ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, বিচার দাবি বাবার
Nagad desktop

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের নতুন কৌশল

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের নতুন কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান। এই লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার (১৮ মে) জানায়, ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নামে নতুন সংস্থা প্রণালীটির কার্যক্রম ও সর্বশেষ পরিস্থিতির রিয়েল-টাইম আপডেট দেবে। শান্তিকালীন বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে বিমা দেওয়ার ইরানি পরিকল্পনা প্রকাশের দুই দিন পর এই ঘোষণা এল। গত শনিবার ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এই প্রণালী ও পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিমার ব্যবস্থা করবে। বিমার টাকা পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। এরপর থেকে ইরানি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতারা এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট চার্জ বা নিরাপত্তা মাশুল আরোপের দাবি তুলছেন। তেহরান স্বীকার করেছে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের কাছ থেকে তারা টোল নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এখন এই পথে চলাচল করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথ বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কোনো দেশই ট্রানজিট পারাপারের ওপর একতরফা টোল আরোপ করতে পারে না। 

চীনও জলপথে অবাধ চলাচল সীমিত করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হরমুজ সেফ ওয়েবসাইট’ প্রণালীটি দিয়ে চলাচলকারী সামুদ্রিক পণ্যসম্ভারের জন্য বিমা দেওয়া শুরু করেছে। এই প্রস্তাবে জাহাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক বিমা পণ্য ও ‘এনক্রিপ্টেড যাচাইকরণ সক্ষমতা’ থাকবে।

বিমার লেনদেন সম্পন্ন হবে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এই কর্মসূচি থেকে ইরানের বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় হতে পারে। তাদের দাবি, ‘নিশ্চিতকরণের মুহূর্ত থেকেই পণ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় ও মালিককে একটি স্বাক্ষরিত রসিদ দেওয়া হয়।’

ইরান জানিয়েছে, প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের খরচ তুলতেই এই টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপ করা হচ্ছে। এর আগে এই প্রণালী সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ও অবাধ ছিল।

অনেক শিপিং কোম্পানি এই বিমার প্রস্তাবটিকে ট্রানজিট চার্জের ভিন্ন রূপ হিসেবে দেখছে। মার্চ মাসে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অনিয়মিত ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করে। প্রতি যাত্রায় এই ফি ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঠেকেছিল।

প্রস্তাবিত বিমা ব্যবস্থাটি নিরাপদ যাত্রাপথ ও আর্থিক সুরক্ষাকে এক করে ওই টোলের ধারণাটিকেই নতুন রূপ দিচ্ছে। প্রকাশ্যে একে টোল না বলে তেহরান একটি বাণিজ্যিক বিমা ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরছে।

সমুদ্র আইনসংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আন্তর্জাতিক প্রণালী বা আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা যায় না। শিক্ষাবিদ আব্দুল খালিকের মতে, ইরান এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে গুরুতর আর্থিক, আইনি ও কার্যনির্বাহী বাধার মুখে পড়বে।

লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটি মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান খালিক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সামুদ্রিক বিমার বিশাল ক্ষতিপূরণের জন্য বিপুল রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক পুনঃবিমা সহায়তার দরকার হয়। অথচ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বৈশ্বিক আর্থিক ও বিমা বাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত করে রেখেছে।’

নির্ভরযোগ্য পুনঃবিমা না থাকলে জাহাজ মালিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে সংশয়ে থাকবেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বন্দরগুলো ইরান প্রদত্ত সনদপত্র প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এতে বিমাভুক্ত জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে বা অর্থায়ন পেতে সমস্যায় পড়বে।

তিনি জানান, বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ প্রদান তেহরানের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও অর্থ পাচারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, সীমিত বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই কর্মসূচির প্রতি আস্থা আরও কমাবে।

ইরানের এই প্রচেষ্টা ভৌগোলিক বাধার মুখেও পড়তে পারে। গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও ইরান থেকে আসা সব জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তেহরান অনুমতি দিলেও বিমার জন্য ইরানকে অর্থ দেওয়া জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র যাতায়াত করতে দেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

আড়াই মাসের বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বিমা সংস্থাগুলো উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের জন্য যুদ্ধ-ঝুঁকি প্রিমিয়াম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে ইরানের ওপর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের বিমা খরচ পাঁচ গুণ বাড়ে।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই গার্ড, স্কাল্ড, নর্থ স্ট্যান্ডার্ড, আমেরিকান ক্লাবসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি বিমা সংস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ-ঝুঁকি বিমা বাতিল করে।

পরবর্তী সময় কিছু বিমাকারী সরকারি সহায়তায় বাজারে ফেরে। বিমাকারী প্রতিষ্ঠান চাব (Chubb) হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন-সমর্থিত সামুদ্রিক পুনঃবিমা কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এটি জাহাজের কাঠামো, পণ্যসম্ভার ও দায়বদ্ধতার জন্য যুদ্ধ-ঝুঁকির সুরক্ষা দেয়।

তবে শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক রয়েছে। বেশ কিছু অপারেটর নাবিকদের নিরাপত্তা ও জাহাজ জব্দের আশঙ্কায় উপসাগরীয় রুট এড়িয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

কৌশলগত এই প্রণালী পারাপারের জন্য ইরানের বিমা প্রস্তাব কোনো দেশ বা জাহাজ নির্মাণ সংস্থা গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো কেউ ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই মাসে স্পষ্ট করেছে, প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো দেশকেই টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, শি জিনপিং প্রণালীটির সামরিকীকরণ ও এটি ব্যবহারের জন্য টোল আদায়ের যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতি চীনের বিরোধিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বেইজিং এই বিবৃতির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি জানায়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের টোল আরোপ ও বৈষম্য না করার কথা বলেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আরও ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মায়রাকেহ পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওই ব্যক্তি নিহত হন।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনভর এবং রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত হলুদ রেখার (যে অংশটি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ ও দখল করতে চাইছে) উত্তরের শহর ও গ্রামগুলোতেও অনবরত বিমান হামলা চালায়।

শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কাজ করছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এই প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে।

তবে চলমান আলোচনা ও চুক্তির মাঝে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনায় ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।

তাছাড়া, ইসরায়েলি নেতারা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। আগামী ২২ জুন দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত
সংগৃহীত

ভারতের আসামের জোরহাটের বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এএন-৩২ বিমানটি অবতরণের সময় বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে জরুরি পরিসেবা দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আরও তথ্য জানানো হবে।

এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।

আন্তোনভ এএন-৩২ একটি মজবুত, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এ মডেলের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

এএন-৩২ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি বেশি উচ্চতার বিমানঘাঁটি ও উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও পরিচালনা করা যায়। বিমানটি ৭ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহন করতে সক্ষম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রসদ সরবরাহের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হওয়ার কয়েক মাস পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। সূত্র: এনডিটিভি

আমান/অমিয়/

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার (১২ জুন) বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। 

কৃষি মৌসুম শুরুর পর কৃষকদের ওপর চলমান সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা এটি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা এ  তথ্য  জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদিপশু লুটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠী এখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের জন্যও কর আরোপ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা নিজেদের সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জমিতে কাজ করা কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা বলেন, ‘আজ সকালে গোরন নামায়ে এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে।’  

বাসিন্দা নুরা মুসা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে হামলার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ১৩ জন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেও এই হামলা হতে পারে।

নাইজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

আমান/

পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি
স্যাটেলাইট চিত্র ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে নিজেদের পরমাণু জ্বালানি রক্ষা করতে চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইরান তাদের বোমা তৈরির উপযোগী প্রায় আধা টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন আস্তানাগুলো সিলগালা করে দিয়েছে। এর জন্য তারা পরমাণু সুড়ঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃত ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথে শক্তিশালী বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইঙ্গিত দেন যে, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন, ঠিক তার পর থেকেই ইরান এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করে।

চুক্তির বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা

বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তার একটি অন্যতম শর্ত হলো ইরানকে তাদের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে, যা পরে ধ্বংস করে ফেলা হবে। কিন্তু ইরানের নতুন এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই ইউরেনিয়াম বের করে আনা এখন অত্যন্ত কঠিন, বিপজ্জনক এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন এই সুরঙ্গ থেকে ইউরেনিয়াম বের করতে হলে ভারী খননকাজ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হবে। এর ফলে ইরান চুক্তির ফাঁকফোকর গলে দাবি করতে পারে যে, তাদের কিছু ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অসম্ভব। এতে তেহরান গোপনে কিছু পরমাণু জ্বালানি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের এই ইউরেনিয়ামের সিংহভাগই দেশটির ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি জব্দ করার জন্য একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও পরে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, ইউরেনিয়াম যেখানেই থাকুক, মার্কিন গোয়েন্দারা তার ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম জব্দের হুমকি দেওয়ায় ইরান নিজেদের পরমাণু সম্পদ আরও সুরক্ষিত করার সুযোগ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই হলেও এই ইউরেনিয়াম নিরাপদে বের করে আনা এখন দুই দেশের জন্যই বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএইবি)।

আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে বিমানটি আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জনসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় ও ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। একমাত্র জীবিত উদ্ধার হন যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরের বাসিন্দা বিশ্বাস কুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে এএইবি জানায়, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ নথি এবং পরিচালনাগত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের বিশ্লেষণ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ হঠাৎ ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিমানটি শক্তি হারায়।

ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে  শোনা যায় এক পাইলটকে অন্যজনকে জিজ্ঞেস করতে ‘তুমি এটা কেন করলে?’ জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ‘আমি করিনি’। তবে তদন্তকারীরা কার কণ্ঠ ছিল তা প্রকাশ করেননি।

পরে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের দিকে সন্দেহের ইঙ্গিত দেওয়া হলে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে তার বাবা পুষ্কর রাজ বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার ছেলেকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি ছেলের সুনাম রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এএইবি জানায়, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/অমিয়/