ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
Nagad desktop

জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্নে টানা চতুর্থ বছর কমল চীনের জনসংখ্যা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
টানা চতুর্থ বছর কমল চীনের জনসংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

চীনের জনসংখ্যা ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে। জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে যাওয়ায় দেশটির বার্ধক্যজনিত সংকট, শ্রমশক্তি হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ৫০ লাখে। এক বছরে জনসংখ্যা কমেছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় দ্রুত পতন।

২০২৫ সালে চীনে জন্ম হয়েছে মাত্র ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশুর। এটি প্রতি এক হাজার জনে ৫ দশমিক ৬৩ জন, যা ১৯৪৯ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্ন। আগের বছর ২০২৪ সালে জন্ম হয়েছিল ৯৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জন্মহার কমেছে ১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ই ফুক্সিয়ান বলেন, ২০২৫ সালের জন্মসংখ্যা ১৭৩৮ সালের সমান, যখন চীনের মোট জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ কোটি।

একই সময়ে চীনে মৃত্যুহার বেড়েছে। ২০২৫ সালে মারা গেছেন ১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার মানুষ, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৩ হাজার। প্রতি এক হাজার জনে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৪, যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বোচ্চ। ফলে দেশটির জনসংখ্যা সংকোচন আরও তীব্র হয়েছে।

জন্মহার বাড়াতে সরকার নানা নীতি গ্রহণ করলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৫ সালে সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে শিশু যত্ন ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করে এবং এর জন্য ৯ হাজার কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দেয়। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় সব ধরনের প্রসব ব্যয়, এমনকি আইভিএফ চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবু তরুণদের বড় অংশ সন্তান নিতে আগ্রহী নয়। উচ্চ বেকারত্ব, অর্থনৈতিক ধীরগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে তারা প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

একটি শিশুকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে চীনে গড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ইউয়ান খরচ হয়, যা মাথাপিছু জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৩ গুণ। শহরাঞ্চলে এই ব্যয় আরও বেশি। দীর্ঘদিনের ‘এক সন্তান’ নীতির কারণে সমাজে এক সন্তানেই সীমাবদ্ধ থাকার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। যদিও এই নীতি ২০১৭ সালে তুলে নেওয়া হয়, তবুও এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

চীন দ্রুত বার্ধক্যজনিত সমাজে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। এতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমবে এবং পেনশন-ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এই বাস্তবতায় চীন ইতোমধ্যেই অবসর বয়স বাড়িয়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীনের জনসংখ্যা ও অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে। সূত্র: গার্ডিয়ান

চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি
ডেভিড হকনি। ছবি: এআই

কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার (১২ জুন) তার প্রচার কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার লন্ডনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া হকনির সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্ব কাঁপানো 'পপ আর্ট' আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সারথী ছিলেন।

ব্রাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট ও রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্বর্ণপদকসহ শিক্ষা শেষ করা হকনি তরুণ বয়সেই চেনা সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন এবং চিত্রশিল্পে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে হকনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানকার প্রাণোচ্ছল জীবন, বিশেষ করে সুইমিং পুলের পটভূমিতে আঁকা চিত্রকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।

পানির ওপর আলোর খেলা এবং ম্যাট অ্যাক্রিলিক পেইন্টের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি ক্যানভাসে এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিলেন।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের এক নিলামে তার বিখ্যাত পেইন্টিং 'পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)' প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা সে সময় কোনও জীবিত শিল্পীর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ফটোগ্রাফি ও স্টেজ ডিজাইনে দক্ষ হকনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রগামী ছিলেন। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারীদের সাথে মিলে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত ছবি আঁকা ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী দীর্ঘদিনের সঙ্গী জঁ-পিয়ের গনকালভেস দে লিমা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এসএন/

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি
শাহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই প্রথম শান্তি প্রতিষ্ঠার এত কাছাকাছি পৌঁছালো দুই দেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করতে পাকিস্তান এখন উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি, যা এখন এসেছে।

উভয় দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে সতর্ক করার পরই শাহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও চুক্তিটি ‘খুবই কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।


কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প
গণমাধ্যমের জল্পনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমের যেকোনও ধরনের অনুমান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোনও ইরানি অবরুদ্ধ সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে লিখেছেন, এই চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের উদ্বেগগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ইরান যদি তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করে, তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের এবং সমগ্র অঞ্চলে প্রবাহিত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের চিত্র বদলে দেওয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পুনরায় পোস্ট করেছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা চুক্তির সাতটি সম্ভাব্য মূল পয়েন্টের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে কোনও নতুন ছাড় দেওয়া হয়নি এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা হবে।

এসএন/

মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত

ফের আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ২ জুন বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ-এর আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে আগেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় কলকাতার ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগপত্রে ধর্মতলার ওই সভায় মমতার করা বিতর্কিত মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ কলকাতার ধর্মতলায় দলীয় সমাবেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম উহ্য রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন—

“আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, তখন এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে, তখন ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই ঘটনার ভিত্তিতে নেতাজি নগর থানায় মামলাটি করা হলেও শুক্রবার(১২ জুন) কলকাতার মামলাটি হেয়ার স্ট্রিট থানা-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে ১৯৬(১), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ বা শত্রুতা তৈরির চেষ্টা, ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে প্ররোচনার মতো বিষয়।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যের ফলে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার আরও দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্যের যোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এখন নজর থাকবে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় কি না। তবে এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এসএন/

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার বিষয়টি ‘এতটা কাছে আর কখনো আসেনি’ বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরান চুক্তির শর্তগুলো গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছে-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পরপরই এই মন্তব্য করলেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত গণমাধ্যমের উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের জল্পনা থেকে বিরত থাকা।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে চুক্তির সব বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির শর্তগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘সত্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে আরাঘচির এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এমন বক্তব্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্প এই পোস্টটি শেয়ার করে পরোক্ষভাবে আরাঘচির সেই আহ্বানের সঙ্গেই সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে ট্রাম্প নিজে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির কিছু শর্তকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন দুপক্ষই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

এসএন/

ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol-কে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

শুক্রবার (১২জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায়ে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশের পরিকল্পনায় ইউন শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি ওই অভিযানের নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। তাদের মতে, এটি ছিল উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর জবাব, যার সঙ্গে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির চেষ্টার ঘটনায় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অভিশংসন বহাল রেখে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে আদালত। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে জয়ী হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট Lee Jae Myung।

বর্তমানে হেফাজতে থাকা ইউন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/