ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ এএম
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মে মাসের স্মৃতি মোটেও সুখের নয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে সুন্দরবন তছনছ করেছিল আইলা। ২০২০ সালের ২০ মে আছড়ে পড়েছিল আম্ফান। এবার মে মাসের শেষে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, যা মে মাসের শেষের দিকে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের আপডেট বলছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে অন্তত দুটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে, যা মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ২০ মে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণাবর্তটি। এরপর উত্তর দিকে এগোবে সেটি। ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াবে। ২৪ মে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে সেটি। ২৫ মে সন্ধ্যার পর সেটি বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের ভূভাগে প্রবেশ করতে পারে। তবে সেই ঝড়ের গতিবেগ কতটা থাকবে, বা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান। আরবিতে যার অর্থ বালি। অবশ্য এই নামে ফিলিস্তিনের গাজা থেকে ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দূরে একটি শহরও রয়েছে। এবার ধেয়ে আসতে পারে সেই ‘রেমাল’। তবে কতটা ভয়াবহ হবে সেই ঝড়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধস, শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৭:৫৭ এএম
পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধস, শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

পাপুয়া নিউগিনির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৫ মে) ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা ধারণা করছেন, শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। 

দেশটির উত্তরাঞ্চলের এনগা প্রদেশের পোরগেরা-পাইলা জেলার মুলিতাকার ছয়টি গ্রামে একই সময়ে ভূমিধস হয়। আশপাশের মানুষের ধারণা, এতে ৮০ থেকে ১০০ বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। 

এনগার প্রাদেশিক প্রশাসক স্যান্ডিস সাকা বলেন, ‘বিধ্বংসী এই ভূমিধসকে নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মনে করা হচ্ছে। এতে মানুষের জানমালের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এলাকাটিতে পাঠানো হয়েছে।’ 

ভূমিধসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে বলেও খবর এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। প্রশাসক স্যান্ডি সাকা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য জাতীয় সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এলিজাবেথ লারুমা অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, এটি যখন ঘটেছে তখন ছিল ভোর, সবাই ঘুমে ছিল। আর এর মধ্যেই পুরো গ্রাম চাপা পড়েছে। শতাধিক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে বলে অনুমান করেন তিনি। ভূমিধসের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের নিজস্ব জ্বালানি এবং পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লারুমা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রাফায় হামলা বন্ধের নির্দেশ আইসিজের

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:১৩ এএম
রাফায় হামলা বন্ধের নির্দেশ আইসিজের
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে ইসরায়েলকে সামরিক হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজ (আইসিজে)। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ মে) নেদারল্যান্ডসের হেগে ১৫ সদস্যের বিচারকের বেঞ্চে ১৩ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ রায় দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, হামাস, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, বেলজিয়াম, এইচআরডব্লিউসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

আইসিজের রায়ে গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেছেন আইসিজের প্রধান বিচারক নওয়াফ সালাম। তিনি বলেন, ইসরায়েলের কথা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে, গাজার অধিবাসীদের নিরাপত্তা এবং মানবিক প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর কোনো প্রমাণ নেই। ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে উল্লেখ করে নওয়াফ সালাম বলেন, এ কারণেই আদালত এখন একটি অত্যন্ত জোরালো আদেশ দিচ্ছে যে, ইসরায়েলকে অবিলম্বে রাফায় তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। মানবিক সহায়তা পেতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সীমান্ত ক্রসিংগুলো পুনরায় চালু করতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশিত ব্যবস্থা প্রয়োগে অগ্রগতির বিষয়ে এক মাসের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারকরা।

এদিকে আইসিজের রায় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করার অর্থ ইসরায়েলের অস্তিত্ব বন্ধ হয়ে যাবে। ইসরায়েল এতে সম্মত হবে না। এ ছাড়া রায়কে ‘নৈতিক পতন এবং নৈতিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আল-জাজিরার সাংবাদিক সারা খাইরাত বলছেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের রায়ে স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল সরকার। আইসিজের রায় ঘোষণার পর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের আইন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

রাফায় সামরিক অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হেগে হামাসের প্রতিনিধি বাসেম নাইম বলেছেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, যেটি ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনীকে রাফাতে তার সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি গাজা উপত্যকাজুড়ে এবং বিশেষ করে উত্তর গাজায় দখলদারত্বের আগ্রাসন ঠিক ততটাই নৃশংস এবং বিপজ্জনক হওয়ায় এটি (আদালতের রায়) যথেষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরও কিছু করা দরকার। আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়কে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে তা বাস্তবায়নের জন্য ইহুদিবাদী শত্রুকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করতে।’ 

দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে এই রায় সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেদি পান্ডর পাবলিক ব্রডকাস্টার এসএবিসিকে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটি অনেক শক্তিশালী, শব্দের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থায়ী ব্যবস্থার আদেশ। এটি যুদ্ধ বন্ধের জন্য খুব স্পষ্ট আহ্বান।’

আইসিজে রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা রয়টার্সকে বলেন, এটি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

স্বাগত জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ

আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়ে মার্কিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ বলছে, আইসিজের রায়ে গাজায় কতটা খারাপ অবস্থা তা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশে গাজায় ফিলিস্তিনিরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে তা উঠে এসেছে।

আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদজা লাহবিব। এক্স-এ তিনি বলেন, ‘গাজায় সহিংসতা এবং মানবিক দুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে। আমরা যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং দুই রাষ্ট্রের জন্য আলোচনার আহ্বান জানাই।’

রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন অধিকার সংগঠন সিএআইআর

মার্কিন নাগরিকদের মানবাধিকার সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর) আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলছে, ইসরাইল স্পষ্টতই গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে। এই ভয়ঙ্কর লক্ষ্য পূরণ থেকে এটি বন্ধ করতে হবে।

 

স্পেনে ভবন ধসে নিহত ৪, আহত ১৬

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
স্পেনে ভবন ধসে নিহত ৪, আহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের মাজোর্কা দ্বীপে একটি দ্বিতল ভবন ধসে চারজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জরুরি পরিষেবা। ধ্বংসস্তূপে কয়েকজন এখনো আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জরুরি পরিষেবাগুলো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, তারা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে এবং বর্তমানে এলাকাটি সুরক্ষিত রয়েছে। 

জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তারা আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সাহায্য করার জন্য মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে আনা হবে।

স্থানীয় সংবাদপত্র আলটিমা হোরাকে একজন দমকলকর্মী ঘটনাটিকে একটি দুঃস্বপ্ন বলে অভিহিত করে বলেন, ‘আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই তখন লোকজন ধ্বংসস্তূপের চারপাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল এবং চিৎকার করছিল।’

পালমার দমকল বাহিনীর প্রধান এডার গার্সিয়া স্থানীয় গণমাধ্যম এল পাইসকে জানান, ধসে হতাহত বেশির ভাগই বিদেশি পর্যটক।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা পালমার ভবন ধসের ঘটনা সম্পর্কে অবগত। ব্রিটিশ নাগরিকের হতাহতের কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি। আমাদের লোকজন সেখানে রয়েছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করুন।’

স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, বারান্দাটিতে অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভবনটি ধসে গেছে। তবে সঠিক কারণ এখনো তদন্ত করা হচ্ছে।’

পালমারের মেয়র জেইম মার্টিনেজ পর্যটনের ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘উদ্ধারকাজ যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য তদারকি করা হচ্ছে। সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।’ সূত্র: বিবিসি

সাদিয়া নাহার/

রাইসির শেষ বিদায়ে জনসমুদ্র

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:১৩ এএম
রাইসির শেষ বিদায়ে জনসমুদ্র

ইরানের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ইব্রাহীম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মে) প্রেসিডেন্ট রাইসিকে দাফন করা হয়েছে ইরানের ধর্মীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার কমপ্লেক্সে। মাশহাদ রাইসির নিজ শহর। আর আমির আবদোল্লাহিয়ানকে দাফন করা হয়েছে তেহরানের পার্শ্ববর্তী রেই শহরে অবস্থিত ইমামজাদা আব্দুল আজিমের মাজারে।

মাশহাদ শহরে প্রেসিডেন্ট রাইসির লাশ প্রবেশের পর থেকেই শহরটি যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখানে লাখ লাখ মানুষ চোখের জলে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। সবার হাতে হাতে রাইসির ছবি এবং বিভিন্ন বক্তব্য লেখা প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল। 

এ সময় লোকজন নানাভাবে প্রেসিডেন্টের জন্য দোয়া করেন। মাশহাদ যেহেতু প্রেসিডেন্ট রাইসির জন্ম শহর, সে কারণে সেখানকার মানুষের ভালোবাসা ছিল ভিন্ন রকমের। তারা নানাভাবে নিজেদের আবেগের বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সেখানে কান্নার রোল পড়ে যায়। শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শেষে লাশ মাজার কমপ্লেক্স নেওয়া হয় এবং আগে থেকেই প্রস্তুত করা কবরে দাফন করা হয়। এর আগে গত বুধবার রাজধানী তেহরানে জানাজার নামাজ পড়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেখানেও লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। 

তেহরানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তি উপস্থিত থেকে প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। গত রাতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করে শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গত রাতেই প্রেসিডেন্ট রাইসির বাসভবনে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং আলোচনা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্টের শ্বশুর, যিনি একজন বড় আলেম। এ ছাড়া তার স্ত্রী এবং দুই মেয়ে। 

প্রেসিডেন্ট রাইসির স্ত্রী একজন শিক্ষাবিদ। তিনি শহিদ বেহেশতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। রাইসির মেয়েরাও উচ্চশিক্ষিত। রাইসির শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামুল হুদা মাশহাদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি এবং জুমা নামাজের প্রধান খতিব। এদিকে প্রেসিডেন্ট রাইসির প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিরোধ সংগঠনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও ছিলেন। তারা তেহরানে নিজেদের উপস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন গতকাল। 

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব শেখ নায়িম কাসেম, ইয়েমেনের হুথি আনসারউল্লাহর প্রতিনিধিসহ আরও কয়েকজন প্রতিরোধকামী নেতা। 

গত রবিবার যে আটজন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন, তাদের একেকজনকে একেক জায়গায় দাফন করা হয়েছে। কেউ কেউ তাদের দাফনের বিষয়ে ওসিয়াত করে গিয়েছিলেন। আত্মীয়স্বজনরা তাদের নিজেদের এলাকায় দাফন করতে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে গতকাল বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। তেহরানে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও ওই দোয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নিহতদের সম্মানে দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। 

যুক্তরাজ্যে নির্বাচন ৪ জুলাই

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:০৭ এএম
যুক্তরাজ্যে নির্বাচন ৪ জুলাই
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচন আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক গত বুধবার (২২ মে) নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করেন। এ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো জয়লাভ করতে চাইছেন রক্ষণশীলরা। 

ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবর বা নভেম্বরে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে জুলাইতে নির্বাচন হবে বলে জানান সুনাক। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, অনেকেই মনে করেছিলেন শরতে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন টরিরা প্রতিপক্ষ লেবারের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারবে। 

সুনাকের প্রতিপক্ষ লেবার পার্টির স্যার কেইর স্টার্মার বলেছেন, টরি বিশৃঙ্খলা থেকে সরে এসে ‘পরিবর্তনের সময়’ চলে এসেছে। জাতীয় মতামত জরিপে লেবার পার্টিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি দলটি আগেই জানিয়েছে, তাদের প্রচারের কর্মকাণ্ড সাজানো-গোছানো রয়েছে, যেকোনো মূহূর্তে শুরু করা সম্ভব হবে সেটি। 

নির্বাচন এগিয়ে আনার কারণে যুক্তরাজ্যে আজ শুক্রবার পার্লামেন্ট স্থগিত করে দেওয়া হবে। এর পর আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টের ইতি টানা হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি প্রচারের জন্য পাঁচ সপ্তাহের সময় পাবেন।  

কোনো আইন পাসের জন্য যুক্তরাজ্যের হাতে আর মাত্র দুইদিন সময় আছে। বিবিসি বলছে, সরকারের যে বেশ কিছু কাজ মুলতবি রাখতে হবে, তা-ও বোঝা যাচ্ছে।

নির্বাচনি প্রচার শুরু

এদিকে, নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণার পর সুনাক ও স্টার্মার নিজ নিজ নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। যুক্তরাজ্যের ডার্বিশায়ারে গিয়ে সুনাক বলেছেন, দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। তিনি এ সময় আরও জানান, ছোট নৌকা দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে আসা অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে রুয়ান্ডার উদ্দেশে যে ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, তা নির্বাচনের আগে আর হবে না।
অন্যদিকে স্টার্মারকে বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্টে প্রচার চালাতে দেখা গেছে। সূত্র: বিবিসি