আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যাতে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে অন্তত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে রাজধানী কাবুলসহ মোট ২২টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তালেবানের ৮৩টি চৌকি ধ্বংস এবং ১৭টি দখল করার পাশাপাশি ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ৩১৪ জন আহত হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করছে।
অন্যদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা পাকিস্তানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তালেবান মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের ১৯টি চৌকি কবজা করেছে।
তবে তালেবান জানিয়েছে, তাদের পক্ষে মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন, যদিও নানগারহার প্রদেশে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো সূত্র থেকে উভয় পক্ষের দেওয়া এই হতাহতের সংখ্যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্তেজনার এই চরম পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ দুই দেশের মধ্যে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান সীমান্তে আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা ছিল মূলত সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ।
আফগানিস্তানের সরকারি মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, তারা এখনো আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও সমস্যার সমাধান চান। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান কখনোই সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করতে চায় না।
মুজাহিদ আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের বিশেষ একটি গোষ্ঠী এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার মিশনে নেমেছে এবং বর্তমানেও পাকিস্তানের নজরদারি বিমানগুলো আফগান আকাশসীমায় উড্ডয়ন করছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/