পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে জানিয়েছেন, দেশটিতে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। এর আগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাসকাল টাইগ্রির নেতৃত্বে কিছু সেনাসদস্য টিভি সম্প্রচারে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এবং সংবিধান স্থগিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটিতে থাকা ফরাসি দূতাবাস জানিয়েছে, সরকারের কেন্দ্রস্থল কোটোনু শহরে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে গুলির শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, তারা গুলির আওয়াজ শুনেছেন; এমনকি রাষ্ট্রীয় টিভির কয়েকজন সাংবাদিককে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। পরে এক প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা বলেন, তালন নিরাপদ আছেন এবং ফরাসি দূতাবাসে অবস্থান করছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাসান সাইদু বলেন, রবিবার সকালে (৭ ডিসেম্বর) একটি ছোট সেনাদল রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহ শুরু করে। কিন্তু বেনিনের সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের নেতৃত্ব শপথের প্রতি অবিচল থেকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভ্যুত্থানচেষ্টা নস্যাৎ করে। তিনি আরও জানান, সাধারণ জনগণকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সরকার অনুরোধ করছে।
ঘটনার পর কোটোনুর আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ব্লক করে রাখা হয়েছে এবং সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ বেনিন দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার তুলনামূলক স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। দেশটি মহাদেশের অন্যতম বড় তুলা উৎপাদক, যদিও বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর একটি হিসেবেই বিবেচিত।
ফ্রান্স ও রাশিয়ার দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কোটোনুর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিদ্রোহী সেনারা প্রেসিডেন্ট তালনের দেশ পরিচালনার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভ্যুত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষায়, “ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও কর্মের ভিত্তিতে গঠিত এক নতুন যুগের আশা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
৬৭ বছর বয়সী তালন পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত। দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আগামী বছর তিনি পদ ছাড়বেন; এপ্রিল মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা। তুলা ব্যবসায় ‘কিং অব কটন’ নামে পরিচিত তালন ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রথম ক্ষমতায় আসেন। তিনি তৃতীয় মেয়াদে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী রোমুয়াল্ড ওয়াদাগনিকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন করেছেন।
তালনের সমর্থকদের দাবি, তার নেতৃত্বে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলেন, বিরোধী মতকে দমনে সরকার কঠোর হয়েছে। গত অক্টোবরে যথেষ্ট সংখ্যক পৃষ্ঠপোষক না পাওয়ার অজুহাতে প্রধান বিরোধী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। গত মাসে সংসদে কয়েকটি সাংবিধানিক সংশোধন পাস হয়েছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় একটি সংসদীয় কক্ষ, সিনেট, গঠনের বিষয়ও রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/