ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা বাড়লেও জটিলতা কাটেনি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা বাড়লেও জটিলতা কাটেনি
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন এক আশার আলো দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এই আশাবাদ প্রবল হয়েছে যে, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের অবসান হয়তো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ও এই সংকটের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিরোধের বেশকিছু ‘জটিল ও স্পর্শকাতর’ বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সমঝোতা কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের রেকর্ড এক উল্লম্ফন ঘটে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়বে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটাতে গত বুধবার তেহরানে যান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তার এই সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মুনিরের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার এবং চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরমাণু ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীত মেরুতে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে ইরান যেন পরবর্তী ২০ বছরের জন্য তাদের সব পরমাণু কার্যক্রম স্থগিত রাখে। বিপরীতে তেহরান এই সময়সীমা মাত্র ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এ ছাড়া ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং তেহরানের ওপর আরোপিত সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো নিয়ে দর-কষাকষি এখনো তুঙ্গে।

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চললেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে মার্কিন সেনারা পুনরায় পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের সমান্তরালে লেবাননেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চলছে। পাকিস্তান মনে করে, লেবাননে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি না হলে সামগ্রিক শান্তি আলোচনা সফল হবে না। গত বুধবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা লেবানন ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আজ ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে। যদিও লেবাননের কর্মকর্তারা এখনই এমন কোনো খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

যুদ্ধের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের ওপর চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এ পর্যন্ত ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির সঙ্গে সংযোগকারী শেষ সেতুটিও ধসে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করেছে এবং সন্দেহভাজন যেকোনো জাহাজে তল্লাশি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এত উত্তেজনার মাঝেও শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, দ্রুত কোনো সমাধান এলে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে। এখন সারা বিশ্বের চোখ তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যেখানে পরমাণু ইস্যুই হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্তির পথে প্রধান অন্তরায়।

যুদ্ধ এড়াতে হরমুজ নিয়ে ছাড় দিতে পারে ইরান: রিপোর্ট
কয়েক দিন আগে পর্যন্তও হরমুজ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইরান। বলা হয়েছিল, ওই প্রণালি ব্যবহার করলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কাছ থেকে শুল্ক আদায় করবে তেহরান।

হরমুজ নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তেহরানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিফহাল, এমন একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে যে, ওমানের উপকূল ধরে নিরাপদে হরমুজ পেরোতে পারবে জাহাজ কিংবা ট্যাঙ্কার। এই মর্মে ইরানের তরফে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে ওই সূত্রটির দাবি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এড়াতেই ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই ওমানের দিক দিয়ে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি ইরান ভেবে দেখছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রেখেছে ইরান, তা হলো– ইরানের প্রায় সব দাবিই মেনে নিতে হবে আমেরিকাকে। এই বিষয়ে এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি হোয়াইট হাউস। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু বলা হয়নি।

অথচ কয়েক দিন আগে পর্যন্তও হরমুজ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইরান। বলা হয়েছিল, ওই প্রণালি ব্যবহার করলে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কাছ থেকে শুল্ক আদায় করবে তেহরান। হরমুজে ইরানের আধিপত্য খর্ব করতে গত রবিবার এই প্রণালি অবরোধ করার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে বিপাকে পড়ে পণ্যবাহী জাহাজ। বিশেষত তেলবাহী জাহাজগুলো। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, আল-জাজিরা

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার (১২ জুন) বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। 

কৃষি মৌসুম শুরুর পর কৃষকদের ওপর চলমান সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা এটি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা এ  তথ্য  জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদিপশু লুটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠী এখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের জন্যও কর আরোপ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা নিজেদের সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জমিতে কাজ করা কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা বলেন, ‘আজ সকালে গোরন নামায়ে এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে।’  

বাসিন্দা নুরা মুসা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে হামলার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ১৩ জন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেও এই হামলা হতে পারে।

নাইজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

আমান/

পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি
স্যাটেলাইট চিত্র ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে নিজেদের পরমাণু জ্বালানি রক্ষা করতে চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইরান তাদের বোমা তৈরির উপযোগী প্রায় আধা টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন আস্তানাগুলো সিলগালা করে দিয়েছে। এর জন্য তারা পরমাণু সুড়ঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃত ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথে শক্তিশালী বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইঙ্গিত দেন যে, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন, ঠিক তার পর থেকেই ইরান এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করে।

চুক্তির বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা

বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তার একটি অন্যতম শর্ত হলো ইরানকে তাদের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে, যা পরে ধ্বংস করে ফেলা হবে। কিন্তু ইরানের নতুন এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই ইউরেনিয়াম বের করে আনা এখন অত্যন্ত কঠিন, বিপজ্জনক এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন এই সুরঙ্গ থেকে ইউরেনিয়াম বের করতে হলে ভারী খননকাজ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হবে। এর ফলে ইরান চুক্তির ফাঁকফোকর গলে দাবি করতে পারে যে, তাদের কিছু ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অসম্ভব। এতে তেহরান গোপনে কিছু পরমাণু জ্বালানি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের এই ইউরেনিয়ামের সিংহভাগই দেশটির ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি জব্দ করার জন্য একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও পরে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, ইউরেনিয়াম যেখানেই থাকুক, মার্কিন গোয়েন্দারা তার ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম জব্দের হুমকি দেওয়ায় ইরান নিজেদের পরমাণু সম্পদ আরও সুরক্ষিত করার সুযোগ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই হলেও এই ইউরেনিয়াম নিরাপদে বের করে আনা এখন দুই দেশের জন্যই বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএইবি)।

আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে বিমানটি আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জনসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় ও ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। একমাত্র জীবিত উদ্ধার হন যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরের বাসিন্দা বিশ্বাস কুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে এএইবি জানায়, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ নথি এবং পরিচালনাগত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের বিশ্লেষণ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ হঠাৎ ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিমানটি শক্তি হারায়।

ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে  শোনা যায় এক পাইলটকে অন্যজনকে জিজ্ঞেস করতে ‘তুমি এটা কেন করলে?’ জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ‘আমি করিনি’। তবে তদন্তকারীরা কার কণ্ঠ ছিল তা প্রকাশ করেননি।

পরে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের দিকে সন্দেহের ইঙ্গিত দেওয়া হলে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে তার বাবা পুষ্কর রাজ বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার ছেলেকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি ছেলের সুনাম রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এএইবি জানায়, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/অমিয়/

ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত!

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত!
ছবি: প্রতীকী

ইরানের ধারাবাহিক হামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের প্রায় ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত আলোচনার মাঝেই নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।

গত সপ্তাহে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা আবুধাবিতে গিয়ে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন বৈঠক করার পরই এই প্রক্রিয়ায় গতি আসে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র প্রতিবাদ

তবে রয়টার্সের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের তহবিল ছেড়ে দেওয়া বা তিন বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের যে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে। আমিরাতের মাধ্যমে কোনো ইরানি তহবিল স্থানান্তর বা মুক্ত করা হয়নি।

তারা গণমাধ্যমগুলোকে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব না ছড়িয়ে অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানায়।

কৌশলগত অবস্থান

বিশ্লেষকরা বলেন, একদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান- শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো টাকা ছাড়বে না। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

যদি রয়টার্সের দাবি সত্যি হয়, তবে এটি হতে পারে দুই পক্ষের জন্য একটি ‘মাঝামাঝি প‘’- যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারবে, তারা কোনো টাকা দেয়নি, আর ইরান দাবি করতে পারবে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। আর এর মাধ্যমে দুবাই ও আবুধাবি নিজেদের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ 

শুক্রবার (১২জুন) ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে- যুদ্ধ থামানোর একটি খসড়া চুক্তিতে তারা একমত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক স্বাক্ষর হতে পারে।

একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন- দুই মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয়তা চলছে।

ইরান বলছে ‘আমরাই বিজয়ী’, অন্যদিকে আমেরিকার দাবি ভিন্ন।

চুক্তিটিতে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তবে এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/