মানবদেহের প্রতিটি কোষের জিনোমে লুকিয়ে আছে কোটি বছরের প্রাচীন ভাইরাসের অস্তিত্ব। আমাদের পূর্বপুরুষদের সংক্রমিত করা এসব ভাইরাসের অবশিষ্টাংশ আজও বহন করছে আধুনিক মানুষ। বিষয়টি শুনতে ভীতিপ্রদ মনে হলেও, বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, শরীরের ভেতরে থাকা এই ভাইরাসগুলো কোভিড-১৯ বা সাধারণ সর্দিকাশির মতো সংক্রামক নয়। বরং লাখো বছর ধরে বিবর্তনের ধারায় এরা মানব ডিএনএর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। মূলত ‘রেট্রোভাইরাস’ গোত্রের এই জীবাণুগুলো একসময় মানবদেহের কোষকে ধোঁকা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি ও বংশবৃদ্ধি করত।
প্রাগৈতিহাসিক কালে কদাচিৎ এই রেট্রোভাইরাস মানুষের শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিত, যা পরবর্তী প্রজন্মে বাহিত হতো। এভাবে হাজার বছরের পরিক্রমায় এবং বিবর্তনের ধারায় মানুষের ডিএনএর প্রায় ৮ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছে এই ভাইরাল অংশগুলো।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাল সিকোয়েন্সগুলোকে ‘জাংক ডিএনএ’ বা ‘আবর্জনা’ হিসেবে উপেক্ষা করে এসেছেন। ধারণা ছিল, শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়ায় এদের কোনো অর্থপূর্ণ অবদান নেই। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এই সনাতন ধারণা আমূল বদলে গেছে। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এই প্রাচীন ভাইরাল প্রোটিনগুলো মস্তিষ্কে স্মৃতি সংরক্ষণ, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে প্লাসেন্টা গঠন ও ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে সব খবর ইতিবাচক নয়। কিছু ভাইরাল ডিএনএ অংশের সঙ্গে মানবদেহের জটিল রোগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্কলেরোসিস (এএলএস), নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার এবং টাইপ-১ ডায়াবেটিস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাল অবশিষ্টাংশগুলো সরাসরি বা এককভাবে রোগ সৃষ্টি করতে পারে না। তবে শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিল জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে রোগের ঝুঁকি ত্বরান্বিত করতে পারে। সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস


