ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন সোনারগাঁয় মেঘনা টোলপ্লাজায় লরির ধাক্কায় আহত ৬ খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় ফরিদপুরে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন
Nagad desktop

সুদানে গৃহযুদ্ধ কেন? মিসর-আরব আমিরাতের ভূমিকা কী

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম
আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম
সুদানে গৃহযুদ্ধ কেন? মিসর-আরব আমিরাতের ভূমিকা কী
সুদানের উত্তর দারফুরের তাভিলা এল-ফাশের থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে বসে আছে আহত এক কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরের তীরবর্তী ও আফ্রিকার উত্তরের দেশ সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে যে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম জটিল ও ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

এই সংঘাত কেবল সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (সুদানের সামরিক বাহিনী) এবং আধা-সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ-RSF)-এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই নয়; এটি মূলত বহু দশকের জমে থাকা সামরিক শাসনের সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফল। এই গৃহযুদ্ধ দেশটির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে গলা টিপে হত্যা করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলটিই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: যুদ্ধের মূল কারণ

সুদানে রক্তপাতের মূল কারণ খুঁজতে গেলে ঘটনার একটি ক্রমিক বিন্যাস অনুসরণ করা জরুরি, যা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তুলে ধরেছেন।

১. সামরিক অভ্যুত্থান ও ভঙ্গুর অংশীদারত্ব (২০২১)
২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সুদানে একটি বেসামরিক-সামরিক যৌথ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একটা ক্ষীণ আশা দেখা যায়। 

কিন্তু ২০২১ সালের অক্টোবরে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং RSF প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমদতি) সেই বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তখনই সতর্ক করেছিল যে, এই অভ্যুত্থান সামরিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আরও গভীর ফাটল তৈরি করবে।

২. আরএসএফ-কে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার ব্যর্থতা

সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আধা-সামরিক RSF কে সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস বা সুদানের মূল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে বুরহান এবং হেমদতির মধ্যে মতপার্থক্য। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে একটি চুক্তির অধীনে এই একীভূতকরণের কথা ছিল। বিবিসি নিউজ সহ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, হেমদতি তার বিশাল এবং সম্পদশালী বাহিনীকে বুরহানের কমান্ডের অধীনে বিলীন করতে রাজি ছিলেন না। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়কাল নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। হেমদতি সামরিক বাহিনীর ভেতরে নিজের প্রভাব ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারানোর ভয় পাচ্ছিলেন, যা সংঘাতকে অনিবার্য করে তোলে।

৩. অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বর্ণের রাজনীতি

RSF এর ক্ষমতা ও অর্থের প্রধান উৎস হলো সুদানের সোনার খনিগুলোর ওপর হেমদতির ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর মতো পত্রিকাগুলো প্রতিবেদন করেছে, হেমদতির পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠজনরা এই সোনার ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে, যা RSF এর জন্য অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের মূল ভিত্তি। 

এই অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য নিয়ে RSF এর সঙ্গে হেমদতির দীর্ঘদিন ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামরিক ক্ষমতা দখলের পাশাপাশি এই মূল্যবান সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও ছিল হেমদতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

৪. ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের বিস্ফোরণ

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল, রাজধানী কার্তুমসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সেনাবাহিনী এবং RSF এর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। দুই পক্ষই প্রথম গুলি ছোড়ার জন্য একে অপরের ওপর দোষ চাপায়। এই সামরিক সংঘাত মুহূর্তের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা দেশের অবকাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।

সুদানের বিভিন্ন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল। লাল অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে সুদানের সেনাবাহিনী, হলুদ অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্রোহী আরএসএফ, সবুজ অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক সমর্থন: ছায়াযুদ্ধের মঞ্চ

সুদানের এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর এক ‘ছায়াযুদ্ধের মঞ্চ’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। বিবদমান পক্ষগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে সামরিক, আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা পাচ্ছে।

আরএসএফ-আমিরাতের সম্পর্ক: আরএসএফ এর সবচেয়ে বড় বিদেশি সমর্থক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর নাম বারবার উঠে এসেছে। 

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব আমিরাত সুদানের প্রতিবেশি দেশ চাদের আমদজারাসে একটি ঘাঁটি তৈরি করেছে, যা আরএসএফ এর কাছে গোপনে অস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের রুট হিসেবে কাজ করছে। 

ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে মানবিক সহায়তার কথা বললেও, পশ্চিমা এবং জাতিসংঘ কর্মকর্তারা আরব আমিরাতের গোপন সামরিক সরবরাহের বিষয়ে নিশ্চিত বলে জানা যায়। 

আরএসএফ-কে সমর্থন করার পেছনে আরব আমিরাতের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং ইয়েমেন যুদ্ধে আরএসএফ-এর ভাড়াটে সৈন্য সরবরাহের মতো পুরনো ঋণ শোধের কারণও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুদানিজ সেনাবাহিনীর সমর্থকরা

সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)-এর প্রতি প্রধান সমর্থনকারী দেশ হিসেবে মিসরের নাম আসে। ঐতিহাসিকভাবেই মিসর ও সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। সংঘাত শুরু হওয়ার পর সুদানে আটক হওয়া মিসরীয় সৈন্যদের উপস্থিতি এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। 

এছাড়াও, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ অন্যান্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সৌদি আরব সুদানের সেনাবাহিনীকে ইরানি ড্রোন কেনার জন্য অর্থ সরবরাহ করছে। রাশিয়াও প্রথম দিকে আরএসএফ-এর প্রতি সমর্থন দিলেও, পরবর্তীতে তারা সেনাবাহিনীর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে কিছু গোয়েন্দা রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তুরস্কও ঐতিহাসিক এবং সামরিক চুক্তির মাধ্যমে সুদানের সামরিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান

ইসরায়েলের কৌশলগত ভূমিকা

ইসরায়েল সরাসরি সামরিক সহায়তা না করলেও, তারা সুদানের সামরিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ইসরায়েল কর্তৃক সংঘাতরত পক্ষগুলোকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা এই অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন। দেশটির দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল আরব দেশগুলোর ভেতরের অনারব গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা দুর্বল করা। ‍বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের পাড়ে সুদানের অবস্থান হওয়ার বিশ্ব শক্তিদের আকর্ষণ রয়েছে পোর্ট সুদানের আশপাশে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য। এডেন সাগর ও লোহিত সাগরে হুথিদের শক্ত অবস্থান ও হামলা এবার ভুগিয়েছে ইসরায়েল ও পশ্চিমা জাহাজগুলোকে। তাই সুদানেও ইসরায়েলের আগ্রহ রয়েছে।

আরএসএফ এর সর্বোচ্চ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগুলো (হেমদতি)

প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়: বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকট

সুদানের যুদ্ধকে জাতিসংঘ (ইউএন) ‘বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকট’ এবং ‘মানবতার জন্য এক দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হতাহতের সংখ্যা

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হলেও, যুদ্ধ ও এর সংশ্লিষ্ট কারণে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। 

সশস্ত্র সংঘর্ষের অবস্থান ও ইভেন্ট ডেটা প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত কেবল সংঘর্ষে ১৭ হাজার ৪৪ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইউএন ওএইচসিএ (OCHA)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধেই কমপক্ষে ৩ হাজার ৩৮৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। 

সম্প্রতি আরএসএফ কর্তৃক দারফুরের এল-ফাশের শহর দখলের পর সেখানে গণহারে বেসামরিক হত্যাকাণ্ড এবং জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে ইয়েল হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এই নৃশংসতার প্রমাণ পেয়েছে। এল-ফাশেরের একটি হাসপাতালে ৪৬০ জনেরও বেশি রোগী ও সঙ্গীকে হত্যার খবর দিয়েছে ইউএন ওএইচসিএ।

মানবিক সঙ্কট

সংঘাতের তীব্রতায় সুদানের মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ইউএন ওএইচসিএ) জানিয়েছে, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

বাস্তুচ্যুতি: প্রায় ৯ মিলিয়ন মানুষ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, এল-ফাশের থেকেও হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্ভিক্ষ: খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউএন ওএইচসিএ নিশ্চিত করেছে, দেশের বিভিন্ন অংশে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে ২৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ চরম ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে।

খোলা আকাশের নিচে গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুরা

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ১৮৫টিরও বেশি হামলার ঘটনা যাচাই করেছে, যা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করা অসম্ভব করে তুলেছে। হাসপাতালগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই সংঘাতের বিষয়ে বিশ্বের ‘উদাসীনতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে অতি জরুরি আন্তর্জাতিক চাপ এবং সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া সুদানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

 

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন।

কিম জং উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। এই নতুন প্ল্যান্টটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কিম এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো পারমাণবিক উপাদান রয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় একাধিক পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সক্রিয়তার কথা নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমকে উন্নত প্রযুক্তির গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন'-এর সিনিয়র গবেষক হং মিন জানান, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এখন আর গবেষণা পর্যায়ে নেই, বরং সরাসরি ‘গণহারে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন’ শুরু করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

অন্যদিকে, 'নিউক্লিয়ার ওয়েপনস ব্যান মনিটর'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সুত্র: সিএনএন

আজহার/

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-আতওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহতদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল স্থগিত করেছে ও আগত ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। কারণ টার্মিনাল ওয়ান ইরানি হামলার শিকার হয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত। 

দেশটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর থেকেই তারা ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

তেহরান অভিযোগ করে বলেছে, কুয়েত তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে সহায়তা করছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/