রাশিয়া চলতি বছরে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার বিধ্বংসী গ্লাইড বোমা তৈরি করছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০০টি থাকবে নতুন প্রযুক্তির দূরপাল্লার গ্লাইড বোমা।
গ্লাইড বোমা সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সস্তা এবং বিপুল পরিমাণে তৈরি করা যায়। কয়েক শ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারায় এগুলো বড় ভবনসহ সেনাঘাঁটিও ধ্বংস করতে সক্ষম। ইউক্রেনের খারকিভ ও খেরসনের মতো ফ্রন্টলাইন শহরগুলোতে এসব বোমা দিয়েই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা রাশিয়ার এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়া অস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা কারখানাগুলো এখন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তবে সামরিক উৎপাদনের বিস্তারিত তথ্য মস্কো সবসময়ই গোপন রাখে। এ জন্য রয়টার্স রাশিয়ার ২০২৫ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেনের ডেপুটি ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের প্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিৎসকির দেওয়া এ তথ্য এসেছে একটি সাক্ষাৎকার থেকে। তিনি সংখ্যাটি কীভাবে পেলেন বা আগের উৎপাদন হার কত ছিল—তা জানাতে চাননি। তবে তার মতে, গ্লাইড বোমা তৈরির ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
স্কিবিৎসকির ভাষ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ২০ হাজারের এই হিসাবের মধ্যে থাকবে সম্পূর্ণ নতুন বোমা এবং পুরোনো বোমাগুলোকে গ্লাইড বোমায় রূপান্তর করে আপগ্রেড করার প্রক্রিয়া।
স্কিবিৎসকি জানান, রুশ বাহিনী প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দিনে গড়ে প্রায় ১৭০টি বোমা বানিয়েছে তারা।
তিনি জানান, এসব বোমা গুলি করে নামানো সম্ভব, কিন্তু রাশিয়ার তৈরি বোমার সংখ্যা এত বেশি যে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়াই অসম্ভব। তাই এ হুমকি মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে।
আগে এসব গ্লাইড বোমার কার্যকর পাল্লা ধরা হতো সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার। ফলে রুশ পাইলটেরা সীমান্ত অতিক্রম না করেও নিরাপদে বোমা ফেলতে পারতেন। কারণ, বিমান সীমান্তের ওপারে গেলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করে দিতে পারে। তাই এ বোমা রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রাশিয়া এবার নতুন একধরনের গ্লাইড বোমা তৈরি করছে, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপের পর ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে যেতে পারবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এমন ৫০০টির বেশি বোমা তৈরির পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের ধারণা, রাশিয়া এই বোমাগুলোর পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা করতে পারলে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াই ইউক্রেনের বহু শহর টার্গেট করতে পারবে।
এদিকে, রাশিয়া দাবি করছে, তারা কখনো বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। অথচ ইউক্রেনে আক্রমণের শুরু থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। মস্কোর যুক্তি, ইউক্রেনের পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া রাশিয়ার জন্য হুমকি, যা ঠেকানো জরুরি।
সুলতানা দিনা/