গিনি-বিসাউয়ে সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টকে অপসারণের ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর জেনারেল হোর্তা এনটা না মান দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে এটি সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান।
আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ নেওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি হাই কমান্ডের নেতৃত্ব গ্রহণের শপথ নিলাম”।
এনটা না মান এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি অপসারিত প্রেসিডেন্ট উমারু সিসোকো এমবালো’র ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য প্রমাণ ছিল যথেষ্ট এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।
এক বিবৃতিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এউ) এর কমিশন চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে এমবালোসহ সব আটক কর্মকর্তার অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
নিজেদের “শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চ সামরিক কমান্ড” বলে পরিচয় দেওয়া সেনা কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার টেলিভিশন বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট এমবালোকে অপসারণের কথা জানান। সামরিক অভ্যুত্থানপ্রবণ দেশটিতে এটি সর্বশেষ অস্থিরতার ঘটনা।
এই ঘোষণা আসে সেই সময়, যখন এমবালো ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৭ বছর বয়সী রাজনীতিতে নতুন মুখ ফার্নান্দো দিয়াস এর মধ্যে কঠিন লড়াইয়ের নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশের কথা ছিল। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি কোকেন পাচারের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার রাজধানী বিসাউ ছিল বেশ শান্ত। রাস্তায় সৈন্য মোতায়েন ছিল এবং রাতের কারফিউ উঠলেও অনেক বাসিন্দা ঘরেই থাকেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বন্ধ ছিল।
বুধবার, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নিজ নিজ বিজয় দাবি করার এক দিন পর সেনা কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন যে তারা দেশের “পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” নিয়েছেন।
সেই ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর, প্রেসিডেন্ট ভবন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে টানা গুলির শব্দ শোনা যায়।
“আমাকে অপসারণ করা হয়েছে,” এমবালো বুধবার ফরাসি গণমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’ কে ফোনে বলেন। তিনি আরও জানান, “আমি বর্তমানে জেনারেল স্টাফ সদর দপ্তরে আছি।”
বিকেলে এমবালোকে আটক রাখা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল পিএআইজিসি’র নেতা দোমিঙ্গোস সিমোয়েস পেরেইরাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/