা, তাই এর যত্ন নিন।’

যে কারণে গান শুনবেন

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
যে কারণে গান শুনবেন
ছবি খবরের কাগজ


তারুণ্যের এই ব্যস্ত সময়ে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আমরা প্রায়ই খেই হারিয়ে ফেলি। এই যান্ত্রিক জীবনে এক চিমটি প্রশান্তি এনে দিতে পারে কেবল সংগীত। গান শুধু বিনোদন নয়, বরং এটি আমাদের মানসিক ও শারীরবৃত্তীয় বিকাশের এক মহৌষধ। জানাচ্ছেন শিরিন ফারজানা


মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা মুক্তি

সারা দিনের ক্লান্তি শেষে এক জোড়া হেডফোন কানে দিলেই যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, পছন্দের গান শুনলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের মনকে আনন্দিত রাখে। বিশেষ করে ধীরলয়ের বা মেলোডি গানগুলো কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলে। পড়াশোনার চাপ বা পরীক্ষার আগে একটু গান শুনে নিলে মন অনেক বেশি শান্ত থাকে।

মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি

অনেকেই মনে করেন পড়ার সময় গান শোনা ক্ষতিকর, কিন্তু পরিমিত ও সঠিক ধরনের গান (যেমন–ইনস্ট্রুমেন্টাল বা লোফি মিউজিক) মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। সংগীত মস্তিষ্কের ডান ও বাম–উভয় অংশকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে সৃজনশীল চিন্তার পথ প্রশস্ত হয়। যারা লেখালেখি, ছবি আঁকা বা কোডিংয়ের মতো কাজ করেন, তাদের জন্য সুর এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

শারীরিক সুস্থতা ও ভালো ঘুম

গানের প্রভাব কেবল মনের ওপর সীমাবদ্ধ নয়, এটি শরীরের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না বা দুশ্চিন্তায় শরীর ম্যাজম্যাজ করছে। ঘুমানোর আগে খুব হালকা এবং শান্ত সুরের গান শুনলে স্নায়ু শিথিল হয়, যা গভীর ঘুমে সাহায্য করে। এছাড়া যারা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য দ্রুত তালের গান বা উদ্দীপনামূলক সংগীত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে, ফলে দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করলেও ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।

স্মৃতিশক্তি ও মেধার বিকাশ

সংগীতের সঙ্গে স্মৃতির এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট সুর হয়তো আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ছোটবেলার সেই সোনালি দিনগুলোতে। নিয়মিত গান শুনলে এবং সুরের তাল বোঝার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে। অনেক সময় গানের কথার মাধ্যমে আমরা নতুন শব্দ বা ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হই, যা আমাদের ভাষাগত জ্ঞানকেও সমৃদ্ধ করে। এমনকি অনেক নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও বিদেশি গান শোনা দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

একাকিত্ব দূর করতে এক অনন্য সঙ্গী

তারুণ্যের সময়টাতে অনেক সময় একাকিত্ব বা নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরে। সেই মুহূর্তে গান হয়ে ওঠে সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। গানের কথাগুলো যখন নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তখন মনে হয় কেউ একজন আমাকে অন্তত বুঝতে পারছে। এই যে এক ধরনের মানসিক সমর্থন, তা মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। একঘেয়েমি কাটাতে বা দীর্ঘ ভ্রমণে গানের চেয়ে ভালো সঙ্গী আর দ্বিতীয়টি নেই। এটি আপনাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখতে অনুপ্রাণিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, গান কেবল শোনার বিষয় নয়, এটি অনুভবের বিষয়। তাই নিজের ভালো লাগার জন্য হলেও প্রতিদিন কিছুটা সময় পছন্দের গান শুনুন। জীবনের ছোট ছোট ঝগড়া বা ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে সুরের ভেলায় ভাসিয়ে দিন নিজেকে। সুর হোক আপনার প্রতিদিনের শক্তির উৎস।