ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

মুম্বইয়ে বিলবোর্ড ধসে নিহত ১৪

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৫:১৭ পিএম
মুম্বইয়ে বিলবোর্ড ধসে নিহত ১৪
ছবি : সংগৃহীত

মুম্বাইয়ে বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ে একটি বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭৫ জন।

মঙ্গলবার (১৪ মে) হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

এর আগে সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে একটি পেট্রল পাম্পে বিলবোর্ডটি ভেঙে পড়ে।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ঘটনার পরেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিলবোর্ড সরানোর কাজ চলে। এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে তারা ৮৯ জনকে উদ্ধার করেছে।

মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরে অন্তত ৭৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৩১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ব্যস্ততম একটি সড়কের পাশেই ছিল বিলবোর্ডটি। সোমবার সন্ধ্যার দিকে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে বিলবোর্ডটি ভেঙে পড়ায় এর নিচে বহু মানুষ চাপা পড়েন। 

ঝড়ের সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পেট্রল পাম্পের উপর বিজ্ঞাপনি বোর্ডটি ভেঙে পড়ছে। এতে পেট্রল পাম্পের ছাদ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর নিচে চাপা পড়ে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাড়িও। অনেক গাড়ির ছাদ ভেঙে ঢুকে যায় বিলবোর্ডের ধাতব কাঠামো। 

এ ঘটনায় কিছু সড়কে যান চলাচলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে মুম্বইয়ের ব্যস্ত বিমানবন্দরেও। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

পপি/অমিয়/

গুজরাটে গেমিং জোনে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ২৭

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১০:৪৫ এএম
গুজরাটে গেমিং জোনে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ২৭
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের রাজকোটে একটি গেমিং জোনে অগ্নিকাণ্ডে ৯ শিশুসহ ২৭ জন নিহত হয়েছেন।  

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে রাজকোটের টিআরপি গেমিং জোনে এ অগ্নিকাণ্ড হয়।  

অগ্নিকাণ্ডের পর টিআরপি গেম জোনের মালিক ও ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকেলে গেমিং জোনের ভেতর হঠাৎ আগুন লেগে যায়। দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।  দমকল বাহিনী এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রাজকোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত মর্মাহত। যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা, আহতদের জন্য প্রার্থনা। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে।’  

গুজরাটের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিনায়ক প্যাটেল বলেন, মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়েছে যে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। 

গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি রবিবার (২৬ মে) ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, একজন এখনো নিখোঁজ। সেই ব্যক্তির সন্ধান করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এর জন্য অনুসন্ধানী দল মোতায়েন করছি। উদ্ধারকাজ চলছে।’

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল রবিবার সকালে ঘটনাস্থল এবং আহতরা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. মনসুখ মান্ডাভিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজকোটে AIIMS-এ ৩০টি আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়েছে।  

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুজরাট পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজ্যের সব গেমিং জোন পরিদর্শন এবং অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এমন গেমিং জোন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি  

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

দিল্লিতে শিশু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৭ নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১০:০১ এএম
দিল্লিতে শিশু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৭ নবজাতকের মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে একটি শিশু হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাত নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

শনিবার (২৫ মে) রাতে পূর্ব দিল্লির বিবেক বিহার এলাকার একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, পূর্ব দিল্লির বিবেক বিহার এলাকার একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র থেকে শনিবার রাত ১১টা ৩২ মিনিটের দিকে ফোন করে আগুন লাগার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়। পরে দমকলের ১৬টি ইউনিট দীর্ঘসময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

কর্মকর্তারা জানান, ভবনের প্রথম তলা থেকে ১২ নবজাতককে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতজন মারা যায়। আরও পাঁচ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একটি পৃথক ঘটনায় শনিবার রাতে দিল্লির শাহদারা এলাকায়ও একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। পরে ফায়ার ব্রিগেডের পাঁচটি গাড়ি ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এর আগে শনিবারই গুজরাটের গেমিং জোনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ শিশুসহ ২৭ জন মারা যান। রাজকোটের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিনায়ক প্যাটেল বলেছেন, ‘মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখর এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি

পপি/অমিয়/

পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আরও ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২০ এএম
পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আরও ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহী ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতের মুখে প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার চলমান সংঘাতে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এমন তথ্য জানান জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র এলিজাবেথ থ্রোসেল। খবর আল-জাজিরার।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এলিজাবেথ থ্রোসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘চলমান সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনের বুথিডং ও মংডু শহরের কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে আনুমানিক ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা।’ 

২০২৩ সালের নভেম্বরে জান্তা সরকারের বাহিনীর ওপর আরাকান আর্মি (এএ) হামলা করলে রাখাইনে সংঘাত শুরু হয়। ২০২১ সালের যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে পুনরায় সামরিক অভ্যুত্থানের পর আবারও এ সহিংসতা শুরু হয়। লড়াইটি শুরু হয়, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সরকার বা বিদ্রোহী পক্ষ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বহিরাগত বলে মনে করে। এএ বলছে, ‘তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়ছে। যেখানে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা এই রাজ্যে বসবাস করে; তারা এই দেশেই থাকতে চায়।’ 

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমার সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এটি এখন জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ আদালতের মামলার বিষয়। সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে মায়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কার্যকর সুরক্ষা ও আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

তবে আল-জাজিরার সাংবাদিক তানভীর চৌধুরী কক্সবাজার থেকে তুর্কের বক্তব্যের বিপরীতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, দেশে ইতোমধ্যে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। সম্প্রতি সীমান্তে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বাংলাদেশ সরকার আশ্রই দিতে আগ্রহী নয়।  

লোকসভা নির্বাচন তীব্র গরমে ষষ্ঠ দফার ভোট ভারতে

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:১৬ এএম
তীব্র গরমে ষষ্ঠ দফার ভোট ভারতে

তীব্র গরমের মধ্যেই ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ধাপে মোট ৫৮টি আসনে ভোট হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দিল্লির সাত আসনও রয়েছে।

এবারের ধাপে ভোট হয়েছে হরিয়ানা (১০), ঝাড়খণ্ড (১৪), ওডিশা (২১), উত্তরপ্রদেশ (১৪), বিহার (৮), পশ্চিমবঙ্গ (৮), দিল্লি (৭) এবং জম্মু ও কাশ্মীর (১)।

গতকাল শনিবার প্রথম ভাগের ভোটদাতাদের মধ্যে ছিলেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার মা সোনিয়া গান্ধী ও বোন প্রিয়াঙ্কা ভাদ্রা।

ভোটের আগেই দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যগুলোর জন্য তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে ভারতের আবহাওয়া ব্যুরো। এর মধ্যেই ভোটারদের দেখা যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে। রাজধানী দিল্লিতে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রির আশপাশে। তবে স্থানীয় সময় বেলা ২টা নাগাদ তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় দিল্লির নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতে প্যারামেডিকরা উপস্থিত ছিলেন। জলকামান ও ছায়াঘেরা এলাকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা পি. কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ‘আমরা আশা করি যে মানুষ তাপপ্রবাহের ভয় কাটিয়ে উঠবে এবং ভোট দিতে আসবে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে ভিড় জমানোর আহ্বান জানান। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে- ৫২ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম দিল্লিতে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

ভারতে ভোটের প্রথম পাঁচ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯ এপ্রিল, ২৬ এপ্রিল, ৭ মে, ১৩ মে ও ২০ মে-তে। নির্বাচনের শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ১ জুন। ভোট গণনা হবে ৪ জুন।

ষষ্ঠ ধাপের মধ্য দিয়ে ভারতের মোট ৫৪৩টি আসনের লোকসভা আসনের মধ্যে ৪৮৬টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হলো।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বার্তা সংস্থা রয়টার্স জেনেছে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব- এই দুটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত তারা। জম্মু ও কাশ্মীরের আনানতাঙ অঞ্চলের ভোটার গোলাম কাদির চৌহান বলেন, আমাদের তরুণ বেকার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে আমরা এসেছি।’

দিল্লিতে নিশু সিং (৪৩) জানান, তিনি পার্শ্ববর্তী শহর থেকে ভোট দিতে এসেছেন। তার এ ভোট ‘দেশের উন্নয়নে ভূমিকা’ রাখবে। হরিয়ানায় ভোট দিতে যাওয়া সাবিতা ঝা বলেন, ‘আমি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বাহ্যিক সুরক্ষার জন্য এবং সবার জন্য ভোট দিচ্ছি, শুধু একটি গোষ্ঠীর জন্য নয়।’ সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি, সিসিজি 

ঘোষণা নয়, পদক্ষেপ চান ফিলিস্তিনিরা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৫৪ এএম
ঘোষণা নয়, পদক্ষেপ চান ফিলিস্তিনিরা
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত রাফায় অভিযান বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলকে। আন্তর্জাতিক দিক থেকে বিচার করলে এর গুরুত্ব অনেক। তবে ফিলিস্তিনিরা এখন আর এ রকম শব্দের ফুলঝুরি নয়, বাস্তবিক পদক্ষেপ চান- যা তাদের সংকটের মুখ থেকে সরিয়ে আনবে। যেমন- আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সালওয়া আল-মাসরি মনে করছেন, আদালতের রায়ে কোনো কাজ হবে না। তিনি বলেন, ‘সংঘাত শুধু বাড়ছেই।’ কথা ও কাজের ভিন্নতার বিষয়টি উল্লেখ করে মাসরি বলেন, ‘আমরা চাই এ সিদ্ধান্তগুলো মূলস্থানে প্রয়োগ করা হোক।’ 

মূলত আইসিজে কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে অভিযান থামাতে বললেও, সে নির্দেশ বাস্তবায়নের মতো কোনো রাস্তা নেই তাদের হাতে। শুধু ইসরায়েল সে নির্দেশ মানলেই এ রায় কার্যকর হতে পারে। তবে আদালতে ইসরায়েলের উপস্থাপিত যুক্তি ও তাদের এ বিষয়ে যে অবস্থান, তা থেকে এটুকু স্পষ্ট যে সহসাই রাফায় যুদ্ধের অবসান হচ্ছে না।

ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ জানিয়ে দিয়েছেন, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে তার ‘ন্যায্য ও প্রয়োজনীয়’ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।  

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায় হামাস। সে হামলায় মারা যায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি। হামাস সঙ্গে করে প্রায় ২৫০ জিম্মিও নিয়ে আসে। পরে এর জেরে হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের নির্বিচার হামলায় গোটা গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ফিলিস্তিনি মারা গেছেন ৩৫ হাজার ৮০০-এরও বেশি– যাদের বেশির ভাগ নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। অন্যদিকে আহত হয়েছেন ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

সব মিলিয়ে গাজার বাসিন্দারা মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। তারা কষ্ট করছেন ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়। আহত হলে চিকিৎসার সুযোগটাও মিলছে না। নতুন করে তারা রাফায় অভিযান শুরু করার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৯ লাখেরও বেশি মানুষ।

ইসরায়েলি আক্রমণে চারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনি শাবান আবদেল-রাওফ বলেন, ‘ইসরায়েল বিশ্ব নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা এমনভাবে কাজ করে যে তারা আইনের ঊর্ধ্বে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন শাস্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করছে।’ 

আবদেল-রাওফ বলেন, ‘বিশ্ব এখনো ইসরায়েলিদের হাতে আমাদের এ হত্যাযজ্ঞ থামানোর জন্য প্রস্তুত নয়।’ 
       
চলতি মাসের শুরুতে হামাসের যোদ্ধাদের দোহাই দিয়ে রাফায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরে গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা আইসিজেকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। হামাস এরই মধ্যে আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি জানিয়েছে, এটি গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন থামানোর জন্য, বিশেষ করে উত্তর গাজায় যে নৃশংস ও বিপজ্জনক অভিযান চলছে তা থামানোর জন্য যথেষ্ট নয়। 

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাবিল দিয়াবের মন্তব্যও এক। তিনিও বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামবে এমন কিছু প্রয়োজন। দিয়াব বলেন, ‘আমাদের ঘোষণার দরকার নেই।’ 

গাজায় নিখোঁজ ১৩ হাজার

এদিকে, গাজায় ১৩ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান নেই। তারা বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন- সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এক রকম নিখোঁজ তারা।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, এদের অনেকে হয়তো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। আবার মানবাধিকার সংস্থা বলছে, অনেকেই সম্ভবত ‘গুমের’ শিকার হয়েছেন। পুরো গাজা উপত্যকায় ধ্বংসাবশেষও জমেছে ব্যাপক। 

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে যে পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে তার পরিমাণ হবে প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ টন। আর এর নিচে মৃতদেহের পাশাপাশি আরও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ আছে, যা স্বেচ্ছাসেবক ও ত্রাণকর্মীদের জন্য আরেকটা হুমকি। 

সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা তাদের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চাপাপড়া শরীর উদ্ধারে কাজ করছেন, কিন্তু তাদের খুবই সাধারণ কিছু যন্ত্রপাতি আছে, যাতে প্রায়শই মৃতের শরীরের কাছে পৌঁছানোটা কঠিন হয়ে যায়।

এভাবে মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। শরীর যদি নিচে ওভাবেই চাপা পড়ে থাকে, তা হলে সামনে গরম যখন আরও বাড়বে, তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটবে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি