পাকিস্তানের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বন্যার ভয়াবহতায় পাঞ্জাব প্রদেশের প্রায় ২ লাখ বাসিন্দাকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির খবর।
দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবি, শতলেজ ও চেনাব নদীর পানি উপচে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। এরপরই নৌকা নিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, দেশটির কর্মকর্তারা জানান, এদিকে ভারত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ খুলে দেবে বলে সতর্ক করেছে। এর আগে ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানে সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল।
সম্প্রতি দুই দেশই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার কবলে পড়েছে। এ বছর বর্ষায় শুধু পাকিস্তানেই বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে আট শতাধিক মানুষের।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের নদী ও জলাবদ্ধতা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বন্যার ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় সরকারকে সব রকমের সহায়তা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিয়ালকোটে গত ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা গত ৪৯ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। প্লাবিত হয়েছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা।
বিবিসি জানায়, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাযোগে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
সুলতানা দিনা/