ইরান, ভারত, আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানের কর্মকর্তারা সম্প্রতি তৃতীয় যৌথ কর্মশালায় অংশ নেন। ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধির কৌশল খুঁজে বের করা এবং ইরানের চাবাহার বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন ও ট্রানজিট সহজ করার কথা বলেন বক্তারা। খবর তেহরান টাইমসের।
খবরে বলা হয়, ইরানের পক্ষে চাবাহার বন্দরের পোর্ট ও অর্থনৈতিকবিষয়ক উপপরিচালক হোসেইন শাহদাদি বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন। এ ছাড়া ভারতের বন্দর, শিপিং ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এবং উজবেকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরানের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা বৈঠকে অংশ নেন।
এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত, যা বিশেষত মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকের আলোচনা চাবাহারের কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে ছিল, যা মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। অংশগ্রহণকারীরা বন্দরটির বর্তমান অবকাঠামো ও কার্যক্রমের ক্ষমতা পর্যালোচনা করেন, পাশাপাশি বাণিজ্যের প্রধান বাধাগুলো যেমন- সরকারি কাজের জটিলতা, লজিস্টিক সমস্যা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া কর্মকর্তারা চাবাহারের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচনে সহায়ক ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা, মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ বৃদ্ধি করা এবং চাবাহারের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পদক্ষেপগুলো চাবাহারকে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক গেটওয়ে হিসেবে তার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
চাবাহার বন্দর আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো স্থলবেষ্টিত দেশের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত এবং নিরাপদ বাণিজ্য পথ, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে ঐতিহ্যগত বাণিজ্য পথের একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। বিশেষত ভারত চাবাহারে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে। এটি তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়া, আফগানিস্তান ও তার বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। চাবাহার বন্দরটি ভারতের আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়, যা ইরান ও মধ্য এশিয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতকে সংযুক্ত করার একটি মাল্টিমোডাল বাণিজ্য পথ।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে করাচি বন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ভারত চাবাহারকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। কাজাখস্তান, উজবেকিস্তানের মতো দেশ এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসা বাড়াতে চায়। চাবাহারের নিকটতম ভারতীয় বন্দর হচ্ছে গুজরাটের কান্দালা, যার দূরত্ব ৫৫০ নটিক্যাল মাইল। আর মুম্বাইয়ের দূরত্ব ৭৮৬ নটিক্যাল মাইল।