ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় পদত্যাগ করেন ২১ জুলাই। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুরর কাছে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেন, স্বাস্থ্যগত কারণে ও চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি পদত্যাগ করছেন।
কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর কার্যত নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন জগদীপ ধনকড়। অনেক সাংসদ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ধনখড়ের খোঁজ চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন উদ্বিগ্ন শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তিনি জানতে চাইলেন, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি কোথায় এবং তিনি কেমন আছেন?
জানা গিয়েছে, গত ১০ আগস্ট অমিত শাহকে এই চিঠি লেখেন সঞ্জয় রাউত। চিঠিতে তিনি জানতে চান, ‘আমাদের সাবেক উপরাষ্ট্রপতির সম্পর্কে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এখন কোথায় রয়েছেন? ওনার স্বাস্থ্য কেমন রয়েছে? এই বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কেউই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’
সোমবার এই চিঠি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন সঞ্জয়। বলেন, ‘দিল্লিতে এমন গুজব শোনা যাচ্ছে যে ধনখড়কে গৃহবন্দি করা হয়েছে। যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে তিনি নিরাপদে নেই।’
এক্স হ্যান্ডেলে রাউত লিখেছেন, ‘ধনকড় তো বটেই তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের সাবেক উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে কী ঘটেছে? তিনি কোথায় রয়েছেন? তিনি কি নিরাপদে আছেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার অধিকার দেশবাসীর রয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবারও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সঞ্জয়। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘সাবেক উপরাষ্ট্রপতি এখন কোথায় রয়েছেন সে বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিৎ। এবিষয়ে আদালতে যাওয়ার আগে সরকারের কাছে এই বিষয়ে প্রশ্ন রাখা উচিৎ বলে আমি মনে করেছি। আশা করছি শীঘ্রই এর জবাব পাব।’
সবাইকে অবাক করে গত ২১ জুলাই হঠাৎ পদত্যাগ করেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। তার এই পদত্যাগ নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয় দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে। কারণ পদত্যাগের কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও একদিন আগেও তিনি সংসদে বহাল তবিয়তে কাজ করেছেন। তাছাড়া, তার পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার আগেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা তার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।
এছাড়া, অতীতে অসুস্থ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে যিনি সংসদের কাজে যোগ দিয়েছেন তার এমন ইস্তফা স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা বাড়ায়। অনেকেই সরাসরি অভিযোগ করেন উপ-রাষ্ট্রপতির আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্যে বিজেপির হাত আছে।
কংগ্রেস মহাসচিব জয়রাম রমেশের সন্দেহ মোদি সরকারের চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধনখড়। তার কথায়, সামনে যেটুকু দেখা যাচ্ছে, পর্দার আড়ালে তার চেয়ে অনেক বড় কিছু ঘটে গিয়েছে। সেই জল্পনার মাঝেই এবার কার্যত নিখোঁজ হলেন জগদীপ ধনখড়।
সুলতানা দিনা/