দীর্ঘ উত্তপ্ত বিতর্কের পর ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে যার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এখন থেকে মৃত্যুদণ্ডই প্রধান শাস্তি হিসেবে গণ্য হবে।
গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংসদীয় কমিটি ‘দণ্ডবিধি বিল (সংশোধনী – সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড)’ এর চূড়ান্ত সংস্করণ অনুমোদন করার পর চলতি সপ্তাহে নেসেটে বিলটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) চূড়ান্ত ভোটে বিলটির পক্ষে ৭২টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ভোট দেন ৪২ জন সদস্য যেখানে একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে যাদেরকে বিনা অপরাধে বিভিন্ন সংঘাতের সময় পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী, মানবাধিকার কর্মী ও লেখকরাও রয়েছেন।
ইসরায়েলে ১৯৫৪ সালে সাধারণ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করা হলেও যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা ইহুদি জাতির বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে এটি টেকনিক্যালি অনুমোদিত ছিল।
এর আগে সামরিক আদালতে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও আপিলের পর সেগুলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হতো। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি আইন প্রণেতাদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের জন্য পুনরায় মৃত্যুদণ্ড চালুর বিষয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়। বিলটির প্রস্তাবকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে বর্তমান জনমতের প্রতিফলনে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।
দখলদার ইসরায়েলের এই নতুন আইনের ফলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইনি পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে এই বিলের বিরোধীরা বিষয়টিকে অনৈতিক, অসাংবিধানিক এবং বর্ণবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে এই আইনটি ইহুদি ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চরম বৈষম্য তৈরি করবে যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
টাইমস অব ইসরায়েলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের সংকেত হিসেবে দেখছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/