উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন কিম জং উন। রবিবার পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত দলীয় কংগ্রেসে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে কিম পরিবার দেশটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখায় এই পুনর্নির্বাচনের বিষয়টি আগে থেকেই অনুমিত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উনের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক শক্তিকে কেন্দ্র করে ‘‘যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা’’ আমূল উন্নত করেছে। দীর্ঘকালীন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিষিদ্ধ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। তবে দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় সামরিক অগ্রগতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ করা কঠিন।
২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণকারী কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন, যা বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসের চতুর্থ দিনে কিম দেশের অস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কংগ্রেস শুরু হওয়ার আগেই উত্তর কোরিয়া বেশ কিছু পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন রকেট লঞ্চার প্রদর্শন করেছে।
গত এক দশকে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেসিএনএ-এর তথ্যমতে, প্রায় ৫ হাজার দলীয় সদস্যের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলন উত্তর কোরিয়ার অস্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে জানার এক বিরল সুযোগ করে দেয়। বৈদেশিক নীতি থেকে শুরু করে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—দেশটির ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারগুলো কী হবে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট থেকে।
কিম জং উন নেতৃত্বে বহাল থাকলেও ২০২১ সালের শেষ সম্মেলনের তুলনায় এবার দলের প্রেসিডিয়াম বা কার্যনির্বাহী কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ জন সদস্যের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে কিম দেশের অর্থনীতি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে একটি ‘‘গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি ঐতিহাসিক কাজ’’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে এই কংগ্রেসে সবার নজর ছিল কিম জং উনের কন্যা জু আয়ে’র দিকে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছিল যে, কিম তার উত্তরাধিকারী হিসেবে জু আয়ে’কেই বেছে নিয়েছেন। আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী জু আয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন অফিশিয়াল ইভেন্টে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন।
এর আগে বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সামরিক প্যারেডে তাকে বাবার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। উল্লেখ্য, সেই প্যারেডেই প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া, চীন এবং রাশিয়ার নেতাদের একত্রে দেখা যায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে একটি শক্তিশালী ঐক্যের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিম জং উনকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শি জিনপিং চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বের এক ‘নতুন অধ্যায়’ রচনায় কিমের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চীন দীর্ঘকাল ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ও মিত্র হিসেবে পাশে থাকলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিং কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/