ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযানে ঘরছাড়া হওয়া হাজারো লেবাননের নাগরিককে আপাতত নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হবে না। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করার সময় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণাকে গাজার যুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পুরো জনসংখ্যাকেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল।
আজ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা এখন নতুন নতুন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে তিনি এই অগ্রযাত্রাকে ‘সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক’ অভিযান বলে উল্লেখ করেন।
কয়েক দিন আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেনাবাহিনীকে লেবাননে অভিযান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দেওয়ার পরই এই অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে।
এদিকে লেবানন জানিয়েছে যে, দেশটির ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত ১০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সরকারি লেবানন ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (NNA) জানিয়েছে, সর্বশেষ দৈনিক আপডেটে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হিসেবে নাম নিবন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নিজেদের নাম নিবন্ধন করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৮ জনে পৌঁছেছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।
তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮৬ জনে এবং আহতের সংখ্যা ২ হাজার ১৪১ জনে পৌঁছেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/