ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু
Nagad desktop

সনির আলোকচিত্রে বিপন্ন প্রকৃতি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১০ পিএম
সনির আলোকচিত্রে বিপন্ন প্রকৃতি
শিল্পকলা একাডেমিতে আলোকচিত্র পরিদর্শন করেছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় বিপন্ন প্রকৃতি ও পরিবেশের ছবি তুলে বেড়াচ্ছেন আলোকচিত্রী সাংবাদিক সনি রামানি। এক দশক ধরে আলোকচিত্রে তিনি তুলে ধরছেন পুরান ঢাকাবাসীর স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় আর পরিবেশগত সংকট। তার তোলা সেসব ছবি নিয়ে শনিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার একটি গ্যালারিতে শুরু হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বিপন্ন প্রকৃতি ও পরিবেশ’। এটি তার প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। 

এই প্রদর্শনীতে ৬০টিরও বেশি আলোকচিত্র এবং পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে একটি ভিডিও ইনস্টলেশন প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীটি চারটি থিমে সাজানো হয়েছে। এগুলো হল ‘নীরব ঘাতক বায়ু দূষণ’, ‘জলাধারের মৃত্যু: নদী ও হ্রদের দূষণের ভয়াবহতা’, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা’, ‘হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ’। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।

আলোকচিত্র পরিদর্শন করছেন আনু মুহাম্মদ ও নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির। ছবি: খবরের কাগজ

সনি রামানি বলেন, ‘একজন ফটোসাংবাদিক হিসেবে আমি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপট নথিভুক্ত করেছি এবং ঢাকায় দূষণ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ভয়াবহ প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছি। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমি এই গুরুতর ইস্যুগুলোকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই, যাতে টেকসই নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ নীতিমালা নিয়ে সচেতনতা ও সংলাপ সৃষ্টি হয়।’

জয়ন্ত সাহা/মাহফুজ

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই
ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক, এনটিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ বাদ জোহর ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। 

ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ফেনীর জনপদে সাংবাদিকতা করেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। 

তোফায়েল আহাম্মদ/খাদিজা রুমি/

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাত সাংবাদিক। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাত সাংবাদিক।
 
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্সরুমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
 
প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। 
 
টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন।
 
অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।
 
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
 
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে অবদান রাখা সাংবাদিকদের সম্মাননা জানাতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করেছে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ।
 
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন বিভাগে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা সাত সাংবাদিককে নির্বাচিত করা হয়।
 
জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বম্বে সুইটস এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
 
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষি-শিল্পের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ গ্রুপকে ধন্যবাদ এ উদ্যোগের জন্য। এ ধরনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা। দেশের জিডিপি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষির অবদান উল্লেখযোগ্য”।
 
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদেরও কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি-শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব প্রতিবেদন সংকলন করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে সুপারিশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাংবাদিকদের নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
 
অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। কৃষি নির্ভরশীল দেশে এ খাত সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে ও পোশাক শিল্পের পর রপ্তানিতে বড় খাত হয়ে উঠতে পারে।
 
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদানের লক্ষ্য সাংবাদিকদের বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা। আমাদের আসিয়ানভুক্ত দেশ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি নিয়ে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে।”
 
তিনি আরও বলেন, “কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের সাংবাদিকদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। সাংবাদিকরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তাদের লেখনি সবসময় আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের উপর প্রতিবেদনে যেমন কৃষক উপকৃত হন, তেমনি দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাজারজাতকরণে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করা হলে এ খাত উপকৃত হবে।” ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
 
আমান/

হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম
দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ শাহরিয়ারের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা তাকে হাতুড়িপেটা করে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে দিয়েছে এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করেছে।

বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামের সজিব ও ইসরাবের চায়ের দোকানের সামনে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকের ভাই সেলিম জানান, বুধবার রাতে তার ভাই সবুজ শাহরিয়ার বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বেলতলা গ্রামের সজিব ও ইসরাবের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে বাবু চেয়ারম্যানের ক্যাডার রকি, সুজন, সার্জন ও সোহেলসহ ৭/৮ জন সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার একটি হাত ও পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১১টার দিকে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) জাহিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

একজন সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সহকর্মীরা অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন বা কোনো সংবাদের জের ধরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আহত সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ারের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছেন।

মাহফুজুর রহমান/নাঈম

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ
সম্পাদক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল বা এনইসি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২জুন) দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরা এই কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর।

বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র ভেঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। 

গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়ে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর এ সুপারিশ জানালো সংগঠনটি। 

সিপিজে এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রায়শই প্রতিটি নতুন সরকারের জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনকে ব্যবহার করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ১০০ দিন পরও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি সীমিত। 

তিনি আরও বলেন, ‘কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার কাজ শুরু করতে পারে। 

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা, সাংবাদিকদের মব ভায়োলেন্স থেকে রক্ষা করা, কুৎসা রটানো বন্ধ করা এবং যে আইনগুলোর কারণে এসব সম্ভব হচ্ছে তা সংশোধন করা প্রয়োজন।’

সিপিজে বলেছে, প্রত্যেকবার ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সাংবাদিকদের আটক, বিচার, নজরদারি, আক্রমণ এবং হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে, যার বড় কারণ ছিল সদ্য পতন হওয়া সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্য। 

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সিপিজে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ১০টি প্রধান পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে। 

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার বন্ধ করা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মব ভায়োলেন্স থেকে সাংবাদিক ও নিউজরুম রক্ষা করা, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাইবার ক্রাইম মামলা খারিজ করা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ সংস্কার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার বন্ধ করা, খসড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের নীরব করতে ব্যবহৃত পুরোনো আইন এবং নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন, অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং হেয়প্রতিপন্ন করা বন্ধ করা।

তামান্না রুপা/