ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য নিজের দেওয়া শর্তাবলীতে কোনো পরিবর্তনের আভাস দেননি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। উল্টো রুশ সম্পদ আটকে রাখার চেষ্টার জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অভিযুক্ত করেছেন। জব্দ রুশ সম্পদ থেকে নয়, বরং ভিন্ন উৎস থেকে ইউক্রেনকে আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ১০৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), এ ঘটনাকে পুতিন ইইউ’র ‘ডাকাতি’ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন: রুশ সম্পদ ব্যবহার না করে ইউক্রেনকে ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বড় ঋণে সম্মত ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের এই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত থামানোর চেষ্টা করছেন, তখন পুতিন বলছেন যে শান্তির পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব এখন ইউক্রেন ও ইউরোপের।
পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাত শেষ করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। এখন বল পুরোপুরি আমাদের পশ্চিমা প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে কিয়েভ সরকার এবং তাদের ইউরোপীয় মদতদাতাদের কোর্টে। আমরা আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান—উভয় বিষয়ের জন্যই প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প এমন একটি শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন যা ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মতে রাশিয়ার পক্ষে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে কিয়েভ দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং তারা পুতিনের শান্তির প্রস্তাবে বিশ্বাস করে না।
পুতিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন এবং ‘ডাইরেক্ট লাইন’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন।
পুতিন জানান, ২০২৪ সালের জুনে তিনি যে শর্ত দিয়েছিলেন তাতেই তিনি অটল আছেন। সেই শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আশা ছাড়তে হবে এবং রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে কিয়েভ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের কোনো জমি ছেড়ে দেবে না।
ইইউ-এর ঋণ ও রুশ সম্পদ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সম্প্রতি রুশ সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসে সরাসরি অর্থ ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুতিন একে তার ভাষায় ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, ইউরোপ বুঝতে পেরেছে এই ‘চুরি’ বা ‘ডাকাতি’ করলে তাদের নিজেদের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন পুতিন জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনে যদি নির্বাচন হয়, তবে সেই সময়ে রাশিয়া হামলা সাময়িক বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে।
মানহানির অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছে। এই বিষয়ে পুতিন সাংবাদকিদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি মনে করি বিবিসির সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে ট্রাম্প ঠিক কাজটাই করেছেন।
ঘটনার প্রসঙ্গে পুতিন ইউরোপীয় সম্প্রীতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা (রাশিয়া) ও ইউরোপীয় দেশগুলো একসঙ্গে আমাদের প্রচেষ্টা যুক্ত করি, তাহলে আমাদের সম্মিলিত জিডিপি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি হবে।”
পুতিন আরও বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ ন্যাটোর সাধারণ সম্পাদক আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’ সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/