ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মবিরতিতে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎকরা মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমুদ্রের তলদেশে বিচিত্র এক সুতোয় বাঁধা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয় স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের প্রথম দিনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জাতীয় বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি ট্রাকসহ ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ Your Favourite Teacher/Favourite Personality বিষয়ক Writing Paragraph, ৩১তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা
Nagad desktop

জনগণের ভোটে বিচারক নির্বাচন, বিশ্বের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশ মেক্সিকো?

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৫, ০৩:২৬ পিএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম
জনগণের ভোটে বিচারক নির্বাচন, বিশ্বের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশ মেক্সিকো?
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেক্সিকান ভোটাররা প্রায় দুই হাজার ৬০০ জন বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচন করবেন, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট এবং শত শত অন্যান্য ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় ট্রাইব্যুনালে বিচারকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

রবিবার (১ জুন) মেক্সিকান ভোটাররা এই কঠিন কাজের মুখোমুখি হবেন। এর মাধ্যমে দুই দফায় দেশের প্রায় সাত হাজার বিচারক সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।

এই নির্বাচন দেশটির বিচার বিভাগকে নিয়োগ-ভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে এমন একটি ব্যবস্থায় নিয়ে যাবে, যেখানে ভোটাররা সরাসরি তাদের বিচারকদের নির্বাচন করবেন।

বিগত শতাব্দীর রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারপন্থিরা বলছেন, এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে আরও গণতান্ত্রিক করে তুলবে। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। 

অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, এটি শাসকদলকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ একটি উদ্যেগ। এছাড়া এই ব্যবস্থা আদালতগুলোকে যাদের অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার অভাব রয়েছে, অথবা অপরাধী গোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত এমন প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।

তবে পরীক্ষামূলক এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর আসলে এটি কীভাবে কাজ় করবে, তা আগেই বলা কঠিন। 

মেক্সিকোর বিচারক নির্বাচন সম্পর্কে আপনার যা জানা উচিত, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

মেক্সিকোর ক্ষমতাসীন দল মোরেনা বলছে, দেশটির বর্তমান বিচারব্যবস্থায় বিচারকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই সরাসরি জনগণের ভোটে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক থেকে শুরু করে আপিল আদালতের সদস্য এবং সব স্তরের বিচারক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এ বিষয়ে একটি আইনও পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

মেক্সিকানরা কেন বিচারকদের  নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে?

এই নির্বাচন একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি যেখানে ক্ষমতাসীন দল মোরেনা এবং তার মিত্ররা গত বছর আদালত ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন করেছে।

জনসাধারণের ভোটে বিচারক নির্বাচনের ধারণাটি আসে সাবেক প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোর কাছ থেকে। যা তার উত্তরসূরী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সেটি সমর্থন করেছিলেন।

দেশটির ফেডারেল বিচারকরা সেই সরকারের কিছু পরিকল্পনা - যেমন মেক্সিকোর নির্বাচনী নজরদারি সংস্থাকে দুর্বল করা এবং ন্যাশনাল গার্ডকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে আনা ও বাধাগ্রস্ত করার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তার কিছু প্রকল্প স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়ার পর লোপেজ ওব্রাডর এই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেন।

এই রায়গুলো আসার পর লোপেজ ওব্রাডর ক্ষুব্ধ হয়ে এগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। এর পরই গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে দলটি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়ে আদালত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্বের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ হিসেবে সরাসরি জনগণের ভোটে সব স্তরের আদালতের বিচারক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো। তবে এর আগে ২০০৯ সালে বলিভিয়া কিছু বিচারকের জন্য এ ধরণের নির্বাচনব্যবস্থা চালু করেছিল। কিন্তু এই নির্বাচনে অনেক ভোটারই খালি ব্যালট জমা দিয়েছিলেন। ফলে প্রক্রিয়াটি তখন থেকে আপাতত স্থগিত আছে। 

এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশেও স্থানীয় বা পরোক্ষভাবে বিচারকদের নির্বাচন করা হয়। কিন্তু জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পুরো বিচারব্যবস্থায় বিচারক নির্বাচন করা একমাত্র দেশ হতে যাচ্ছে মেক্সিকো।

চলুন, এই সংস্কারের কিছু বড় দিক জেনে নিই-

বিচারকদের নির্বাচন যেভাবে হবে

সংস্কারের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিচারক পদে দাঁড়ানোর জন্য একজন ব্যক্তির শুধু আইনের ডিগ্রি, ভালো ফল এবং বিচারিক ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা (যা স্পষ্ট করে বলা হয়নি) থাকতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে একটি সুপারিশপত্রও লাগবে। 

প্রার্থীদের আবেদন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা যাচাই-বাছাই করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম লটারি করে বেছে নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতা দরকার হবে।

কিন্তু এই নির্বাচন ঘিরে অনেক প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে। যেমন ব্যালটে কতজনের নাম থাকবে? শত শত, এমনকি হাজার হাজার অপরিচিত ব্যক্তি এসব পদের জন্য লড়তে পারেন। ভোটাররা কি এত প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করবেন, নাকি রাজনৈতিক দলগুলো শুধু তাদের পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা সমর্থকদের হাতে তুলে দেবে?

এ ছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার খরচ কে বহন করেছে, তা পরিষ্কার নয়। যদিও প্রস্তাবে প্রচারণার খরচ ও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তবে যারা বিচারক প্রার্থীদের অর্থায়ন করতে রাজি হন, তাদের হয়তো আদালতের মামলায় বিশেষ স্বার্থ থাকতে পারে।

এছাড়া ভোটারদের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো, ভোট প্রদানের জটিলতা। যেমন মেক্সিকো সিটির জনগণকে স্থানীয় ও ফেডারেল বিচারকদের জন্য ৯টি ব্যালট দেওয়া হবে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে সাত হাজার বিচারকের মধ্যে দুই হাজার ৬০০ জন নির্বাচিত হবেন। বাকিরা ২০২৭ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচনের পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের সংখ্যা ১১ জন থেকে কমিয়ে ৯ জন করা হবে এবং তাদের মেয়াদ ১৫ বছর থেকে কমিয়ে ১২ বছর করা হবে।

মেক্সিকোর স্থানীয় এল ইউনিভার্সাল ও এল পাইস সংবাদপত্রের জরিপ অনুসারে, মাত্র অর্ধেক ভোটার এই নির্বাচনের তারিখ জানেন এবং ১০ জনের মধ্যে মাত্র চারজন নিশ্চিত করেছেন, তারা ভোট দিতে যাবেন (শতকরা ৪০ শতাংশ)। 

তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম ভোটাররা কম অংশগ্রহণ করবেন এমন আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি। এই অভিজ্ঞ বামপন্থি নেত্রী বলেন, ‘মানুষ খুব বুদ্ধিমান এবং তারা জানে, কাকে ভোট দেবেন।’

বর্তমানে মেক্সিকোতে বিচারক যেভাবে হন

বর্তমানে বিচারক ও আদালতের সচিবরা (সহকারী বিচারকদের মতো) নিয়মিত পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে উচ্চ পদে উন্নীত হন।

বর্তমান ব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে এবং এতে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারকদের শাস্তির আওতায় পড়ে না। তাছাড়া, কিছু বিচারক আইনসভা বা নির্বাহী শাখা দ্বারা মনোনীত বা নির্বাচিত হন।

মেক্সিকোর ক্ষমতাসীন দল মোরেনা বলছে, ভোটাররা বিচারক নির্বাচন করলে তারা দায়িত্বশীল হবেন এবং খারাপ বিচারকদের শাস্তি দেওয়াও সহজ হবে। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারকরাই যে মেক্সিকোর একমাত্র সমস্যা, তা নয়। অভিযোগ আছে, মেক্সিকোর পুলিশ এবং আইনজীবীরা এতটাই অদক্ষ ও রাজনৈতিক চাপে থাকেন যে ৯০ শতাংশের বেশি অপরাধের বিচার আদালতেই আসে না।

ফলাফল কখন জানা যাবে?

মেক্সিকোতে কাগজের ব্যালট ব্যবহার করে ভোট দেওয়া হয় এবং সেগুলো সব হাতে গণনা করতে হয়। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করতে দেশব্যাপী ১৫ জুন ভোট গণনা করা হবে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং দ্য ইকোনমিস্ট

সুলতানা দিনা/অমিয়/

আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ায় ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বর্তমান নির্বাচনই নির্ধারণ করে দেবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে আরও এগিয়ে যাবে, নাকি  ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার দিকে ফিরবে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এই ছোট দেশটি মস্কোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইউরোপীয় একীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনর্নির্বাচন চাইছেন।

এই নির্বাচন আর্মেনিয়ার প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ- দেশটি তার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার রাশিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পশ্চিমের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন পাশিনিয়ান। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিকোল পাশিনিয়ান দেশকে ধীরে ধীরে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে আনেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি আইন পাস করেন। এতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও লাভ করেন।

এসব কূটনৈতিক সাফল্যের পরও পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা কমেছে। ২০২১ সালে তার সমর্থনের হার ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এবার পাশিনিয়ানের নির্বাচনী স্লোগান হলো- ‘শান্তির পক্ষে দাঁড়ান’।

পাশিনিয়ানের বিরোধীরা এখন বিভিন্ন দল ও জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচারিয়ানের নেতৃত্বাধীন ‘আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স’। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্ঝ সার্গসিয়ানের রিপাবলিকান পার্টি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থকদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশিনিয়ানের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রাশিয়ায় ধনী ব্যবসায়ী সামভেল কারাপেতিয়ান। তিনি বর্তমানে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন। কারাপেতিয়ান তার ভাতিজার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সবশেষ ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, পাশিনিয়ানের ‘সিভিল কনট্রাক্ট’ দল ৩২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপরই আস্থা রাখেন না। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হতো, তাহলে তারা পাশিনিয়ানের ভোটের সমান সমর্থন পেতে পারতো। কিন্তু বিভক্ত অবস্থায় তারা তাকে পরাজিত করতে পারবে না।

খাদিজা রুমি/

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

মে মাসের শুরুতে আফ্রিকার দেশ ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বুনিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর চার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ডি আর কঙ্গোতে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে পরে পরীক্ষা করা ১৩টি নমুনার মধ্যে আটটিতে ইবোলা শনাক্ত হয়, আর পাঁচটির ফলাফল অস্পষ্ট ছিল।

জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে আক্রান্তরা বুন্ডিবুগিও ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি মানুষের মধ্যে ইবোলা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম চার ধরনের অর্থো-ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন।

বর্তমানে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। আক্রান্তদের সহায়ক চিকিৎসা দেওয়াই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগীদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তবমির মতো উপসর্গ দেখা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ রোগীর বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

এর আগে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের দুটি প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছিল- একটি ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। ওই দুই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রাদুর্ভাবটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এটিকে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। তবে জনবহুল পরিবহনকেন্দ্র গোমা শহরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় রোগটি দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন এই প্রাদুর্ভাব বেশি উদ্বেগজনক?

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলো ছিল ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় এবং ২০১৮-২০২০ সালে ডি আর কঙ্গোর নর্থ কিভু অঞ্চলে। সেসব প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল জায়ার প্রজাতির ইবোলা, যার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত টিকা বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন মূল ভরসা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা নিতে অনীহা তৈরি হয়।

নিয়ন্ত্রণে বাধা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ডিআর কঙ্গোর নাজুক পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব প্রস্তুতি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সরঞ্জাম অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হওয়ায় জনগণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের চলাচলের কারণে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?

পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জটিল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক নারী চিকিৎসা পান না এবং পরিবার ভেঙে পড়ায় শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা এ ঝুঁকিরই প্রমাণ।

এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে, তারাও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ডি আর কঙ্গো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটি প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ, রোগী বাছাই ও আইসোলেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণকে রোগ শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি নগদ সহায়তা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

এখন কী প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পিপিইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী দেশগুলো, ডব্লিউএইচও, আফ্রিকা সিডিসি এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জনস্বাস্থ্য তথ্য, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি

তামান্না রুপা/

বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে তেহরান। তাদের দাবি, ফুটবল দলের ব্যাকরুম স্টাফদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের ১০ দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহযোগী স্টাফদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, 'মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর জন্য ইরানকে এই সুযোগ অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।'

তুরস্কে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে 'খেলাধুলায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ' বলে নিন্দা জানায়।

দূতাবাস জানায়, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সহসভাপতিসহ ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কঠোর ভিসা শর্তের কারণে ইরানি দলকে কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষেই দেশ ছাড়তে হবে।

এই আচরণকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানায় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপটি একটি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথেয়তা দিচ্ছে, যাদের সঙ্গে তারা বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নেয়, কারণ ইরানি স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী এই বাহিনীর অধীনেই বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করতে হয়েছে।

এদিকে ইরানি দলটি ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা অবস্থান করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ইরানের।

অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: বিবিসি

আজহার/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি সামাজিক উৎসবের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। 

টলেডো পুলিশের ডেপুটি প্রধান জো হেফারনান জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে এবং তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করেই গুলি করছিল।

টলেডো পুলিশ বিভাগ জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাতে শহরের ঐতিহাসিক এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’-এর কাছেই এ ঘটনা ঘটে। উৎসবটিতে লাইভ সংগীত, ঐতিহাসিক বাড়ি পরিদর্শন, খাবারের স্টল এবং কেনাকাটার নানা আয়োজন ছিল।

পুলিশ জানায়, হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেন, আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ মিলনস্থল হওয়া উচিত, যেখানে সহিংসতার কোনো ভয় থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শোনার পর মানুষ আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাকর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কেভিন বেরি জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৃক্ষ উদ্যানে বসে লাইভ সংগীত উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে তিনি সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন।

কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তার অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। উৎসবে আগে থেকেই দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।

মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেরি জানান, তিনি আহতদের খুঁজে বের করতে এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখেছেন।

দুই দিনব্যাপী ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’ টলেডোর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন আয়োজন। কেভিন বেরি এটিকে টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

এইচআইভি বা এইডস প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ‘সুপার হিউম্যান’ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সন্ধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই হিসাবকে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তারা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ব্যতিক্রমী মানুষ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে এইচআইভি নিরাময়ের কার্যকর পথ দেখাতে পারবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর নারীর গল্প। লোরিন উইলেনবার্গ নামের ৭১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গত তিন দশক ধরে এইচআইভি গবেষকদের কাছে ছিলেন এক গভীর রহস্য। ১৯৯২ সালে লোরিনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু লোরিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অলৌকিক ঘটনা। কোনো ধরনের ওষুধ না খেয়েই তিনি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পার করেছেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লোরিন উইলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে সবসময় বলতেন, এইচআইভির বিরুদ্ধে আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই আলাদা। অনেক বছর ধরে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে তারা জানতেন আমি সাধারণ নই।’

চলতি বছরের এপ্রিলে লোরিন মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘এলিট কন্ট্রোলার’। এটি এমন একদল এইচআইভি পজিটিভ মানুষকে বোঝায় যাদের শরীর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিশ্বে মোট এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মানুষগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রোগীকে বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

উইলেনবার্গের ঘটনা আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে ২০২২ সালে। সে সময় তার চতুর্থ ধাপের ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যায়। অস্ত্রোপচার ও শক্তিশালী ওষুধে তিনি ভালো সাড়া দেন। তবে এসব চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা। ফলে শরীরে লুকিয়ে থাকা এইচআইভি আবার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গবেষকরা যখন তার শরীরের কোটি কোটি কোষ পরীক্ষা করেন, তখন তারা এইচআইভির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি।

ম্যাস জেনারেল ব্রঘাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের রাগন ইনস্টিটিউটের মেডিসিনের অধ্যাপক জু ইউ দীর্ঘদিন ধরে লোরিনের শরীর নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘লোরিন সম্ভবত পুরোপুরি এইচআইভি মুক্ত হয়ে গেছেন।’ তবে এই সুখবর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান উইলেনবার্গ। কিন্তু তার জীবন বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে; তা হলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভির মতো ভাইরাসকেও পরাজিত করতে পারে।

শুধু লোরিন একাই নন, আর্জেন্টিনার আরেক নারীও বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এই নারী ‘এসপেরানজা রোগী’ নামে পরিচিত। স্প্যানিশ ভাষায় এসপেরানজা অর্থ ‘আশা’। গবেষকদের ধারণা, তিনিও হয়তো লোরিনের মতো প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ‘এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্যভেদ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এইডসের স্থায়ী নিরাময় আবিষ্কার করা সম্ভব।’

সাধারণত এইচআইভি শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের কোষের ডিএনএর সঙ্গে নিজের জিনগত উপাদান যুক্ত করে বংশবিস্তার করে। ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। চিকিৎসা না করালে রোগী এইডসে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ কোনো সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনেই মারা যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল’ নামের ওষুধ আবিষ্কারের পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এই ওষুধ ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়, যার ফলে আক্রান্তরা কিছুটা সুস্থ জীবন পান। 

তবে সমস্যা হলো, এই ওষুধ সাধারণত ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। এইচআইভি শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে রক্ত, লিম্ফ নোড, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রে এর গোপন ভান্ডার বা ‘রিজার্ভয়ার’ তৈরি হয়। সুযোগ পেলেই সেখান থেকে ভাইরাস আবার সক্রিয় হতে পারে। এখানেই লোরিন বা এসপেরানজার মতো এলিট কন্ট্রোলারদের শরীর আলাদা।

২০২০ সালে অধ্যাপক শু ইউ ও তার সহকর্মীরা ৬৪ জন এলিট কন্ট্রোলারকে নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান, এসব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে ডিএনএর এমন কিছু এলাকায় আটকে রাখে, যেগুলোকে ‘জিন ডেজার্ট’ বলা হয়। আমাদের সবার জিনোমে এমন কিছু এলাকা থাকে যার কোনো কাজ নেই, এগুলো নিষ্ক্রিয়। এলিট কন্ট্রোলারদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে তাড়িয়ে ঠিক ওই নিষ্ক্রিয় এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসটি সেখানে আটকা পড়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য শরীরের কোনো অংশ ব্যবহার করতে পারে না।

অধ্যাপক জু ইউ-এর ভাষায়, ভাইরাসগুলো শরীরে ঠিকই থাকে, কিন্তু সেগুলো এমন এক জায়গায় বন্দি থাকে যেখান থেকে আর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই ঘটনা ‘পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কন্ট্রোলার’ নামে পরিচিত আরেক গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তারা শুরুতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিলেও পরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর পরও তাদের শরীরে ভাইরাস আর সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু সিডি৮+ টি-সেল নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’।

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে ন্যাচারাল কিলার সেলকে সক্রিয় করবে। এতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক জু ইউ জানান, এলিট কন্ট্রোলারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। পুরুষদের চেয়ে নারীদের এলিট কন্ট্রোলার হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এইডসের বেশির ভাগ পরীক্ষামূলক গবেষণা পুরুষদের ওপরই করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরও বেশি গবেষণা হলে এই রোগ নিরাময়ের পথ আরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে লোরিন উইলেনবার্গ এক আবেগঘন কথা বলেছিলেন, ‘আমি এই মহামারির শেষ দেখে যাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবদান যদি বিজ্ঞানকে একটুও এগিয়ে নিয়ে থাকে, তবে তা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান।’

লোরিন হয়তো পৃথিবী থেকে এইডসের চিরতরে বিদায় দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি যে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা কোটি কোটি মানুষকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি