ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে কেন, তা নিয়ে বুধবার (১৫ গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। কেন জুন মাসেই এই অভিযান শুরু করা হলো, সে ব্যাপারেও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রের বেঞ্চ বলেন, হঠাৎই এতগুলো রাজ্যে বাংলাদেশিদের শনাক্তে তল্লাশি শুরু হলো কেন? এর পেছনে কী যুক্তি আছে? এই কাজের জন্য জুন মাসকেই কেন বেছে নেওয়া হলো?
আদালত জানতে চান, ‘ধরুন, পুলিশ একযোগে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়, সেটা সাধারণত পরিকল্পনার অংশ হয়। এ ক্ষেত্রেও কি তাই? এমনও অভিযোগ উঠছে যে, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য কিছু মানুষকে আটক করা হয়েছে।’
বিচারপতি চক্রবর্তী বলেন, ‘এ বিষয়ে কেন্দ্রের ব্যাখ্যা দরকার। না হলে ভুল বার্তা যেতে পারে। যেমন বলা হচ্ছে, শুধু বাংলা বলার কারণেই লোকজনকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সম্প্রতি কাশ্মীরের পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সন্দেহজনক গতিবিধির ভিত্তিতে ১৬৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন স্বীকার করেছেন যে তারা বাংলাদেশি, বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রের আইনজীবী। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক কুমার চক্রবর্তীর দাবি, এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আগেই মামলা হয়েছে। একই ব্যক্তিদের নাম দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবার মামলা করা হয়েছে। আদালতে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।