ভূমিকম্পের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের কারাগার থেকে পালিয়েছেন দুই শতাধিক কয়েদি। মূলত ভূমিকম্পের সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আর সে সুযোগকেই কাজে লাগান তারা। ঘটনাটি ঘটেছে করাচি শহরের মালির কারাগারে।
পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে ৭৮ জনকে দ্রুতই আবার আটক করা হয়। কিন্তু এখনো অন্তত ১৩০ জন কয়েদিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের পুলিশ এ তথ্য জানায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, যারা এখনো ফেরারি, তাদের ধরতে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া-উল-হাসান লাঞ্জার বলেন, ভূমিকম্পের হাত থেকে বাঁচাতে কয়েদিদের কারা প্রকোষ্ঠের বাইরে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল বন্দি রক্ষীদের ওপর আক্রমণ করেন, তাদের অস্ত্র নিয়ে নেন ও গুলি চালান।
এদিকে কয়েদিদের আবার আটকের চেষ্টার সময় এক বন্দি পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান গুলাম নবি মেমন এক কয়েদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, তিন রক্ষী এ সময় আহত হয়েছেন।
কারাগারের বিপরীত পাশে থাকা এক আবাসিক ভবনের নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। এর কিছু সময় পর চারদিক থেকে কয়েদিরা দৌড়ে আসতে থাকেন।’ কয়েকজন কয়েদি ওই সময় আবাসিক ভবন কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন বলেও জানান তিনি।
গতকাল রয়টার্সের এক সাংবাদিক ওই কারাগার পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ভাঙা কাচ, ভাঙচুর করা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ দেখতে পান। কারাবন্দিদের সঙ্গে স্বজনরা যে কক্ষে দেখা করেন, সেটিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্বিগ্ন অনেক স্বজনকে কারাগারের বাইরে অপেক্ষাও করতে দেখা যায়।
পাকিস্তানে কারাগার থেকে কয়েদিদের পালিয়ে যাওয়া নতুন ঘটনা নয়। এর আগে দেরা ইসমাইল খানে পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠীর হামলার সময়ও শত শত কয়েদি পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও উন্নত করা হয়। সূত্র: রয়টার্স