হাজারো শিক্ষার্থীর এফ-১ ভিসা বাতিলের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিন ভারতীয় এবং দুই চীনা শিক্ষার্থী। একই অভিযোগে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়।
রবিবার ( ২০ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং এপি পৃথক দুই প্রতিবেদনে জানায়, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন(এসিএলইউ)শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিউ হ্যাম্পশায়ারের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করে।মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর এফ-১ শিক্ষার্থীর মর্যাদা বাতিল করার অভিযোগ আনা হয়।
এপির প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চের শেষ দিক থেকে ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয় অথবা তাদের আইনি মর্যাদা বাতিল করা হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতি এবং স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা চিঠিপত্রের পর্যালোচনা অনুসারে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এই মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এঈ সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রত্যাবাসন বা ভিসা বাতিলের মতো সমস্যা ছাড়াও ‘গুরুতর আর্থিক ও শিক্ষাগত সমস্যার’ সম্মুখীন হচ্ছেন। এ সকল বিদেশি শিক্ষার্থীদের আইনি মর্যাদা বাতিল করার আগে সরকার প্রয়োজনীয় নোটিশ দেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চীনা নাগরিক হাংরুই ঝাং ও হাওয়াং আন এবং ভারতীয় নাগরিক লিংকিত বাবু গোরেলা, থানুজ কুমার গুম্মাডাভেলি ও মণিকান্ত পাসুলা। হাংরুইয়ের এফ-১ ভিসা মর্যাদা বাতিলের কারণে তার গবেষণা সহকারীর পদ বাতিল হয়ে গেছে। হাওয়াং এরই মধ্যে প্রায় সোয়া তিন লাখ ডলার পড়াশোনার পেছনে খরচ করলেও তিনি ডিগ্রি অর্জন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতি কঠোর করার ফলে আন্তর্জাতিক ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ চীনা ও ভারতীয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভিসা ‘বিশেষ অধিকার’, যেটি যে কোনো সময় বাতিল করা যেতে পারে। সূত্র: এপি এবং এনডিটিভি
দিনা