ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত টাঙ্গুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল: বেলার উদ্বেগ প্রকাশ পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন দিল স্থানীয়রা পদ্মায় আবারও বাসডুবি, আগেই নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর নৌকাঘাট ব্যবহারের নির্দেশ জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ
Nagad desktop

ইসরায়েলের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ইসরায়েলের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জেরুজালেম সফরকে ঘিরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর আর্থিক পরিমাণ চোখধাঁধানো হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চুক্তির পরিমাণ ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। 

২০২৩ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা এগোচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। একইসঙ্গে মে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নয়াদিল্লির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার যুদ্ধ সক্ষমতার দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে।

ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চারটি প্রধান উপাদান নিয়েই সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা চলছে। এগুলো হলো—ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাফায়েলের ডেভিড’স স্লিং ও আয়রন ডোম, এবং রাফায়েল ও এলবিটের যৌথ আয়রন বিম। বিশেষ করে আয়রন ডোম ও আয়রন বিম নিয়ে ভারতের বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিশ্চিত করেনি বা ঘোষণা দেয়নি।

বর্তমানে ভারত রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইসরায়েলের সহযোগিতায় তৈরি আকাশ ও বারাকভিত্তিক সিস্টেম এবং কিউআরএসএএম ব্যবহার করছে। ইসরায়েল শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ নয়, বরং হুমকি শনাক্তকরণ ও বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে।

এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার রকেট ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এবং স্বল্পপাল্লার রকেট মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে।

ড্রোন যুদ্ধের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ক্ষেত্রেই চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন ইসরায়েলি কোম্পানি এ খাতে উচ্চপর্যায়ে প্রতিযোগিতা করছে এবং নানা ধরনের সমাধান প্রস্তাব দিচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমের হারমেস ৯০০ ড্রোন নিয়ে বড় একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একাধিক সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাফায়েলের স্পাইস গাইডেন্স কিটসহ ১০০০ বোমা, এলবিটের র‍্যাম্পেজ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আইস ব্রেকার নৌ-ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইএআই-এর সুপারসনিক এয়ার লোরা ক্ষেপণাস্ত্র।

আরও পড়ুন: ৮.৭ বিলিয়ন ডলারে ইসরায়েলের কাছ থেকে ১ হাজার ‘স্পাইস বোমা’ কিনছে ভারত

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চান মোদি।

ইসরায়েলি অস্ত্রের ৩৪ শতাংশ ক্রেতা ভারত

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২৪ সময়ে ইসরায়েলের মোট অস্ত্র বিক্রয়ের ৩৪ শতাংশই কিনেছে ভারত। বহু বছর ধরেই ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতা।

একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতে মোট অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ২০১২-২০১৭ সময়কালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায় এবং ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে, যখন জেরুজালেম নয়াদিল্লির কাছে নৌবাহিনীর জন্য বারাক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করে।

২০১৭-২০২৩ সময়ে বাজার শক্তিশালী থাকলেও মোদির ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ নীতির কারণে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয়।

তবে ২০২৪ সাল নাগাদ ইসরায়েল ভারতে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করে এবং অনেক প্রতিরক্ষা কোম্পানি সেখানে সহায়ক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে।

ক্রয় ও যৌথ শিল্প অংশীদারত্বের মিশ্র মডেলে প্রতিরক্ষা উৎপাদন এগিয়ে নেওয়া, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত —এসব কারণে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবারও উল্লম্ফন দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোদির সফরের অংশ হিসেবে সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এমনকি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক যৌথ উদ্যোগ শুরুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেরুজালেমে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণা

আজ বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৬টি অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর তদারকি করেন।

কৃষি, ভূ-ভৌতিক অনুসন্ধান, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, শিক্ষা, অর্থনীতি, সাইবার, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিনিধিরা এবং ইসরায়েলে ভারতের রাষ্ট্রদূত জে.পি. সিং।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার ভারতীয় কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের চিন্তা ও হৃদয়ের যে মিলন এখানে হয়েছে, তা সরকার-টু-সরকার সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে। এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ছিল এবং উভয় দেশের পাশাপাশি মানবজাতিরও উপকার বয়ে আনবে।”

মোদি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপ শিগগিরই দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেও দুই দেশ কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকের আগে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জেরুজালেমে মোদিকে স্বাগত জানান এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবনে বন্ধুত্ব, বিকাশ ও যৌথ ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে একটি ওক গাছ রোপণ করেন।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

দুই নেতা একান্ত বৈঠকও করেন, যেখানে হারজগ ইসরায়েলের প্রতি মোদির সমর্থন ও বন্ধুত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

বৃহস্পতিবারের শুরুতে নেতানিয়াহু ও মোদি জেরুজালেমের ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং ‘হল অব নেমস’ থেকে সফর শুরু করেন।

পরিদর্শন শেষে এক স্মরণানুষ্ঠান হয়, যেখানে মোদি হলোকাস্টে নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও স্মৃতিস্তম্ভে একটি পাথর স্থাপন করেন।

এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মোদি লিখেছেন, “হলোকাস্ট মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি। এটি মানবতা, মর্যাদা ও শান্তি রক্ষার চিরন্তন প্রয়োজনীয়তার স্মারক।”

নেসেটে ভাষণ দেওয়া প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি

গতকাল বুধবার ইসরায়েলে পৌঁছান মোদি এবং ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি অনিশ্চিত বিশ্বে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্বকে শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করে সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অনিশ্চিত বিশ্বে ইসরায়েল ও ভারতের বন্ধুত্ব শক্তির উৎস হয়ে আছে।”

এই ভাষণের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখলেন। রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে দেশটিতে অবতরণের কিছুক্ষণ পরই ভাষণটি অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

মাহফুজ/

 

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন।

কিম জং উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। এই নতুন প্ল্যান্টটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কিম এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো পারমাণবিক উপাদান রয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় একাধিক পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সক্রিয়তার কথা নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমকে উন্নত প্রযুক্তির গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন'-এর সিনিয়র গবেষক হং মিন জানান, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এখন আর গবেষণা পর্যায়ে নেই, বরং সরাসরি ‘গণহারে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন’ শুরু করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

অন্যদিকে, 'নিউক্লিয়ার ওয়েপনস ব্যান মনিটর'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সুত্র: সিএনএন

আজহার/

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-আতওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহতদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল স্থগিত করেছে ও আগত ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। কারণ টার্মিনাল ওয়ান ইরানি হামলার শিকার হয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত। 

দেশটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর থেকেই তারা ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

তেহরান অভিযোগ করে বলেছে, কুয়েত তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে সহায়তা করছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/