একাকীত্ব মোকাবেলায় ‘ওকে গ্র্যান্ডমা’ বা স্নেহময়ী ‘দাদি বা নানি ভাড়া’ সেবার পর এবার আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী সেবার উদ্যোগ নিয়েছে জাপানের টোকিওভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান।
ছোটখাটো বিরোধ বা ঝামেলা মেটাতে বা উৎপীড়নকারীদের সামলাতে পুলিশের পরিবর্তে ‘রেন্টাল কোওয়াইহিতো’ বা ‘ভাড়ায় ভয়ংকর মানুষ’ নামের একটি সেবা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সাহস ও শক্তি জোগানো এই সংস্থার কাজ।
কেউ যদি সহকর্মীর খোঁচাখুঁচিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন, প্রতিবেশী যদি সারারাত শব্দ করে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেন, বাচ্চাকে যদি কেউ স্কুলে বুলিং করে, তাহলেই ফোন করতে হবে এই প্রতিষ্ঠানে।
মুহূর্তেই হাজির হবে সমস্ত দেহে ট্যাটুভরা, ন্যাড়া মাথা, চোখে কড়া চাহনির এক ‘ভয়ংকর’ মানুষ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পাঠানো লোককে দেখেই বিপরীত পক্ষ সাধারণত নতি স্বীকার করে।
শুধু অফিস বা বাসার ঝামেলা নয়, প্রেমঘটিত গোলযোগেও এই ভাড়াটে বাহিনী কাজে আসে। কারও প্রেমিক বা প্রেমিকা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে এই ‘ভয়ংকর’ সঙ্গীদের।
ব্যবসায়িক অংশীদার বা নিয়োগকর্তা যদি টাকা আত্মসাৎ করেন সেই পাওনাও আদায় করে আনে তারা।
শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও জাপানে এখন এটা একেবারেই বাস্তব ব্যবসা। সম্প্রতি এক্সের এক ব্যবহারকারী, সংস্থাটির ওয়েবসাইটের কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
পোস্টটিতে লাইক পড়ে ৩ লাখের বেশি, রিপোস্ট হয় ৩৬ হাজারবার। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই সেবাটিকে ‘সময়োপযোগী’ বলে প্রশংসা করছেন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কোনোভাবেই গ্যাংস্টার ভাড়া করে না এবং কোনো বেআইনি কাজও করে না। সবকিছুই নাকি আইনের মধ্যে থেকে করা হয়।
তবে এই ‘ভয়ংকর’ মানুষদের পারিশ্রমিক কিন্তু আকাশছোঁয়া। আধাঘণ্টা সেবার জন্য খরচ পড়বে ২০ হাজার জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ১৪০ মার্কিন ডলার। আর তিন ঘণ্টা সময় চাইলে গুনতে হবে ৩৪০ ডলার। এছাড়া, শহরের বাইরে কাজ হলে গ্রাহককেই তার যাতায়াত খরচ বহন করতে হবে।
সুলতানা দিনা/