রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ উপকূলে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি সতর্কতা ধীরে ধীরে তুলে নিচ্ছে একের পর এক দেশ। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্কে ঘরছাড়া হওয়া লাখ লাখ মানুষ এখন ঘরে ফিরছেন।
৮ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে আঘাত হানে রাশিয়ার দুর্বল জনবসতিপূর্ণ কামচাটকা উপদ্বীপে। এর প্রভাবে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, পেরু, ইকুয়েডরসহ প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা। কিছু কিছু অঞ্চলে চার মিটার পর্যন্ত ঢেউয়ের আশঙ্কাও করা হয়েছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই শুরু হয় বিশাল আকারের উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম। জাপানে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। সতর্কতার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
চিলিতে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানায়, এটাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্থানান্তর অভিযান, যেখানে প্রায় ১৪ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত, সেখানেও কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উত্তর উপকূলে সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
সান্তা ক্রুজের বাসিন্দা ইসাবেল গ্রিজালভা বলেন, 'গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জেও তিন মিটার ঢেউয়ের আশঙ্কা থাকলেও পরে জানানো হয়, বিপদ কেটে গেছে। সব কিছু এখন শান্ত। আমি কাজে ফিরেছি। রেস্টুরেন্ট ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানগুলো আবার খুলেছে।'
পেরুতে ১২১টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর থেকে ৬৫টি বন্ধ রাখা হয়েছিল, হাওয়াই দ্বীপে বাতিল করা হয় আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে উচ্চ সতর্কতা ছিল, সাইরেন বাজানো হয়, বন্ধ ছিল স্কুল, পর্যটকদের নেওয়া হয়েছিল নিরাপদ স্থানে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাশিয়ার সেভেরো-কুরিলস্ক বন্দর শহর। সেখানে সুনামির ঢেউয়ে স্থানীয় মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্লাবিত হয়। শহরের উপকূল থেকে ৪০০ মিটার ভেতরে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত ঢেউ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মেয়র।
এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই শুরু হয় ক্লিউচেভস্কয় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। রাশিয়ার ভূবিজ্ঞান বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির পশ্চিম ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে গলিত লাভা, দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণ ও আলোকচ্ছটা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কামচাটকা অঞ্চলে এটি ১৯৫২ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পরবর্তী সপ্তাহে ৭ বা তার বেশি মাত্রার আফটারশক ঘটার সম্ভাবনা এখনো ৫৯ শতাংশ। ইতিমধ্যে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একাধিক আফটারশক আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এটি বিগত এক শতাব্দীর অন্যতম দশটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মধ্যে পড়ে।
যদিও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, তবে এ ভূমিকম্প ও সম্ভাব্য সুনামি থেকে অধিকাংশ দেশ বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবুও, বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী কয়েকদিন উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/