ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট
Nagad desktop

৬০ দিনে ফাইনাল রিপোর্ট!

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ১০:০০ এএম
৬০ দিনে ফাইনাল রিপোর্ট!
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর গুলশানে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আবির হত্যা মামলায় মাত্র ৬০ দিনের তদন্তেই সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের কোনো মামলায় এটিই প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ নেতা-কর্মীসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের দেওয়া ওই প্রতিবেদন বাতিল ও মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। 

এদিকে ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি তানভীর আলীর বিরুদ্ধে অন্য আরেকটি ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় গুলিবিদ্ধ নাহিদ হাসান ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দায়ের করেন। 

জানা গেছে, গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আন্দোলরত শিক্ষার্থী আবিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলশান এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী তানভীর আলীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুলসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ওই হামলা চালান। এ ঘটনায় নিহত আবিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হাসান মাহমুদ বাদী হয়ে ১৮ আগস্ট আদালতে মামলা করেন। আদালত আবেদনটি এজাহার হিসেবে রুজু করতে গুলশান থানাকে নির্দেশ দেন। ২০ আগস্ট এজাহার রুজু করে গুলশান থানা। এতে তানভীর ও বাবুলসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অপর আট আসামি হলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল, গুলশান থানা ছাত্রলীগের নেতা আনিসুর রহমান সুজন, মানিক, সোহাগ, গুলশান থানা শ্রমিক লীগের মহসিন ওরফে কাঁকড়া মহসীন, গুলশান থানা যুবলীগের জামিল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম এবং গুলশান থানা আওয়ামী ওলামালীগ সহসভাপতি আব্দুল হামিদ। 

মামলাটির তদন্ত করেন গুলশান থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রোমেন মিয়া (বর্তমানে সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় কর্মরত)। তিনি মামলার মাত্র ৬০ দিনের মাথায় তদন্ত শেষে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ জানিয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন। এতে প্রধান আসামি তানভীর আলীকে কানাডার নাগরিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। আলামত হিসেবে তার কানাডীয় পাসপোর্টের ফটোকপি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকলেও পুলিশের রিপোর্টে এর কোনো তথ্য তুলে ধরা হয়নি। ফাইনাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী হাসান মাহমুদ এবং সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। মামলাটি ‘তথ্যগত ভুল’। মামলায় বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে আসামিদের জড়িত থাকার কোনো তথ্য বা সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সব আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ দাখিল করা হলো। 

এদিকে পুলিশের দেওয়া ওই ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল এবং পুনঃতদন্ত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি আবেদন দাখিল করেছে। ঢাকা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অ্যাডিশনাল পিপি) আজিজুল হক দিদার গত ১৭ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারাজি দাখিল করেন। 

এতে বলা হয়েছে, ‘তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মনগড়া ও আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন। বাদী বা সাক্ষীদের কোনো ধরনের জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। সাক্ষ্য-প্রমাণ সবই বিদ্যমান আছে।’ 

আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য রেখেছেন। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার গত বুধবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘একটি স্পর্শকাতর এই মামলায় পুলিশ অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে তদন্ত শেষ করেছে। মাত্র ৬০ দিনের তদন্তে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ জানিয়ে অতি গোপনে আদালতে ফাইনাল রিপোর্টটি দাখিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবীকে এবিষয়টি কোনোভাবে জানানো হয়নি। আমি প্রায় সাত মাস পর আকস্মিকভাবে জিআর শাখায় গিয়ে বিষয়টি জেনেছি। ফলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়া ও আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন। এটিই জুলাই হত্যাকাণ্ডের কোনো মামলার প্রথম ফাইনাল রিপোর্ট।’ 

ফাইনাল রিপোর্টের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা রোমেন মিয়া গত বুধবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘তদন্তের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করার মতো উপযুক্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এমই ( মেমো অব এভিডেন্স) পেশ করা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনের বিষয়ে একমত পোষণ করলে আইন অনুযায়ী ওই ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখানে প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই। এখন সংক্ষুব্ধ বা বাদী পক্ষ আদালতে নারাজি দিতেই পারেন। পুনঃতদন্ত চাইতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 

অন্যদিকে আবির হত্যা মামলায় পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টে অব্যাহতি পাওয়া তানভীর আলীর বিরুদ্ধে অন্য একটি ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় রামপুরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ নাহিদ হাসান গত ১১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকার ২ নম্বরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ৩ নম্বরে তানভীর আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটির তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তানভীর আলীর বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে অন্তত তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করায় ভুক্তভোগী এক নার‌ী চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তানভীরকে কয়েকবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছিল। তবে তিনি দুদকের তলবে সাড়া দেননি। 

ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ
ছবি : খবরের কাগজ

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ব্যভিচারের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রীর তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

শরীয়তের বিধান মতেই তামিমার দেওয়া তালাক কার্যকর হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে নাসিরের  সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না মর্মে বিচারকের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে মর্মে আদালত সূত্রে জানা গেছে। 

ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির ও তামিমাকে বুধবার (১০ জুন) বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

খালাসের কারণ হিসেবে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, 'নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না। আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সেক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাক নামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইতে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

এদিকে, তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে আদালতে দাবি করেছেন বাদী। 

কিন্তু, আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছে।

ডাকবিভাগের চিঠি বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তা গ্রহণ করেননি বাদী। 

আদেশে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদি রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদির সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন—এটা প্রমাণ হয় না।

এছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু বাদি আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিল, সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ সালে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। 

আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।' 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার বাদী ও আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।  

২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা 

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। 

এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি দন্ডবিধি-র ৪৯৪/৫০০/৩৪ ধারার অভিযোগে আদালতে একটি নালিশী (সিআর) মামলা করেন রাকিব। 

অভিযোগে বলা হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে। 

আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে  প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

পরের বছরের ২৪ জানুয়ারি  নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার বিচার চলাকালে ডাক বিভাগের একজন মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও দুইজন চেয়ারম্যানসহ মোট১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। 

নাসির তামিমা খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ বাদী ও তার আইনজীবী ইসরাত হাসান জানিয়েছেন, রায়ের আদেশের পুর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তারা আপিলে যাবেন। 

আসামিদের অন্যতম আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত যথার্থই রায় দিয়েছেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষেরও আপিল করার আইনগত অধিকার রয়েছে। 

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
চট্টগ্রামে  ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ছবি: আসামি মনির হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।

এ সময় আসামি মনির হোসেন (৩০) উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন স্বাক্ষী রয়েছেন। প্রথম দিনের শুনানিতে বাদীসহ ৯ জন স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সবার আগে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাও মামলার বাদী মেহেদী হাসানের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় আটক আসামিকে পুলিশ থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় তাকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। 

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
সালমান শাহ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। 
তিনি বলেন, কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং পরে তাকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তার মামা মো. আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার স্ত্রী সামীরা হক এবং শিল্পপতি ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

এর আগে, আদালত অপমৃত্যুর মামলা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময়কার সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও নানা অসঙ্গতি নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন তৈরি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সালমান/

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

ডিভোর্স সম্পন্ন না করেই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, তাদেরকে খালাস প্রদান করেন। 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন রাকিব। আদালত মামলাটি তদন্ত করে  পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

রাকিবের অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

পরে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে  ১০ জন সাক্ষী আদালতে  সাক্ষ্য প্রদান করেন। 

রিফাত/

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
হাইকোর্ট

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন। এর পর গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

অমিয়/