ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী তুমি এলে বসন্তে একটা শুক্রবারের দিবাভাগ তোমাকে দেখার স্বাদ মিটবে না লাবণ্য ধরে রাখো কীভাবে? খুব বেশি কিছু না দায়বদ্ধ রেফারিদের মাথায় কী? হৃদয়ের ভাঙা নীলিমা সময় একটি সাধনাযোগ্য শিল্প জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি উল্টে প্রাণ গেল চালকের মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা কুষ্টিয়ার সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা সাতচল্লিশের অস্বাভাবিকতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ কিশোর গ্রেপ্তার প্রাচ্য-প্রতিচ্যের দ্বন্দ্ব ও সমকালীন চিন্তার বহুমাত্রিক পাঠ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকারের বাজেট, সোনারগাঁয় আনন্দ মিছিল কারাগারে স্ত্রীকে গাঁজা পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বামী আটক চুয়াডাঙ্গায় অপারেশনের মাঝপথে চলে যান চিকিৎসক সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানার মালিকের কারাদণ্ড মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬ দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে কোরিয়ার চেকমেট টেকনাফ সীমান্তে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক টিভিতে আজকের খেলা সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০ দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড় আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে জিদানের ঢুস
Nagad desktop

ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি কত?

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:২৫ এএম
ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি কত?
ঝোড়ো আবহাওয়ার ছবি। সংগৃহীত

আপনি কি কখনো ভেবেছেন পৃথিবীতে কোন ঝড়ের গতি সবচেয়ে বেশি ছিল? অথবা কোন গ্রহে ঝড়ের গতি সবচেয়ে বেশি?- এ প্রশ্নের উত্তর খুবই আকর্ষণীয়। তাই বিজ্ঞানীরাও এ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের মাউন্ট ওয়াশিংটন অবজারভেটরিতে ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৭২ কিলোমিটার, যা ‘বিগ উইন্ড’ নামে পরিচিত। আবার ২০১৭ সালে হারিকেন ইরমার বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার, যার আঘাতে ছাদ উড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গাছ উপড়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

তা হলে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি কত? এ প্রশ্নের উত্তর বাতাসের উৎস, অবস্থান এবং পরিমাপের যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে।

সৌরজগতে সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহ পাওয়া যায় নেপচুন গ্রহে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুসারে, সেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল বা ১ হাজার ৭৭০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস প্রবাহিত হয়, যা শব্দের গতির দেড় গুণ। 

পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি সুপারসনিক উইন্ড টানেলেও শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির বায়ুপ্রবাহ তৈরি করা যায়। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ২২৫ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতির ঝড়কে সুপারসনিক বলা হয়। নাসার গ্লেন রিসার্চ সেন্টারের ১০×১০ সুপারসনিক উইন্ড টানেলে ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার ৩২১ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতি তৈরি করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) পরিচালিত ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট এক্সট্রিমস আর্কাইভ অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০৭ কিলোমিটার। এই গতি রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৯৬ সালের ১০ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যারো আইল্যান্ডে ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের সময়। ট্রপিক্যাল সাইক্লোন হারিকেনের মতোই একটি ঘূর্ণিঝড়। তবে এটি সাধারণত দক্ষিণ প্যাসিফিক ও ভারত মহাসাগরে দেখা যায়। ব্যারো আইল্যান্ডের আবহাওয়া স্টেশনে অ্যানিমোমিটার নামের বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যেমে এই বাতাসের গতি পরিমাপ করা হয়। তখন মাত্র ৩ থেকে ৫ সেকেন্ডের জন্য এই তীব্র বায়ুপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

ব্যারো আইল্যান্ডে বায়ুপ্রবাহের রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে এক দশক লেগেছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জিওগ্রাফিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক র‌্যান্ডাল সার্ভেনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার এই দ্বীপ জ্বালানি তেল কোম্পানি শেভরনের মালিকানাধীন হওয়ায় তথ্যটি প্রাথমিকভাবে নজরে আসেনি। সার্ভেনি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার আবহাওয়া ও জলবায়ুর চরম ঘটনা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। তার দল অস্ট্রেলিয়া সফর করে ওই দ্বীপে ব্যবহৃত অ্যানিমোমিটারটি পরীক্ষা করেন। এরপর নিশ্চিত হন, রেকর্ডটি স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। ফলে ওই রেকর্ডকৃত বাতাসের গতিবেগ নির্ধারণে কোনো ভুল ছিল না।

আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা শুধু সরাসরি পরিমাপ করা তথ্যকে রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সার্ভেনি জানান, ব্যারো আইল্যান্ডের গতির চেয়ে দ্রুত গতিবেগের রেকর্ড পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো অনুমান বা হিসাবভিত্তিক যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করায় সেগুলো রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অ্যানিমোমিটারে পরিমাপের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এগুলো প্রচণ্ড বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেবল সেখানেই স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে মানুষ যেতে পারে। যেমন- জেট স্ট্রিমে বাতাস প্রতি ঘণ্টায় ৪৪৩ কিলোমিটার গতিতে প্রবাহিত হতে পারে। সেখানে অ্যানিমোমিটার স্থাপন করা বেশ কঠিন।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ের খোঁজে বিজ্ঞানীরা টর্নেডোর গতিবেগ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। জাপান ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরে দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮৩ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা বাতাসপ্রবাহের রেকর্ড তদন্ত করছেন সার্ভেনি ও তার দল। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা গেলে, এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঝড়ের গতি হিসেবে নতুন স্বীকৃত পেতে পারে।

এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে রেডিওসন্ড নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে, যা একটি আবহাওয়া বেলুনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই যন্ত্র বায়ুমণ্ডলে উঠে গিয়ে সরাসরি বাতাসের গতি পরিমাপ করে। সার্ভেনি বলেন, ‘এটি হতে পারে আমাদের দেখা পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের মধ্যে একটি।’

অন্যদিকে, ঝড়ের গতি পরিমাপের আর একটি উপায় হলো ডপলার প্রযুক্তির রাডার। তবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা রাডারের তথ্যকে সর্বোচ্চ ঝড়ের গতির রেকর্ড হিসেবে গণ্য করে না। কারণ রাডার দূর থেকে আনুমানিক হিসাব করে গতি পরিমাপ করে, সরাসরি পরিমাপ করে না। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ফ্লেক্সিবল অ্যারে অব রাডারস অ্যান্ড মেসোনেটমসের পরিচালক জশুয়া ওয়ারম্যান বলেন, ‘রাডারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- এটি দূরবর্তী জিনিস পরিমাপ করতে পারে। রাডার দিয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন টর্নেডোর গতিও পরিমাপ করা যায়।

টর্নেডোর রহস্য উন্মোচনে নতুন মাত্রা

টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড় প্রকৃতির এক বিশাল শক্তির প্রকাশ। এই শক্তিশালী বায়ুবৃত্তের গতি কতটা হতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহুকাল ধরে গবেষণা করে আসছেন। জশুয়া ওয়ারম্যান টর্নেডোর গতি পরিমাপে ব্যবহার করছেন ‘ডপলার অন হুইলস’ নামের একটি বিশেষ রাডার। এই রাডারটি একটি ট্রাকে বসানো থাকে। এর সাহায্যে টর্নেডোর খুব কাছাকাছি গিয়েও নিরাপদে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 

রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা

১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার ব্রিজ ক্রিকে ঘণ্টায় প্রায় ৪৮৬ কিলোমিটার বেগে একটি টর্নেডো আঘাত হানে। এটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ গতির টর্নেডো হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার গ্রিনফিল্ডে একটি টর্নেডোর গতি ঘণ্টায় ৪৯৭ থেকে ৫১২ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল বলে ওয়ারম্যানের দলের গবেষণায় উঠে এসেছে। যদিও রাডারের পরিমাপে কিছুটা ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এই নতুন তথ্য পুরোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ওয়ারম্যান বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, খুব কম ক্ষেত্রেই টর্নেডোর গতি ঘণ্টায় ৪৮৩ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। সম্ভবত ঘণ্টায় ৬৪৪ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগের কোনো টর্নেডোই নেই। কারণ আমরা এখনো এত উচ্চগতির কোনো টর্নেডো দেখিনি।’ 
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ঝড়ের গতি আরও সঠিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি