ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

যে কারণে বই পড়বেন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
যে কারণে বই পড়বেন
ছবি এআই

বিকেলের নরম রোদটা তখন জানালার ধারে এসে পড়েছে। মোবাইল হাতে বসে আছে রাহাত। সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রল শেষই হয় না–একটার পর একটা ভিডিও, ছবি, পোস্ট। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার মনটা যেন খালি খালি লাগছে। ঠিক তখনই তার ছোট বোন মিতা এসে একটা বই এগিয়ে দিল।
‘দেখো তো, মজার একটা গল্প আছে,’ মিতা বলল।
রাহাত একটু অনিচ্ছা নিয়েই বইটা হাতে নিল। প্রথমে কয়েক লাইন পড়ল, তারপর ধীরে ধীরে গল্পের ভেতরে ঢুকে গেল। কখন যে আধা ঘণ্টা কেটে গেছে, সে টেরই পায়নি। গল্প শেষ করে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল–মনে হলো, সে যেন অন্য এক জগৎ থেকে ফিরে এসেছে।
এই ছোট ঘটনাটাই আমাদের জীবনের বড় একটি সত্য তুলে ধরে–বই পড়া শুধু সময় কাটানোর জন্য নয়, বরং নিজের ভেতরের দুনিয়াকে সমৃদ্ধ করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বই আমাদের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে। যখন আমরা একটি গল্প পড়ি, তখন আমাদের মাথার ভেতরেই দৃশ্যগুলো তৈরি হয়। কোনো পরিচালক বা স্ক্রিন আমাদের বলে দেয় না কেমন দেখতে হবে চরিত্রগুলো–আমরাই তা কল্পনা করি। এই কল্পনা করার ক্ষমতাই একজন মানুষকে সৃজনশীল করে তোলে।
এছাড়া বই পড়া আমাদের ভাষা ও চিন্তাশক্তিকে উন্নত করে। প্রতিদিন একটু একটু করে পড়ার মাধ্যমে আমরা নতুন শব্দ শিখি, বাক্য গঠন বুঝি, নিজের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা বাড়াই। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই নিজেদের চিন্তা গড়ে ওঠে।
বই আমাদের জীবনের শিক্ষকও বটে। একটি ভালো বই আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, এমনকি কীভাবে নিজেকে বুঝতে হয়। অনেক সময় আমরা যে সমস্যায় পড়ি, তার সমাধান হয়তো কোনো গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
সবচেয়ে বড় কথা, বই আমাদের মনকে শান্ত করে। যখন চারপাশে এত ব্যস্ততা, এত দৌড়ঝাঁপ–তখন একটি ভালো বই আমাদের একটু থামতে শেখায়। কয়েক পৃষ্ঠা পড়লেই মনটা যেন হালকা হয়ে যায়।
রাহাতের গল্পে ফিরে আসা যাক। সেই দিন থেকে সে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় বই পড়ার জন্য রাখে। মোবাইলের স্ক্রল কমে গেছে, কিন্তু তার চিন্তার জগৎ অনেক বড় হয়ে গেছে।
তাই, যদি কখনো মনে হয় সময় কাটছে না, মন ভালো নেই–তাহলে একটা বই হাতে নিন। হয়তো সেই বইটাই আপনাকে নতুন করে নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
বই শুধু অক্ষরের সমষ্টি নয়, এটি এক একটি জীবন্ত জগৎ–যেখানে ডুব দিলে আমরা নিজেদের আরও ভালোভাবে খুঁজে পাই।

হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা

আজকের দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক বা পত্রিকার পাতায় চোখ বোলাতেই অনেকের নজর চলে যায় নিজের রাশিফলের ওপর। ‘আজ আপনার লটারি জেতার যোগ আছে’ কিংবা ‘আজ প্রিয় মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে’–এমন কথা পড়ে মনে মনে একটু রোমাঞ্চ বা দুশ্চিন্তা কাজ করাটা খুব স্বাভাবিক। 
তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই হরোস্কোপ বা রাশিফল নিয়ে এক ধরনের অদ্ভুত কৌতূহল কাজ করে। কেউ এটাকে স্রেফ বিনোদন মনে করে উড়িয়ে দেয়, আবার কেউ হয়তো দিনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার রাশির পূর্বাভাস মিলিয়ে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হরোস্কোপ আসলে কী? এর পেছনে কি কোনো বিজ্ঞান আছে, নাকি এটি শুধুই এক ধরনের মানসিক মনস্তত্ত্ব?

হরোস্কোপ কি এবং এর পথচলা কীভাবে শুরু?

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হরোস্কোপ হলো একজন মানুষের জন্মের সুনির্দিষ্ট সময়ে মহাকাশে সূর্য, চন্দ্র এবং বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান কেমন ছিল, তার একটি মানচিত্র বা চিত্ররূপ। জ্যোতিষশাস্ত্রের (Astrology) মতে, এই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান মানুষের চরিত্র, মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে।
এই হরোস্কোপের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো। আজ থেকে প্রায় হাজার চারেক বছর আগে প্রাচীন ব্যাবিলন ও মেসোপটেমিয়ায় এই চর্চার সূত্রপাত হয়েছিল। প্রাচীনকালের মানুষ যখন রাতের আকাশে তারার মেলা দেখত, তখন তারা ঋতু পরিবর্তন বা কৃষিকাজের সুবিধার জন্য নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। পরবর্তী সময়ে প্রাচীন গ্রিক, রোমান, মিশরীয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এটি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রিক শব্দ ‘হরোস্কোপোস’ (Horoskopos) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ ‘সময়ের পর্যবেক্ষণ’।

 

হরোস্কোপ কীভাবে কাজ করে (দাবি বনাম বাস্তব)?

জ্যোতিষীদের দাবি অনুযায়ী, পুরো আকাশমণ্ডলকে ১২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা ‘রাশিচক্র’ (Zodiac) নামে পরিচিত। মেষ, বৃষ, মিথুন থেকে শুরু করে মীন পর্যন্ত এই ১২টি রাশির একেকটির ওপর আরেকটি গ্রহের প্রভাব থাকে। বলা হয়ে থাকে, আপনার জন্মের সময় সূর্য যে রাশিতে অবস্থান করছিল, সেটাই আপনার মূল রাশি বা ‘সান সাইন’ (Sun Sign)।
তবে মজার বিষয় হলো, হরোস্কোপ যেভাবে আমাদের মনে জায়গা করে নেয়, তার পেছনে গ্রহ-নক্ষত্রের চেয়ে বেশি কাজ করে মানুষের মনস্তত্ত্ব। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘বারনাম ইফেক্ট’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো মানুষের সামনে এমন কিছু সাধারণ ও অস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয় যা প্রায় সবার জীবনের সঙ্গেই মিলে যায়, তখন মানুষ মনে করে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে কেবল তার জন্যই বলা হয়েছে। যেমন- যদি বলা হয়, ‘আপনি বাইরে থেকে খুব শক্ত হলেও ভেতরে ভেতরে বেশ আবেগপ্রবণ’–এই বাক্যটি পৃথিবীর ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই সত্যি! হরোস্কোপ মূলত এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলেই মানুষের অবচেতনে কাজ করে।

হরোস্কোপের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

একদম সোজাসুজি উত্তর দিলে–না, হরোস্কোপ বা জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ বা Pseudo-science।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, রাশিচক্রের নক্ষত্রমণ্ডলগুলো পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই দূরবর্তী নক্ষত্র বা গ্রহগুলোর মহাকর্ষীয় বল এতটাই দুর্বল যে, তা পৃথিবীর কোনো নবজাতকের চরিত্র বা ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। বিজ্ঞানের যুক্তি হলো, একই দিনে একই সময়ে জন্ম নেওয়া দুটি যমজ শিশুর জীবন ও ভাগ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মানুষের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়াটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

 

তা হলে কি বিশ্বাস করব, নাকি করব না?

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, বিজ্ঞান যখন একে স্বীকৃতি দেয় না, তখন মানুষ কেন এতে বিশ্বাস করে? আসলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানার এক ধরনের আদিম কৌতূহল মানুষের জন্মগত। পরীক্ষা কেমন হবে, ক্যারিয়ারে কী অপেক্ষা করছে, কিংবা পছন্দের মানুষটি তাকে ভালোবাসে কি না–এসব দোলাচলের মাঝে হরোস্কোপ যখন একটু ইতিবাচক আশার বাণী শোনায়, তখন মনটা হালকা হয়।
তরুণদের জন্য পরামর্শ হলো, হরোস্কোপকে আপনি যদি সকালের এক কাপ চায়ের সঙ্গে একটু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেন, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। একটা পজিটিভ প্রেডিকশন যদি আপনার সারা দিনের কাজের অনুপ্রেরণা দেয়, তবে সেটাকে ভালো মনে করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা তখন হয়, যখন মানুষ এর ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রাশিফলে ‘আজ যাত্রা অশুভ’ দেখে যদি কেউ ইন্টারভিউ দিতে না যায়, কিংবা ‘আজ সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে’ ভেবে যদি বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে–তবে সেটা হবে চরম বোকামি।

নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ো

তারুণ্যের মূল শক্তিই হলো আত্মবিশ্বাস আর যুক্তি দিয়ে পৃথিবীকে চেনা। গ্রহ-নক্ষত্র বা রাশিফলে দেওয়া চার লাইনের ভবিষ্যদ্বাণী কখনই আপনার যোগ্যতা বা পরিশ্রমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নির্ভর করে আমাদের আজকের কর্ম, সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং কঠোর অধ্যবসায়ের ওপর। তাই হরোস্কোপের পাতায় নিজের ভাগ্য না খুঁজে, নিজের শক্তির ওপর ভরসা রাখাই একজন তরুণের আসল পরিচয়। বিনোদনের ছলে রাশিফল পড়ুন, হাসুন, কিন্তু নিজের জীবনের স্টিয়ারিংটা সব সময় নিজের হাতেই রাখুন!

ভুল হয়ে গেছে, এখন...!

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ভুল হয়ে গেছে, এখন...!
কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। ছবি এআই

মানুষ মাত্রই ভুল। চলার পথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বা আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু করে ফেলি, যা অন্যায়। সেই ভুলের বোঝা বয়ে বেড়ানোটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অন্যায় করার চেয়েও বড় অন্যায় হলো সেই ভুল নিয়ে জেদ ধরে বসে থাকা বা তা অস্বীকার করা। তারুণ্যের এই বয়সে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাই হলো প্রকৃত সাহসিকতা। জানাচ্ছেন আশরাফ হোসেন


অপরাধবোধকে ইতিবাচকভাবে নিন

কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। এই অপরাধবোধ আপনাকে অপরাধী বানানোর জন্য নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিষণ্নতায় না ভুগে বরং ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আপনি ঠিক কোথায় ভুল করেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি মানসিক শক্তির পরিচয়।

দায়বদ্ধতা স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

অন্যায়টি যদি অন্য কারও সঙ্গে হয়ে থাকে, তবে প্রথম কাজ হলো নিঃসংকোচে ক্ষমা চাওয়া। অজুহাত না দেখিয়ে সরাসরি নিজের দোষ স্বীকার করুন। অনেক সময় আমরা ‘কিন্তু’ বা ‘তবে’ যোগ করে নিজের অন্যায়কে হালকা করার চেষ্টা করি, যা সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ায়। আপনি যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন বা কারও ক্ষতি করে থাকেন, তবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, একটি ছোট্ট ‘সরি’ অনেক বড় বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারে।

ক্ষতিপূরণের চেষ্টা

শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, যদি সম্ভব হয় তবে সেই অন্যায়ের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কারও কোনো বস্তুগত ক্ষতি করেন, তবে তা সারিয়ে দিন বা বদলে দিন। আর যদি মানসিকভাবে কাউকে আঘাত করেন, তবে আপনার ভালো ব্যবহার দিয়ে সেই ক্ষত ভরাট করার চেষ্টা করুন। আপনার কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হওয়া উচিত যে আপনি সত্যিই অনুতপ্ত।

নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন

অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কাছেও ক্ষমা পাওয়া জরুরি। অনেকেই আছেন যারা একটি ভুলের জন্য মাসের পর মাস নিজেকে দোষারোপ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। এতে জীবন থমকে যায়। মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিন কিন্তু সেই ভুলকে আপনার পরিচয় হতে দেবেন না। নিজেকে কথা দিন যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অন্যায় আপনি আর করবেন না।

নতুন শুরুর সংকল্প

অতীতকে আমরা বদলাতে পারব না, কিন্তু বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। যে পরিস্থিতির কারণে আপনি অন্যায়টি করেছিলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড় কেউ বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। জীবন আমাদের প্রতিটা মোড়েই নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন উন্নত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হোক লক্ষ্য।

মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
মেকআপ বনাম ন্যাচারাল লুক
ছবি এআই

বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করার ধরনটি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় ভুগি–একটু কি মেকআপের ছোঁয়া দেব, নাকি একেবারে ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক সাজেই বাইরে বের হব? সৌন্দর্য আসলে আপেক্ষিক, তবে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কোনটি বেশি মানানসই, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। লিখেছেন ফিজা হাফিজা

মেকআপ: আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা

মেকআপ মানেই কিন্তু মুখমণ্ডল পাল্টে ফেলা নয়। বরং মেকআপ হলো নিজের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলোকে ফুটিয়ে তোলার একটি শিল্প। অনেক সময় রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে চোখের নিচে কালি পড়ে বা ক্লান্তির ছাপ দেখা দেয়; সামান্য কনসিলার বা কাজল সেই ক্লান্তি ঢেকে দিয়ে নিমেষেই এক চিলতে সতেজতা এনে দেয়। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, উৎসব বা ফটোশুটের ক্ষেত্রে মেকআপ আমাদের আত্মবিশ্বাসকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া বর্তমানে ‘নো মেকআপ’ মেকআপ লুক বেশ জনপ্রিয়, যা মেকআপ ব্যবহার করেও আপনাকে একটি স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক চেহারা উপহার দেয়।

ন্যাচারাল লুক: স্বকীয়তার জয়গান

প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল লুকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সারল্য। যখন আপনি কোনো প্রসাধন ছাড়াই বাইরে বের হন, তখন আপনি নিজের আসল ত্বকের ওপর আপনার আস্থার পরিচয় দেন। ন্যাচারাল লুকে থাকার মানে হলো নিজের খুঁতগুলোকে (যেমন–তিল বা দাগ) ভালোবেসে গ্রহণ করা।
আজকালকার কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ভারী মেকআপ করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ন্যাচারাল লুকে থাকলে ত্বক প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে এবং লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ভয় থাকে না। যারা কৃত্রিমতার চেয়ে স্নিগ্ধতাকে বেশি প্রাধান্য দেন, তাদের কাছে ন্যাচারাল লুকই সেরা।

কোনটা ভালো এবং কেন?

আসলে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করে সময় এবং পরিস্থিতির ওপর।
ত্বকের স্বাস্থ্য: নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ বা র‍্যাশ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুস্থ ত্বকের জন্য ন্যাচারাল থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিবেশ: বিয়েবাড়ি বা আড্ডায় একটু মেকআপ মানিয়ে গেলেও ক্লাস বা নিয়মিত অফিসে হালকা সাজ বা ন্যাচারাল থাকাই স্বস্তিদায়ক।
ব্যক্তিত্ব: আপনার যদি রং নিয়ে খেলতে ভালো লাগে, তবে মেকআপ আপনার জন্য একটি মাধ্যম। আর যদি আপনি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন, তবে ন্যাচারাল লুকই আপনার পরিচয়।

ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি

সৌন্দর্যের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি যদি মেকআপ করতে ভালোবাসেন, তবে অবশ্যই ভালো মানের প্রসাধন ব্যবহার করবেন এবং দিন শেষে তা পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। আর যদি ন্যাচারাল থাকতে চান, তবে সঠিক স্কিনকেয়ার বা ত্বকের যত্ন নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকই হলো আসল সৌন্দর্য।

পরিশেষে বলা যায়, আপনি কাজল মাখা চোখ বা একদম সাদামাটা মুখ–যেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করুন না কেন, আপনার আত্মবিশ্বাসই হবে আপনার আসল সৌন্দর্য। নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন, কারণ আপনি যেমন, আপনি তেমনই সুন্দর।

ঘরকুনো স্বভাব অজান্তেই নিজের যা ক্ষতি করছেন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
অজান্তেই নিজের যা ক্ষতি করছেন
ছবি এআই

মানুষ সামাজিক জীব। আদিম যুগ থেকে মানুষ দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং ঘরোয়া বিনোদনের আধিক্যে আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন ‘ঘরকুনো’ হয়ে পড়ছে। সারাক্ষণ ঘরের কোণে বসে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা গেমসের দুনিয়ায় মগ্ন থাকাটা আপাতদৃষ্টিতে আরামদায়ক মনে হলেও, এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিকগুলো আমাদের অজান্তেই জীবনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

শারীরিক সক্ষমতা হারানো

ঘরের চার দেয়ালে বন্দি থাকার সবচেয়ে বড় কুফল হলো শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। সারা দিন বসে বা শুয়ে থাকার ফলে শরীরে মেদ জমে যায়, যা অল্প বয়সেই স্থূলতা বা ওবেসিটির দিকে ঠেলে দেয়। সূর্যের আলো শরীরে না লাগায় ভিটামিন-ডির অভাব দেখা দেয়, যা হাড়কে দুর্বল করে ফেলে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং ঘাড় ও পিঠের ব্যথার মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

মানুষ যখন বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তখন তার মধ্যে একঘেয়েমি ও একাকিত্ব দানা বাঁধে। ঘরকুনো স্বভাবের কারণে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা এবং অ্যাংজাইটির মতো মানসিক সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রকৃতির সতেজ বাতাস এবং খোলা আকাশ মনের ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, চার দেয়ালের কৃত্রিম আলো তা কখনোই দিতে পারে না।

সামাজিক দক্ষতার অভাব

তারুণ্য হলো মেলামেশা এবং নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়। কিন্তু সারাক্ষণ ঘরে থাকলে বাইরের জগতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা ‘সোশ্যাল স্কিল’ তৈরি হয় না। এতে করে বাস্তব জীবনে কারও সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করা বা জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পাওয়ার (সোশ্যাল ফোবিয়া) মতো সমস্যা তৈরি হয়। এটি পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া
নতুন পরিবেশ, নতুন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করলে ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশ ঘটে না। ঘরকুনো মানুষরা সাধারণত কম আত্মবিশ্বাসী হয় এবং তারা যেকোনো পরিবর্তনকে ভয় পায়। এতে করে সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবন একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে।

শেষ কথা

ঘর আমাদের নিরাপদ আশ্রয়, কিন্তু তা যেন কারাগার না হয়ে ওঠে। তারুণ্যের ধর্মই হলো অজানাকে জানা এবং অজেয়কে জয় করা। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত কিছুটা সময় বাইরে বের হন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পার্কে হাঁটুন কিংবা বিকেলে খোলা মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করুন। মনে রাখবেন, জানালা দিয়ে আকাশ দেখা আর খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা–এ দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

তারুণ্যের স্বাস্থ্য ডায়েট এবং ফিটনেসের সাতকাহন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ডায়েট এবং ফিটনেসের সাতকাহন
ছবি এআই

তারুণ্য মানেই প্রাণশক্তি, অদম্য সাহস আর আগামীর স্বপ্ন। জীবনের এই সোনালি সময়ে আমরা অনেক সময় নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা উদাসীন থাকি। রাত জেগে কাজ করা, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক–এই সবকিছুই আমাদের অজান্তে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে চলেছে। বর্তমানে ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে স্থূলতা, ক্লান্তি এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যাগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠছে। একটি সুস্থ জাতি গঠনে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস বজায় রাখা কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং এটি সময়ের দাবি।

কেন তরুণদের জন্য ডায়েট ও ফিটনেস জরুরি?

অনেকে মনে করেন ডায়েট মানেই হচ্ছে না খেয়ে থাকা। আসলে ডায়েট শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা। তারুণ্যের এই বয়সে শরীরের গঠন পূর্ণতা পায়, হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। সঠিক পুষ্টি এবং নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়া এই বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন–ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শক্তির মূল উৎস সুষম খাদ্যতালিকা

তরুণদের সারা দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার গঠন কিংবা সৃজনশীল কাজে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। এই শক্তি আসে আমাদের খাবার থেকে।
শর্করা ও প্রোটিন: ভাত বা রুটির পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন যেমন–মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল থাকা জরুরি। প্রোটিন শরীরের কোষ গঠনে এবং পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।
শাকসবজি ও ফলমূল: প্রতিদিনের তালিকায় রঙিন শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল রাখা উচিত। এগুলো থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
চিনি ও লবণের পরিমিত ব্যবহার: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

শুধু ডায়েট করলেই হবে না, শরীরকে সচল রাখা বা ফিটনেসের জন্য ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে।
হাঁটা বা দৌড়ানো: জিম করার সময় না থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানো যেতে পারে।
পেশি গঠন: তরুণদের জন্য ওয়েট লিফটিং বা পুশআপের মতো ব্যায়ামগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
খেলার মাঠের গুরুত্ব: ভিডিও গেমসে আসক্ত না হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টনের মতো আউটডোর গেমসে সময় দিলে শারীরিক ফিটনেস দ্রুত ফিরে আসে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের সম্পর্ক

শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যখন আমরা ব্যায়াম করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক থেকে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে আনন্দিত রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়। অনেক তরুণ বর্তমানে ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং ধ্যান এই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি মনোযোগ বৃদ্ধি করে, যা ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় দারুণ সহায়ক।

ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মরণফাঁদ

বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ রাস্তার ধারের ভাজাপোড়া কিংবা নামিদামি ব্র্যান্ডের বার্গার-পিজ্জার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি ও ট্রান্সফ্যাট ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। একে ‘এম্পটি ক্যালোরি’ বলা হয়, যা পেট ভরলেও শরীরে কোনো পুষ্টি দেয় না। পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, অল্প বয়সেই অনেকে লিভারের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত হচ্ছে। ঘরোয়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস এই ঝুঁকি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পানের গুরুত্ব

একজন তরুণের প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার অভ্যাস শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানিশূন্যতা থাকলে মনোযোগ কমে যায় এবং দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে।

জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ফিটনেসই শেষ কথা

আপনার অনেক মেধা আছে, অনেক বড় স্বপ্ন আছে কিন্তু যদি শরীরই সঙ্গ না দেয়, তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় না। তাই এখন থেকেই নিজের লাইফস্টাইলে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, চায়ে চিনির পরিমাণ কমান এবং দিনে অন্তত ১০ মিনিট ব্যায়ামের জন্য বরাদ্দ রাখুন।
পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ থাকা কোনো শৌখিনতা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। তরুণরাই যেহেতু আগামীর ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সুস্থ থাকা দেশের জন্য জরুরি। আজকের সচেতনতাই আপনাকে দেবে একটি রোগমুক্ত সুন্দর ভবিষ্যৎ। মনে রাখবেন, ‘আপনার শরীর আপনার একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা, তাই এর যত্ন নিন।’